• শিরোনাম

    কয়েকজনের উপজেলায় প্রার্থী হতে তদবির

    আত্মসমর্পণ না করা ইয়াবা গডফাদাররা প্রকাশ্যে

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১:২৭ পূর্বাহ্ণ

    আত্মসমর্পণ না করা ইয়াবা গডফাদাররা প্রকাশ্যে

    আত্মসমর্পণের কোন চিন্তা নেই প্রভাবশালী ইয়াবা গডফাদারদের। সরকারের উপর মহলের সঙ্গে সখ্যতা থাকায় তাদের গ্রেফতারেরও সম্ভাবনা নেই। এখন টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে । পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। শঙ্কাহীনভাবে ঘুরে বেড়ালেও তালিকাভুক্ত এসব গডফাদারের ব্যাপারে প্রশাসনসহ আইনÑশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরব ভূমিকায়।
    ১০২ জর মাঝারি মানের ইয়াবা গডফাদার আর পাচারকারী পুলিশের জালে ধরা দিয়ে এখন কারাগারে। কিন্তু আসল গডফাদারদের স্পর্শ করা যাচ্ছে না। ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে অনুষ্ঠিত ইয়াবা পাচারকারীদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়েছিলেন কয়েকজন। তবুও প্রশাসনের কোন স্তর থেকেই তাদের আইনের আওতায় আনার হচ্ছে না। নেয়া হচ্ছে না তাদের ব্যাপারে কার্যকর কোন পদক্ষেপ।
    বর্তমান সময়ে দেশের আলোচিত ইয়াবা গডফাদাররা হচ্ছে, উখিয়া-টেকনাফ (কক্সবাজার-৪) আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য আবদুর রহমান বদি, টেকনাফের হাজি সাইফুল করিম, টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, তাঁর ছেলে ও টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজাহান মিয়া, ও তার ভাই ইলিয়াছ, উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক এক সংসদ-সদস্যের দুই পুত্র টেকনাফ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভি রফিক, টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও টেকনাফ সদর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান নাজির পাড়ায়, টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও এমপি বদির ভাই মৌলভি মুজিবুর রহমান, বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভি আজিজুর রহমান। অতি সম্প্রতি করা ৭৩ ইয়াবা গডফাদারদের তালিকায় উপরের সারিতে রয়েছে তাদের নাম।
    উল্লিখিত ইয়াবা গডফাদার ও তাদের দোসররা ইতোমধ্যে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। নামে-বেনামে টেকনাফ, কক্সবাজার শহর, চট্টগ্রাম, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাবর সম্পত্তি কিনেছেন তারা। সবাই ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক ব্যানারে থাকায় প্রশাসন তাদের ব্যাপারে নিরব থাকে। ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে অনুষ্ঠিত ইয়াবা পাচারকারীদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানেও তাদের কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই আড়াল থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশর আইজিপি’র বক্তব্য শুনেন। বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারি তাঁর বক্তব্যে হুংকারের সুরে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলেন।
    ইয়াবা গডফাদারদের মধ্যে কয়েকজন আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করতে চায়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক তারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন টেকনাফ উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, টেকনাফ সদর ইউপির সাবেক এক চেয়ারম্যান, টেকনাফ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভী রফিক। দীর্ঘদিন ধরে দুই বেয়াই অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী এবং জাফর আহমদের মধ্যে বিরোধ চলেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁরা একজোট হয়েছেন। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই (এরপর পৃষ্ঠা-২ ঃ কলাম- ৩ )
    গডফাদাররা প্রকাশ্যে
    তাঁরা জোটবদ্ধ হয়েছেন বলে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানিয়েছেন, টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ এখন ইয়াবা পাচারকারীদের কবলে। দীর্ঘদিন সাবেক সংসদ-সদস্য আবদুর রহমান বদির নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলেও জাফর আহমদের বদৌলতে এখন বদির হাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নিয়ন্ত্রণ। আত্মসমর্পণের কোন প্রভাব আসল ইয়াবা গডফাদারদের উপর পড়েনি বলেও জানান তিনি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ