• শিরোনাম

    আত্মস্বীকৃত ৯৭ ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে বিচার কার্য শুরু, জামিন না মঞ্জুর

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

    আত্মস্বীকৃত ৯৭ ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে বিচার কার্য শুরু, জামিন না মঞ্জুর

    কক্সবাজারে আত্মস্বীকৃত ৯৭ জন ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে বিচার কার্য শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রæয়ারী) দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে (এসপিটি মামলা নং-৩৫৪/২০) শুনানি শেষে চার্জ গঠন করেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল। এই মামলার ১০২ জন আসামির মধ্যে এক আসামী কারাগারে অসুস্থ্য হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। অপর চার আসামী অসুস্থতাজনিত কারণে উপস্থিত হন নি। এছাড়া কয়েকজন আসামী জামিনের আবেদন জানালেও আদালত তা না মঞ্জুর করেন।
    আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)এডভোকেট ফরিদুল আলম।
    এডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, এডভোকেট মঈনউদ্দিন ও এডভোকেট সেলিম সহ প্রায় ৩০ জন এডভোকেট আসামিপক্ষে ছিলেন।
    পিপি এডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, ২০১৮ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১), ১০(গ) ৪০/৪১ ধারায় ৯৭ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। একই আসামিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র আইনে আরেক মামলা (এসপিটি মামলা নং -৭৩/২০) আগামী ১২ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ ও অস্ত্র মামলাটির অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়েছে। দশ জন মতো আসামী জামিনের আবেদন জানালেও আদালত তা মঞ্জুর করেন বলে জানান তিনি।

    যাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে সেই ৯৭ জন ইয়াবা কারবারী হলেন – সাবরাং ইউনিয়নের মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে দানু মেম্বার, শাহপরীর দ্বীপের রেজাউল করিম মেম্বার, সামশু মেম্বার, সাহেদ রহমান নিপু, সাহেদ কামাল, নুরুল আমিন, আলী আহমদ, মৌলভী বশির, হোসেন আহমদ, শওকত আলম, আলীর ডেইলের জাফর আহমদ, ডেইল পাড়ার নুরুল আমিন, মুÐার ডেইলয়ের মনজুর, আবদুল হামিদ, শামীম, দক্ষিণ নয়াপাড়ার নূর মোহাম্মদ, আলমগীর ফয়সাল, ডেইল পাড়ার মো. সাকের মিয়া, নয়াপাড়ার মো. তৈয়ব, টেকনাফ পৌর এলাকা ও সদর ইউনিয়নের আবদু শুক্কুর, আমিনুর রহমান ওরফে আবদুল আমিন, দিদার মিয়া, আবদুল আমিন, নুরুল আমিন, শফিকুল ইসলাম সফিক, ফয়সাল রহমান, আবদুর রহমান, জিয়াউর রহমান, পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর ওরফে নুরশাদ, দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার ইমাম হোসেন, বড় হাবিব পাড়ার ছিদ্দিক, পুরনো পল্লানপাড়ার শাহ আলম, অলিয়াবাদের মারুফ বিন খলিল, মৌলভী পাড়ার একরাম হোসেন, মধ্যম ডেইল পাড়ার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, চৌধুরী পাড়ার মংমং ছেং ওরফে মমচি ও দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার জুবাইর হোসেন, মধ্যম জালিয়া পাড়ার মোজাম্মেল হক, ডেইল পাড়ার আবদুল আমিন, নাজির পাড়ার এনামুল হক মেম্বার, ভুট্টোর ভাগিনা আফসার, আবদুর রহমান, সৈয়দ হোসেন, মো. রফিক, মো. হেলাল, জামাল হোসেন, নাইটং পাড়ার মো. ইউনুস, উত্তর লম্বরীর আবদুল করিম ওরফে করিম মাঝি, সদর কচুবনিয়ার বদিউর রহমান, রাজার ছড়ার আবদুল কুদ্দুস, জাহালিয়া পাড়ার মো. সিরাজ, নতুন পল্লানপাড়ার মো. সেলিম, নাইট্যং পাড়ার মো. রহিম উল্লাহ, চৌধুরী পাড়ার মোহাম্মদ আলম, তুলাতলীর নুরুল বশর, হাতিয়ার ঘোনার দিল মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হাছন, রাজার ছড়ার হোসেন আলী, উত্তর জালিয়াপাড়ার নুরুল বশর মিজি, আবদুল গনি, জালিয়া পাড়ার মো. হাশেম, নাইট্যংপাড়ার আইয়ুব, মাঠপাড়ার কামাল, শিলবনিয়াপাড়ার আইয়ুব, জালিয়াপাড়ার আলম, নুরুল আলম, বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজ পুরার নুরুল আলম, শামলাপুর জুমপাড়ার শফি উল্লাহ, ছৈয়দ আলম, উত্তর শীলখালীর মো. আবু ছৈয়দ, হ্নীলা ইউনিয়নের হ্নীলা পশ্চিম লেদার নুরুল হুদা মেম্বার, আলী খালীর জামাল মেম্বার, শাহ আজম, পশ্চিম সিকদারপাড়ার ছৈয়দ আহমদ, রশিদ আহমদ, পশ্চিম লেদার নুরুল কবীর, পূর্ব লেদার জাহাঙ্গীর আলম, জাদিমোরার মোহাম্মদ হাসান আবদুল্লাহ, লেদার ফরিদ আলম, মো. হোছন, জহুর আলম, আবু তাহের, বোরহান, হামিদ, রবিউল আলম, আলীখালীর হারুন, হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার মাহাবুব, বাজারপাড়ার মো. শাহ, পূর্ব পানখালীর নজরুল ইসলাম, পশ্চিম পানখালীর নুরুল আবছার, ফুলের ডেইলের রুস্তম আলী, আলী নেওয়াজ, আবু তৈয়ব ও রমজান ও কক্সবাজারের শাহজাহান আনসারী।

    অপরদিকে ৪জন আসামী অসুস্থতাজনিত কারণে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
    আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন- বদির চার ভাইসহ আট স্বজন। ভাইদের মধ্যে রয়েছেন- আবদুস শুক্কুর, আমিনুর রহমান, মো. ফয়সাল রহমান ও শফিকুল ইসলাম। এছাড়া বদির ভাগিনা সাহেদ রহমান নিপু, ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেল, খালাতো ভাই মংমং সেন ও শাহেদ কামাল রয়েছেন।
    আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সাত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। তারা হলেন- টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়নের জামাল হোসেন, নুরুল হুদা মেম্বার, সাবরাং ইউপির শামসুল আলম, মোয়াজ্জেম হোসেন দানু, রেজাউল করিম রেজু, সদর ইউপি মেম্বার এনামুল হক, পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর ওরফে নুরশাদ, উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের ছেলে দিদার মিয়া।

    ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রæয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেছিলেন।
    অনুষ্ঠানে তারা সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা, ৩০টি দেশে তৈরি বন্দুক এবং ৭০টি গুলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দেন। অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথে স্বাগত জানানো হয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ