বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

আমরা বেঁচে গেছি সেই নারীর জন্য : মুমিনুল

দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক   |   শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

আমরা বেঁচে গেছি সেই নারীর জন্য : মুমিনুল

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের যে মসজিদে গতকাল সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল, সে ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ দল নিরাপদে ক্রাইস্টচার্চের হোটেলে ফিরতে পারলেও হামলায় দুজন বাংলাদেশিসহ অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পাঁচ মিনিট আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যদি ওই মসজিদে প্রবেশ করতো তাহলে হয়ত ঘটে যেত বড় দুর্ঘটনা। ঘটনা জানতে পেরে দ্রুত হোটেলে ফেরেন মুশফিক-তামিমরা। বাসের মধ্যে দলের অনেকেই অঝোরে কেঁদেছেন। বাসে থাকা ক্রিকেটার মুমিনুল হক তখনকার ভয়ানক সেই পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন সংবাদমাধ্যমকে।

ক্রিকেটার মুমিনুল হকের বর্ণনা—

‘আমরা মধ্যাহ্নভোজ সেরে বের হয়েছিলাম। অনুশীলন ছিল ২টায়। দেড়টায় যাওয়ার কথা ছিল। (মাহমুদউল্লাহ) রিয়াদ ভাইয়ের সংবাদ সম্মেলনের জন্য একটু দেরি হয়েছে। মিনিট দশেক পর বের হয়েছি। মুশফিক ভাই, তাইজুল ও আমি মাঝে-মাঝে ড্রেসিং রুমে ফুটবল খেলি নিজেদের মধ্যে। এতে আরও দুই-এক মিনিট দেরি হয়েছে। মসজিদে পৌঁছানোর পর দেখি সবাই পড়ে আছে। ফোনে ব্যস্ত এক নারী বের হয়ে এসে ভেতরে যেতে নিষেধ করলেন। গাড়ি থেকে আরেক নারী চিৎকার করে একই কথা বললেন, ভেতরে যেও না, কে যেন গুলি করছে। আমরা তখনই বুঝে ফেলি কেমন পরিস্থিতি।’

‘আমরা বাসের মধ্যে পাঁচ-দশ মিনিট বসে ছিলাম। তখন পাইলট ভাই (ম্যানেজার) ফোনে কার সঙ্গে যেন কথা বলছিলেন। পেছন থেকে তামিম ভাই এলেন, আমরা বাসের ড্রাইভারকে জানালা খুলতে বলি। দেখলাম বেশ কিছু লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমরা বাসের পেছনের দরজা খুলে পার্কের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলে আসি। আমরা পাঁচ মিনিট আগে মসজিদে পৌঁছালে ভেতরে থাকতাম এবং সবাই শেষ হয়ে যেতাম। পরম করুণাময়ের অশেষ রহমত যে পাঁচ মিনিট দেরিতে পৌঁছেছি।’

‘মসজিদে গেলে আমরা পেছনের দিকেই বসতাম এবং সে আমাদের কাউকে জীবিত রাখত না। কোনো বাছবিচার ছাড়াই টানা গুলি করেছে। আমরা এত ভয় পেয়েছি যে বাসের মধ্যেই কেঁদেছি। এই ঘটনার মধ্যে আমরা বাস পেছাতে বলেছি ড্রাইভারকে। কিন্তু ড্রাইভার বলেছে তা সম্ভব না, এ ধরনের কোনো নির্দেশ নেই। আমি মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে সম্ভবত দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সারিতে ছিলাম। বাস থেকে দেখেছি, মসজিদ থেকে সবাই বের হয়ে আসছেন এবং মেঝেতে পড়ে যাচ্ছেন। তাদের শরীর ছিল রক্তমাখা। এর আগে ক্রাইস্টচার্চে থাকতে আমরা এই মসজিদেই নামাজ পড়েছি।’

‘কাল রিয়াদ ভাই জানতে চেয়েছিলেন, নামাজ পড়ে খাব, নাকি খেয়ে নামাজ পড়তে যাব? আমরা সিদ্ধান্ত নিই অনুশীলন যেহেতু জুমার পর, তাই নামাজ পড়ে এসেই খাব। কিন্তু কোনোভাবে সিদ্ধান্তটা পাল্টে যায়, আমরা খেয়ে মসজিদে গিয়েছি এবং এ কারণেই হয়তো বেঁচে যাই। আমরা কী পরিমাণ ভীত ছিলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। নিজের চোখে এসব দেখতে কেমন লাগে, তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।’

‘শুধু ভীত হয়ে পড়ার জন্যই আমরা কেঁদেছি। আসলে আমরা বেঁচে গেছি গাড়ির ভেতরে থাকা সেই নারীর জন্য, যিনি আমাদের মসজিদের ভেতরে যেতে নিষেধ করেছিলেন। প্রথম নারী বলার পর আমরা ভেবেছি তিনি অসুস্থ। কারণ নিউজিল্যান্ডে এমন কিছু ঘটতে পারে, আমাদের বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু গাড়ির নারী জানালা দিয়ে সাবধান করে দেওয়ার সঙ্গে জানান, তার গাড়িতেও বুলেট লেগেছে, ঠিক তখনই আমরা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরেছি।’

Comments

comments

Posted ১০:১০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com