বুধবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

* খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভবন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী *মুজিব বর্ষে একটি মানুষও ঘরছাড়া থাকবে না

‘ আমি খুরুশকুল যাব-শুঁটকি ভর্তা খাব ’

দেশবিদেশ রিপোর্ট   |   শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২০

‘ আমি খুরুশকুল যাব-শুঁটকি ভর্তা খাব ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- ‘ আমি খুরুশকুল যাব, শুঁটকি ভর্তা দিয়ে ভাত খাব।’ জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য নির্মিত কক্সবাজারের খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্টান উপলক্ষে গতকাল বৃহষ্পতিবার সকালে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে তিনি সর্বশেষে এ কথাটি বলেন। এমনকি অনুষ্টানটির শেষ বাক্যই ছিল প্রধানমন্ত্রীর এটি। প্রধানমন্ত্রীর একথা শুনে কক্সবাজারের খুরুশকুল প্রান্তের অনুষ্টানস্থলের দর্শক-শ্রোতারা হাততালি দিয়ে তাঁর ঘোষণাকে স্বাগত জানান।
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদী তীরের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য নির্মিত বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০ টি বহুতল বিশিষ্ট ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন-‘দেশের একটি মানুষও ঘরছাড়া থাকবে না, মুজিব বর্ষে এটা হলো আমাদের প্রতিশ্রæতি। আজ ৬০০ উদ্বাস্তু পরিবারকে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করা হলো। বাকি যারা আছেন তারাও পর্যায়ক্রমে ফ্ল্যাট পাবেন।’
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে খুরুশকুলের চেহারা বদলে যাবে। এখানে স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা, গির্জা ও প্যাগোডা গড়ে উঠবে। তিনি উপকারভোগিদের উদ্দেশ্যে বলেন- যে ঘরবাড়িগুলো করে দিলাম সেগুলো যতœ করে রাখবেন। এ ফ্ল্যাটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। পরিবেশ বজায় রাখবেন। পর্যাপ্ত গাছ লাগাবেন। এখানে পুকুর কাটা হয়েছে। সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়ি করা হয়েছে। এছাড়া এখানে যারা বসবাস করবেন তারা অধিকাংশই মৎস্যজীবী। তারা যেন মাছ ধরে শুটকি করতে পারে এবং এখানে যেন শুটকির বিশাল একটি বাজার গড়ে ওঠে সে ব্যবস্থা আমরা করব। এখানে এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য করা হবে যেন পর্যটকরা ওই এলাকায় আসে এবং শুটকি কিনতে পারে।
দেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে বর্তমানে বন্যা চলছে। যে বন্যা শুরু হয়েছে তা আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বন্যা মোকাবিলা করার প্রস্তুতি আমাদের আছে।
উদ্বোধন শেষে জলবায়ু উদ্ভাস্তু ৬০০ পরিবারে ১০০১ টাকা নামমাত্র মূল্যে এসব ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্ভোধনী অনুষ্টানে গণভবন প্রান্তে শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাখেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।
অপরদিকে কক্সবাজারের খুরুশকুল প্রান্তে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় প্রকল্পের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং এরিয়া কমান্ডার মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বক্তৃতা করেন। খুরুশকুল প্রান্তের অনুষ্টানে কক্সবাজারের আঞ্চলিক গানের শিল্পী বুলবুল আকতার ‘যদি সুন্দর এক্খান মুখ পাইতাম-মহেশখালীর পানের খিলি তারে বানাই হাবাইতাম’ গানটি গেয়ে শুনান।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় এমপি যথাক্রমে জাফর আলম, আশেক উল্লাহ রফিক, সাইমুম সরওয়ার কমল ও কানিজ ফাতেমা আহমদ এমপি, প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মাহবুব হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আযাদ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লেঃ কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ, কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী ও পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, সাবেক এমপি এথিন রাখাইন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, খুরুশকুল ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনসহ প্রশাসন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার সফরে এসে বিমান বন্দর সম্প্রসারণের সাথে জলবায়ু উদ¦াস্তুদের পূণর্বাসনের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন। কক্সবাজার বিমান বন্দর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সংলগ্ন ৬৮২ একর খাস জমি বিমান বন্দরের জন্য বরাদ্দ সহকারে খতিয়ান চুড়ান্ত করা হয়। এ পরিমাণ জমিতে অবৈধভাবে বসবাসরত ৪ হাজার ৪০৯ পরিবারের লোকজনকে পুনর্বাসন করার জন্য বাঁকখালী নদী তীরের খুরুশকুলের ২৫৩.৩৫ একর জমিতে তৈরি করা হচ্ছে আশ্রায়ন প্রকল্প। এসব জলবায়ু উদ্বাস্তু লোকজন ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরি ঘূর্ণিঝড়ে কুতুবদিয়া, মহেশখালী সহ নানা স্থানে বসতি হারিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী তীরের প্রাকৃতিক পরিবেশে ২০১৫ সালে শুরু হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পটির ভরাটের কাজ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের মোট ২৫৩ একর জমিতে পাঁচতলা বিশিষ্ট ১৩৯ টি ভবনে পুনর্বাসন করা হচ্ছে ৪৪০৯ টি পরিবার। ২০২৩ সালে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। গত ১৪ জুলাই লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ১৯ টি পরিবারকে গতকালের অনুষ্ঠানে চাবি হস্তান্তর করা হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমিকভাবে ৬০০ পরিবারকে তাদের আবাসন বুঝিয়ে দেয়া হবে।
আশ্রয়ন প্রকল্পের নবনির্মিত ভবনগুলোর নামকরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে। তিনি অনুষ্টানে একথা স্মরণও করিয়ে দেন। প্রথম ধাপে নির্মিত ভবনগুলোর নাম হলো-দোঁলনচাপা, কেওড়া, রজনীগন্ধা, গন্ধরাজ, হাসনাহেনা, কামিনী, গুলমোহর, গোলাপ, সোনালী, নীলাম্বরী, ঝিনুক, কোরাল, মুক্তা, প্রবাল, সোপান, মনখালী, শনখালী, বাঁকখালী, ইনানী ও সাম্পান।
গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসনের জন্য ১৯৯৭ সালে ‘আশ্রয়ণ’ নামে প্রথম প্রকল্প গ্রহণ করেন তৎকালীন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসলে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প শুরু হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি পরিবার ঘর পেয়েছে।
অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পাকা ও আধাপাকা দালানের ব্যারাক আকারে তৈরি হলেও বহুতল ভবনের আশ্রয়ণ প্রকল্প এটিই প্রথম। প্রকল্পের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং এরিয়া কমান্ডার মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এটি অত্যন্ত নয়নাভিরাম একটি জায়গা। এ জায়গাটিকে সুরক্ষিত করার জন্য মাটিকে অনেক উঁচু করা হয়েছে। প্রতিটি ভবনের নিচের তলায় কোনো ফ্ল্যাট রাখা হয়নি। ফলে ঘূর্ণিঝড় হলে জলোচ্ছ¡াসের পানি ঢোকারও আশঙ্কা নেই। ####

Comments

comments

Posted ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২০

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com