• শিরোনাম

    আল বিদাহ মাহে রমজান

    মুফতি সোলাইমান কাসেমী | ১২ জুন ২০১৮ | ৬:২৩ অপরাহ্ণ

    আল বিদাহ মাহে রমজান

    আজ ২৭ রমজানুল মোবারক, গত রাতটি ফিলি শবে কদর হওয়ার সর্বাপেক্ষা বেশী সম্ভাবনাময় রাত। রাসূল (সাঃ) বলেছেন- তোমরা রমজানের শেষ দশ দিনের মধ্যে শবে কদর তালাশ কর। জমহুর উলাময়ে কেরামের মতে রমজানের শেষ দশকের যে কোন বিজোড় রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা । এর আলোকে ২০ রমজান দিবাগত রাত থেকে অর্থ্যৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের পূর্ববর্তী রাতগুলোতেই শবে কদর সন্ধান করতে হবে। তবে উম্মতের উলামা ও আধ্যত্মিক মনিষীগণ অভিজ্ঞাতর আলোকে ২৭ রমজানুল মোবারকের রাতকেই শবে ক্বদরের অধিক সম্ভাবনাময় রাত বলে উল্লেখ করেন। অবশ্য নিয়মিত আমলকারীরা ২১ থেকৈ ২৯ রমজান পর্যন্ত প্রতিটি বিজোড় রাতেই শবে কদরের সম্ভবনাপূর্ণ রজনী ধরে নিয়ে ইবাদতে নিমগ্ন থেকে কাটান, পবিত্র শবে কদর আরবী ভাষায় লাইলাতুল কদর, আল কোরানে আল্লাহ তায়ালা এ রাতটি সর্ম্পকে বলেছেন, আমি এই কোরান কদরের রাতে অবতীর্ন করেীছ। আপনি কি জানেন মুহাম্মদ (সাঃ) কদরের রাত কি? কদরের রাত তো হাজার সাসের চেয়েও উত্তম।

    এ রাতে জিব্রাইলের নেত্বত্বে ফেরেস্তারা তাদের প্রভুর আজ্ঞা নিয়ে পৃথিবীতে অবর্তীণ হন। প্রতিটি বিষয় ও পর্যায়ে তারা শান্তির বার্তা পৌছে দেয়, রাত ভোর হয়ে যাওয়া পর্যন্ত, সূরা আল-কদর হাজার মাস বলতে এখানে অনেক দীর্ঘ সময় বুঝানো হয়েছে। আরবী ভাষায় এমন ব্যবহার পাওয়া যায়। অবশ্য আক্ষরিক অর্থই হাজার মাস ধরে নেয়াই উত্তম। এতে ৯০ বছরের কিছু বেশি সময় হয়। একজন ইমানদার ব্যক্তি যদি শবে কদর পেয়ে যায় এবং এ সময় সে পরম আন্তরিকতা আর গভীর অভিন্তবেশ সহ আল্লাহর স্মরণ ও উপাসনা করে তাহলে এক রাতেই সে আশি বছরের সমান ইবাদতের মর্যাদা পেতে পারে এটাই শবে কদর দান করার মূল প্রেরণা। আল্লাহ রাসূল (সাঃ) ও সাহাবীদের ভাষ্য থেকে পাওয়া যায় পূর্ববর্তী যুগে মানুষ দীর্ঘ জীবন লাভ করত। হাজার থেকে শুরু করে শত শত বছর তারা পৃথিবীতে বসবাস করত। বর্তমানে মানুষের আয়ু স্বল্প। অথচ ইবাদত বন্দেগী করে উচ্চ মর্যাদা লাভের স্পৃহা এদের বেশী। এ সমস্যা সমাধানের জন্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে শবে ক্বদর দান করা হয়েছে। শবে ক্বদরের নির্দিষ্ট দিন তারিখ ও আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল বলে বর্ণনায় পাওয়া যায়।

    এ নির্দেশনা সাহবীদের জানানোর জন্য ঘর থেকে বের হয়ে ছিলেন নবী করিম (সাঃ)। এ সময় দু ব্যক্তির মাঝে তুমূল ঝগড়া চলছিল। এ অস্থিরতার প্রতিক্রিয়ায় হযরত নবী করিম (সাঃ) এর মন থেকে বিষয়টি বিস্তৃত হয়ে পড়ে। নবীজি (সাঃ) বলেন তোমাদের পরস্পরের বিদ্বেষ ও ঝগড়ার ফলে আমার অন্তর থেকে শবে ক্বদরের তারিখ তুলে নেওয়া হয়। এক সময় গোটা রমজানটা জুড়েই শবে ক্বদরের সম্ভাবনা ছিল। তখন প্রতি বছর মহানবী (সাঃ) গোটা রমজান ব্যাপী ইতেকাফ বা মসজিদে অবস্থান গ্রহণ করে ইবাদত বন্দেগী করতেন। জীবনের শেষ দিকে তার সামনে স্পষ্ট করে দেয়া হয় যে, রমজানের শেষ দশ দিনে এটি রয়েছে। তখন তিনি রমজানের শেষ দশ দিনই মসজিদে ইতেকাফ করেছেন। ইতেকাফ করা গুরুত্বপূর্ণ সূন্নত। রমজানের শেষ দশকের যে কোন বিজোড় রাতে বিশেষ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করার মাধ্যমে ইতেকাফ না বসেও শবে ক্বদর লাভের চেষ্টা করা যায়। মহিলারা নিজ গৃহে ইতেকাফ করতে পারেন। পুরুষদের মসজিদে ইতেকাফ করতে হয়। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে আমল করার তৌফিক দিন আমিন।
    পেশ ইমাম, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, কক্সবাজার।

    Comments

    comments

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ