• শিরোনাম

    ১৩ কিঃমিঃ বাঁধ মেরামতের জন্য ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ৯২কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও গত এক বছরে ১০% কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার

    আসছে জোয়ার-অরক্ষিত ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ কুতুবদিয়ায়

    লিটন কুতুবী, কুতুবদিয়া | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১:২৭ পূর্বাহ্ণ

    আসছে জোয়ার-অরক্ষিত ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ কুতুবদিয়ায়

    ৪০কিলোমিটার বাঁেধর মধ্যে ২০কিলোমিটার বাঁধ অরক্ষিত, কয়েক হাজার একর ফসলি জমি অনাবাদি, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ মারাতœক ঝুঁিকপূর্ণ ১৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও গত এক বছরে ১০% কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ। বিগত ৭ বছর ধরে ঝুকিঁতে বসবাস করছে লক্ষাধিক মানুষ।
    বড়ঘোপ ইউপির চেয়ারম্যান এড্ ফরিদুল ইসলাম চৌধূরী বলেন, “আসছে জোয়ার ভাসছে মানুষ”জোয়ারের সময় ঘরের আঙিনাসহ পুকুর ঘরভিটি তলিয়ে যায়। এসব এলাকার লোকজনের এমন অর্থ ভিত্ত নেই যে অন্যত্রে গিয়ে মাথা গোজানোর ঠাই করার মতো। অমাবস্যা আর পূর্ণিমার জোয়ারে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে ঐ সপ্তাহে ঘরে থাকা যায় না। জোয়ার ভাটার কারণে এসব গ্রামগুলোর মানুষ পানি আর বায়ুবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়তই। চলতি বর্ষা মৌসুমে কয়েক হাজার একর ফসলি জমিতে চাষাবাদের আশা ছেড়ে দিয়েছে কৃষকেরা।
    কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধূরী জানান, বিগত ২০১২ সনে ঘূর্ণিঝড় আয়লা ও তার পরবর্তী ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু,মোরার আঘাতে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূলের কাইছারপাড়া, নয়াকাটা, ্রপশ্চিম চরধুরুং, পূর্ব চরধুরুং, পূর্ব তারলেররচর,আনিচের ডেইল,এলাকায় প্রায় ১৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকায় ঐসব গ্রামের ওপর জোয়ার ভাটা বসার দৃশ্যটি চোখে পড়ে প্রতিনিয়তই।
    আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের পশ্চিম তবলরচর গ্রামের বিধবা মাজেদা খাতুন (৪৫) জানান, সে এক ছেলে চার কন্যার সন্তানের জননী। বিগত ৫ বছর পূর্বে ঘূর্ণিঝড়ে তার ভিটিঘর ভেঙ্গে যায়। ঘর ভিটি হারিয়ে পশ্চিম তাবলরচর বেড়িবাঁেধর তলায় ছোট একটি পলিথিন দিয়ে ঘর তৈরী করে বসবাস করছে।
    উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের আকবর বলী পাড়ার বিধবা জোহরা খাতুনের বেলায়ও একই দৃশ্য দেখা গেছে। বর্তমানে ঘরভিটি হারিয়ে আজম সড়কের পাশে মশারি টাঙিয়ে রাত্রি যাপন করছে।
    কুতুবদিয়া বাচাঁও আন্দোলনের সিনিয়র সদস্য এড্ আইয়ুব হোছাইন বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনের কক্সবাজার জেলার ৭১ পোল্ডার ১৩ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছর ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ঠিকাদারও নিয়োগ হয়েছে। কিন্তুু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গত এক বছরে মেরামতের ১০% কাজ সমাপ্ত করতে পানেনি। ভাঙ্গন বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ডুকে নতুনভাবে আরো ৭ কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে বর্তমানে ২০কিলোমিটারে গিয়ে ঠেকেছে।
    ঠিকাদার কর্তৃপক্ষের সাইট ম্যানেজার মনজুরুল আনোয়ারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আগামী শুস্ক মৌসুমে জুন মাসের (২০১৯) পূর্বে শতভাগ কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুুত রয়েছেন বলে দাবী করেন।
    কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউস বলেন, অনেক সময় দেখা যায় আইনশৃংখলা রক্ষার জন্য আকবরবলী পাড়া এলাকায় গেলে জোয়ার যখন লোকালয়ে চলে আসে তখন রাস্তাঘাট ডুবে যায়। পুলিশ তাদের টহল গাড়ি নিয়ে পরে আর উপজেলা সদরে ফিরে আসতে পারে না। কতক্ষণ পর্যন্ত জোয়ারের নোনা জল লোকালয়ে থেকে নেমে না যায়।
    উত্তর ধুরুং ইউপির চেয়ারম্যান আ,স,ম শাহরিয়ার চৌধুরী জানান, পাউবো কর্তৃপক্ষ চরধুরুং আকবরবলীপাড়া, ফয়জানিরবাপের পাড়া, সতরউদ্দিন, কাইছারপাড়া এলাকায় ০৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ার ভাটার কারণে কয়েক’শ একর ফসলি জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে না। বর্তমানে আকবরবলী পাড়া আর চরধুরুং এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার বাঁধ না থাকায় ঐ এলাকা দিয়ে জোয়ারের নোনা পানি ঢুকে শত শত একর ফসলি জমি প্লাবিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন তাদের জন্মস্থান রক্ষার জন্য এলাকা ভিত্তিক নিজ শ্রমে মাটি কেটে জোয়ার ঠেকানোর জন্য রিং বাঁধ দিলেও তা রক্ষা পাচ্ছে না।
    পানি উন্নয়ন বোর্ড কুতুবদিয়া উপজেলার শাখা কর্মকর্তা এলটন চাকমা সাথে ভাঙন রেড়িবাঁেধর ব্যাপারে কথা হলে তিনি জানান, গত বর্ষা মৌসুমে রিং বাঁধ দেয়ার জন্য পাউবো কর্তৃপক্ষ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় কুতুবদিয়া উপকূলের ১৪ কিলোমিটার বাঁধ সিসি ব্লক দ্বারা স্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামত করার জন্য ৯২ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। বার্তমানে নির্মাণ কাজ চলমান।
    কুতুবদিয়া উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর জানান, তাবলরচর, চরধুরুং, কাইছারপাড়া এলাকায় পাউবোর বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ার-ভাটার কারণে বিগত সাত বছর ধরে বর্ষা মৌসুমের সময় প্রায় হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকে। শুস্ক মৌসুমেও হাজার হাজার একর লবণ উৎপাদনের মাঠ অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকে। এসব এলাকার প্রান্তিক চাষীদের গেল সাত বছরে শত শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকার রাজস্ব হারিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। বর্তমানে প্রান্তিক চাষীদের পরিবারে চরম দূর্ভোগ নেমে এসেছে।
    আনিচের ডেইল গ্রামের বাসিন্দা কৃষক জামাল উদ্দিন জানান, বিগত চার বর্ষা আর চার শুস্ক মৌসুমে এ এলাকায় চাষাবাদ হয়নি। বেড়িবাঁধ না থাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমেও ফসলী জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে না। চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি।

    দেশবিদেশ /১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ