শনিবার ২৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

আড়াই হাজার রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা খোলা আকাশের নিচে 

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া   |   মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারি ২০২২

আড়াই হাজার রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা খোলা আকাশের নিচে 

কক্সবাজারের উখিয়ার শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডে  ঝুপড়ি  , লার্নিং সেন্টার, অফিস, মসজিদ, হেফজখান র্শিশু পার্কসহ ৬ শতাধিক স্থাপনা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।গতকাল রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার বিকাল পযর্ন্ত নিঃস হয়ে  খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন  দিনযাপন করছে  আড়াই হাজারের অধিক রোহিঙ্গা ও স্থানীয়। একে তো প্রচণ্ড শীত, তার ওপর বসতি হারিয়ে চরম কষ্টে পড়েছে এসব রোহিঙ্গা। তবে দ্রুত রোহিঙ্গাদের শেল্টার নির্মাণ করে দেওয়াসহ সমস্যা লাঘবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) শাহ রেজওয়ান হায়াত।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন। অতিরিক্ত প্রত্যাবাসন কমিশনারকে প্রধান করে গঠন করা কমিটিতে ৮ এবিপিএন, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ও সিআইসিকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর ক্ষতিগ্রস্ত বসতি ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার।
উখিয়ার শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি -ব্লকের আবদুল গাফফার স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন আগুনে পুড়ে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। এ পযন্ত কম্বল, পানি, বিস্কুট পেয়েছি।
তার আত্নীয় মোহাম্মদ রফিক বলেন গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে আগুনের সুত্রপাত হয। তাঁর ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বি -১ ব্লকের ইমাম হোসেনের স্ত্রী সাজিদা বেগম বলেন বিকালে আগুন লাগে। সন্ধ্যায় কম্বল, বিস্কুট ও পানি দেওয় হয়। বিকালে এনজিও সংস্হা কতৃর্ক তাবু দেওয়া  হয়। সূত্র জানায়, আগুন লাগার পর কোনো রকম পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় গিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন রোহিঙ্গারা। বসতি ছাঁই হবার পাশাপাশি পুড়ে গেছে কাপড় চোপড়, আসবাবপত্র কিংবা খাদ্যসামগ্রী। সকাল না হতে আত্মরক্ষার্থে যাওয়া রোহিঙ্গারা ফিরছেন সেই পুড়ে যাওয়া বসতিতে। পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া বসতিতে খুঁজে বেড়াচ্ছেন কিছু পাওয়া যায় কিনা। কিন্তু আগুনে কেড়ে নিয়েছে তাদের সব সম্বল। শুধু দাঁড়িয়ে আছে বসতির পিলারগুলো। সোমবার সেনাবাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তা, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিগণ পোড়া স্থান পরিদর্শন করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় শাহিনা আক্তার বলেন,”গতকাল বিকেলে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। মুহুর্তে চারিদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়লে প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খুঁজে ছুটে যায়। তৎমধ্যে নগদ টাকা,আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র,পাসপোর্ট সহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গতকাল থেকে সকাল পর্যন্ত কোনো সহায়তা পায়নি।”
ক্ষতিগ্রস্থ আরেক স্থানীয় সাবেকুন নাহার বলেন,”হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে বাচ্চাদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। ফ্রিজ, রাইচ কুকার সহ বাড়ির সব পুড়ে নিঃস্ব অবস্থায় আত্নীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।”
 ইউপি সদস্য মফিদুল আলম সিকদার বলেন,” আমার ওয়ার্ডের শফিউল্লাহকাটা ১৬নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত স্থানীয়দের ৮টি বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে আরও ৬টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে গতকাল থেকে শুকনা খাবার,কম্বল বিতরণ করা হয়।”
৮ নম্বর এপিবিএন এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার খান বলেন , শফিউল্লাহকাটা পুলিশ ক্যাম্প-১৬ এর আওতাধীন এফডিএমএন ক্যাম্প-১৬ এর ব্লকঃবি-১ এর রোহিঙ্গা ইলিয়াস মাঝি এবং আবুল সৈয়দ মাঝির ঘরে রান্না করার সময়  চুলার আগুন বেড়ায় লেগে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সাড়ে ৫টায় আগুন লাগার খবর পেয়ে উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া ও কক্সবাজার সদর হতে ৮টি ফায়ার ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। আগুনের লেলিহান শিখায় থাকার ঘর, ফায়ার ড্রাম, ওয়াটার ট্যাংক, কিচেন আইটেম, গ্যাস সিলিন্ডার, ফ্লোর ম্যাট, লার্নিং সেন্টার, শিশু পার্কসহ ৬০০ শতাধিক স্থাপনা পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। এতে আনুমানিক অর্ধশত কোটি টাকার অধিক পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, আগুনে ৫শতাধিক রোহিঙ্গা ও ডজনাধিক স্থানীয় বাসিন্দার ঘর পুড়েছে। আগুন না ছড়াতে বা নেবাতে গিয়ে ভাংচুর হয়েছে আনুমানিক শতাধিক ঘর। ব্লকঃবি-১, ব্লকঃবি-২, ব্লকঃবি-৩ ও সি-৩ ক্যাম্পে এঘরগুলো ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভুক্তভোগীদের ক্যাম্প-১৬-এর অন্তভুক্ত সকল- লার্নিং সেন্টার, মাদরাসা ও মক্তব, ওমেন ফ্রেন্ডলি স্পেস, আত্মীয়-স্বজন এবং পাশ্ববর্তী ক্যাম্পে রাতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের রাতে শুকনো খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেছে এনজিও সংস্থা ব্র্যাক, রিক। সকালে খাবার সরবরাহ দিয়েছে এনজিও সংস্থা এমএসআই।
ক্যাম্পে কাজ করা তুরস্কের টিকা এনজিও’র কো-অর্ডিনেটর মো. ফারুক জানিয়েছেন, তাদের পরিচালিত রোহিঙ্গা শরনার্থী শিশুদের জন্য স্থাপিত একমাত্র শিশু পার্ক, ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র, অফিস কক্ষ ও স্থাপনা পুড়ে যায়। পুড়ে যাওয়া বসতবাড়ী গুলো টিকা ও আফাদ এনজিও’র দেয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রোহিঙ্গা নিবাসের পাশাপাশি পুড়েছে স্থানীয় ডজনাধিক বসতিও। একে তো প্রচণ্ড শীত পড়ছে। তার ওপর বসতি হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় পরিবারগুলোর। শীতের কাপড়, খাদ্য ও পানি সংকটে চরম কষ্টে রয়েছেন তারা।
আইওএম এর ন্যাশনাল কমিউনিকেশন অফিসার তারেক মাহমুদ বলেন, কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তা ঠিক করার পর সমন্বয় করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে বলে উল্লেখ করেন তারেক।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শামছু দ্দৌজা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইউএনএইচসিআর-এর পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে তাবু। রাতের আশ্রয় তৈরির কাজ করছে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে।
উল্লেখ্য, রবিবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার আগে ৫টার  দিকে ৮ এপিবিএনের আওতাধীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৬ শফিউল্লাহ কাটা বি, সি ব্লকে আগুন লাগে। মুহুর্তে আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে আগুনে পুড়ে প্রায় ৬০০টি শেড।

Comments

comments

Posted ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারি ২০২২

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(411 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com