• শিরোনাম

    ইয়াবায় মৃত্যুদ- আইন সংসদে পাশ

    দেশবিদেশ ডেস্ক | ২২ অক্টোবর ২০১৮ | ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

    ইয়াবায় মৃত্যুদ- আইন সংসদে পাশ

    অ্যামফিটামিন বা ইয়াবা, শিশা, কোকেন, হেরোইন ও পেথিডিন জাতীয় মাদকের ব্যবহার, সেবন, বহন, আমদানি-রপ্তানি বা বাজারজাত করার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-Íএই বিধান রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল ২০১৮ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। আজ সোমবার সংসদের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিলটি উত্থাপন করেন।
    পরে বিলটি দুই দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত আইনের ৯ ধারায় বলা আছে, অ্যালকোহল ব্যতীত অন্যান্য মাদকদ্রব্যের উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহার হয় এমন কোনো দ্রব্য বা উদ্ভিদের চাষাবাদ, উৎপাদন, বহন, পরিবহন বা আমদানি-রপ্তানি, সরবরাহ, বিপণন, গুদামজাত, সেবন বা ব্যবহার, অর্থ বিনিয়োগ বা পৃষ্ঠপোষকতা করা যাবে না। বিলের ৩৬ ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি আইনের এই বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি সর্বোচ্চ মৃত্যুদ-ে বা যাবজ্জীবন কারাদ- ও অর্থদ-ে দ-িত হবেন।
    বিলের ১১ ধারায় বলা হয়েছে, অনুমতি (পারমিট) ব্যতীত কোনো ব্যক্তি অ্যালকোহল পান করতে পারবেন না। চিকিৎসার প্রয়োজনে সিভিল সার্জন বা সরকারি মেডিকেল কলেজের কমপক্ষে সহযোগী অধ্যাপকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত কোনো মুসলমানকে অ্যালকোহল পানের পারমিট দেওয়া যাবে না। তবে মুচি, মেথর, ডোম, চা শ্রমিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তাড়ি ও পঁচুই এবং পার্বত্য জেলা বা অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যগতভাবে তৈরি করা মদ পান করার ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
    ২৪ ধারায় বলা আছে, তদন্ত কর্মকর্তার যদি এই মর্মে সন্দেহ হয় যে, কোনো ব্যক্তি শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে মাদকদ্রব্য লুকিয়ে রেখেছেন। সেই ক্ষেত্রে ওই কর্মকর্তা সন্দেহজনক ব্যক্তির শরীরে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, অ্যান্ডোসকপি এবং রক্ত ও মলমূত্র পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
    ৩৩ ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি মাদকদ্রব্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থেকে অবৈধ অর্থ ও সম্পদ সংগ্রহে লিপ্ত রয়েছেন; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার এমন সন্দেহ হলে তিনি সন্দেহজনক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব বা আয়কর নথি পরীক্ষার প্রয়োজনে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
    বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও মাদকদ্রব্যের উপজাতের অপব্যবহার হচ্ছে। এ সব দ্রব্য কোনো কোনোটি জীবন বিধ্বংসী। ইয়াবার আগ্রাসন ভয়াবহভাবে বেড়েছে। ইয়াবা ব্যবসার জন্য শাস্তির মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন। ‘শিশা বার’-এর অনিয়ন্ত্রিত কর্মকা- সার্বিক আইনশৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া মাদক সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার আরও সম্প্রসারণ প্রয়োজন। মাদক ব্যবসায়ীর পাশাপাশি এই ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক ও অর্থলগ্নিকারীদেরও আইনের আওতায় আনা সময়ের দাবি। তাই মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে দেশের জনগণকে রক্ষা করতেই এই বিলটি আনা হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মাতারবাড়ী ঘিরে মহাবন্দর

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ