বুধবার ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ইয়াবা কারবারিদের অবৈধ অর্থ-সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নেওয়ার দাবী

দেশবিদেশ রিপোর্ট   |   সোমবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

ইয়াবা কারবারিদের অবৈধ অর্থ-সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নেওয়ার দাবী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষনার পর গত মে মাস হতে দেশব্যাপী একযোগে মাদক বিরোধী সাঁড়াশী অভিযান শুরু করে আইনশৃংখলা বাহিনী। এতে সারাদেশে এ পর্যন্ত চারশর বেশী লোক মাদক ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আইন শৃংখলা বাহিনী অথবা নিজেদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ইয়াবার প্রবেশদ্বার হিসাবে খ্যাত টেকনাফেও শুরু হয় মাদক বিরোধী এ বিশেষ অভিযান। শুরুতে ইয়াবা কারবারিরা এ অভিযানকে তেমন একটা পাত্তা না দিলেও পরবর্তীতে একের পর এক মাদক কারবারির গ্রেফতার ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নড়েচড়ে বসে সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা। এরপর চিহ্নিত ইয়াবা কারবারিরা গা ঢাকা দিতে শুরু করে। খা খা করতে থাকে তাদের সুরম্য ইয়াবা প্রাসাদ গুলো। একপর্যায়ে গত অক্টোবর মাসে প্রদীপ কুমার দাস টেকনাফ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন।
এরপর অভিযানের তীব্রতা বেড়ে যায় বহুগুনে। বাড়তে থাকে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা। টেকনাফে এপর্যন্ত আইনশৃংখলা বাহিনী ও নিজেদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ৩৫ জনের বেশী মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তন্মধ্যে কেবল মাত্র গত দুইমাসে ২০ জনের বেশী কারবারি নিহত হন। শুধু বন্দুকযুদ্ধই নয় অনেক ইয়াবা কারবারির সুরম্য অট্টালিকা গুলোতেও আঘাত হেনে কারবারিদের দুর্বল করা হয়। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন তালিকাভুক্ত ও শীর্ষ মাদক কারবারি রয়েছেন।
অভিযানের তীব্রতায় দিশেহারা হয়ে পড়ে সীমান্তের ইয়াবা কারবারিরা। একদিকে বন্দুকযুদ্ধে একের পর এক প্রানহানি, অপরদিকে সুরম্য ইয়াবা প্রাসাদগুলো ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে বুলডোজারের আঘাতে। এ থেকে বাঁচার উপায় খুঁজতে থাকে তারা। মহেশখালী দ্বীপের জলদস্যুদের মত আত্মসমর্পনের মাধ্যমে রক্ষা পাওয়া যায় কিনা তা নিয়ে দফায় দফায় গোপন বৈঠক বসে শীর্ষ ইয়াবা গডফাদাররা।বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় মিডিয়ার মাধ্যমে জনমত তৈরী করে সরকারের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষন করা গেলে হয়তো আত্মসমর্পন করে অভিযান থেকে বেঁচে যেতে পারবে তারা। ইতিমধ্যে সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে আত্মসমর্পনের তালিকা প্রস্তুত করে তারা। আর এর খরচ যোগাতে আত্মসমর্পনে ইচ্ছুক ইয়াবা কারবারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি টাকা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই এগুচ্ছিল। এরকম আতœসমর্পনে অনেকেই সাধুবাদও জানিয়েছেন।
কিন্তু এর মাঝে সচেতন মহলে আত্মসমর্পন নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এনিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে চলেছেন। টেকনাফ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক গুরা মিয়া গত বুধবার তার ফেইসবুকে টাইমলাইনে লিখেছেন : জলদস্যূ আর ইয়াবা বিয়ারি এক না। টেকনাফে কিছু সংবাদ কর্মি ইদানিং ইয়াবা বিয়ারির পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করছে।
যা প্রধান মন্ত্রী ঘোষিত মাদকের জিরু টলারেন্স নীতির সাথে অনেকটা সাংঘর্ষিক। তাদের যুক্তি হচ্ছে জলদস্যূরা যদি ক্ষমা পায় মাদক বিয়ারিরা কেন পাবে না? জলদস্যূরা দস্যূমি করে হয়তো গুটি কয়েক জন কে হত্যা করছে কিংবা কিছু টাকা পয়সা কেড়ে নিয়ে সংসার চালিয়েছে। ইয়াবা বিয়ারিরা সমাজ সহ পুরা জাতিকে ধ্বংস করেছে এবং দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে।
অহরহ মানূষের ভূমি জবর দখল করেছে। অগনিত সাধারণ মানূষ কে অহেতুক হয়রানি করেছে। সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের কে অপমানিত করেছে। কথায় কথায় গুলি চালিয়েছে। এ সবের ক্ষতিপূরণ বহন করবে কে? তা ছাড়া ইতি পূর্বে যারা ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছে তারাওতো একই অপরাধে অপরাধী।
অনেকে আছে আবার মিথ্যা মামলার আসামি। তাদের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্তইবা আসতে পারে ? সব মিলিয়ে একটা অজানা গল্প রচনা না করায় ভাল। হাজার ও সমস্যা হইতে পারে। (মনে রাখতে হবে অপরাধ করলে ফল ভোগ করতে হবে)।
আবার অনেকের প্রশ্ন, ইয়াবা কারবারিরা আত্মসমর্পন করলে অবৈধভাবে অর্জিত ইয়াবা কারবারিদের হাজার কোটি টাকার অর্থ-সম্পদের কি হবে। ইয়াবা কারবারে অর্জিত অর্থ-সম্পদ দিয়ে ইতিমধ্যে অনেকে জনপ্রতিনিধিও নির্বাচিত হয়েছেন, রিক্সাঅলা-দিনমজুর কিংবা গাড়ির হেলপার হয়েছে রাতারাতি কোটিপতি। সীমান্তের অলিগলিতে তৈরী করেছে সুরম্য অট্টালিকা। ফলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরী হয়েছে। বিনষ্ট হয়েছে সামাজিক ভারসাম্য।
আবার শীর্ষ ইয়াবা কারবারিরা মালয়েশিয়া-সিংগাপুর-দুবাইসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করে অগাধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। ইয়াবার কালো টাকা দিয়েই তারা দিনকে রাত আর রাত কে দিন করেছে। ফলে আত্মসমর্পন প্রশ্নে অর্জিত এই অবৈধ অর্থ-সম্পদের ব্যাপারে সরকারের নীতি নির্ধারনী মহলে গুরুত্বের সাথে নিয়ে সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। কেননা সরকার এমনিতেই মাঝে মধ্যে দেশে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে থাকে। সেই সুযোগেরও থাকে একটা প্রক্রিয়া। আর দেশ ও গোটা জাতি ধ্বংস করে ইয়াবায় অর্জিত টাকা-পয়সা এবং সহায় সম্পদ কিন্তু এরকম প্রক্রিয়ার আওতায় আসারও কথা নয়।
তাই সর্বাগ্রে দাবী উঠেছে ইয়াবা কারবারিদের অবৈধ অর্থ সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নিয়ে যেন তাদের আত্মসমর্পনের সুযোগ দেওয়া হয়। সচেতন মহলের মতে যদি ইয়াবা কারবারিরা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ-সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে আত্মসমর্পন করতে চায় তাহলে ধরে নিতে হবে আত্মপলদ্ধি থেকেই তারা অনুতপ্ত হয়ে আত্মসমর্পন করে নতুন জীবনে ফিরে যেতে চাচ্ছে। আর যদি তাদের সেই অবৈধ অর্থসম্পদ জমা দিতে রাজী না হয় তবে ধরে নিতে হবে মাদক বিরোধী সাঁড়াশী অভিযান হতে ¯্রফে রক্ষা পেতেই তারা আত্মসমর্পনের নামে সাময়িক কৌশল গ্রহন করেছে মাত্র।
কেননা বলা হচ্ছে-সাগরে জলদস্যুতা ও সীমান্তের পাচার করা ইয়াবা কারবারের অপরাধ এক নয়। দস্যুতা হয় দৃশ্যমান। আর ইয়াবা কারবার হয় অদৃশ্যে। আতœসমর্পনের পর কারবারিরা আবারও পুরানো কারবারে ফিরে যাবেনা-এমন নিশ্চয়তাও কেউ দিতে পারবে না। কেবল শান্তনা এখানেই-ওরা আতœস্বীকৃত ইয়াবা কারবারিদের তালিকাভুক্ত হবে।
এদিকে ইয়াবা কারবারিদের আতœসমর্পন বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেছেন, ইয়াবা কারবারিদের আতœসমর্পন করার জন্য কঠোর শর্ত দেওয়া হবে। শর্তবিহীন আতœসমর্পন করে অপরাধ থেকে রেহাই পাবার কারও সুযোগ নেই। পুলিশ সুপার আরো বলেন, যেসব ইয়াবা ডিলার ইতিমধ্যে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তাদেরও এ পদ্ধতিতে পার পাবার কোন সুযোগ নেই।

Comments

comments

Posted ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com