• শিরোনাম

    টেকনাফে ১০২ ইয়াবা কারবারির আত্মসমর্পণ

    ইয়াবা কারবারিদের নিস্তার নেই- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ অফিস | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

    ইয়াবা কারবারিদের নিস্তার নেই- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত থেকে ফুল নিচ্ছেন ইয়াবা ডন শাহজাহান আনসারী

    স্বরাষ্টমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি বলেছেন, ইয়াবা কারবারিদের নিস্তার নেই। হয় তাদের আত্মসমর্পন করে ভালো হয়ে যেতে হবে নয়তো আইনের মুখোমুখি হতে হবে। টেকনাফের মতো দেশের অন্যান্য এলাকার ইয়াবা কারবারিদেরও আত্মসমর্পনের সুযোগ দেওয়া হবে। টেকনাফে যারা আত্মসমর্পন করেছেন তাদের তিনি ধন্যবাদ জানান।
    শুধু টেকনাফ-কক্সবাজার নয় অচিরেই গোটা দেশ ইয়াবামুক্ত করা হবে। সারা দেশের ইয়াবা কারবারিদের চিহ্নিত করা হবে। তাদের বাঁচার কোন পথ নেই। আইন সংশোধন করে মৃত্যুদন্ড ও যাবজ্জীবন করা হয়েছে। আইনের ফাঁক ফোকর গলে যাতে তারা বের হয়ে যেতে না পারে সেব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।
    তিনি আরো বলেন মাদকের ব্যাপারে কাউকে ছাড় নয়। আগে দেশ বাঁচাতে হবে। সীমান্ত দিয়ে কোন প্রকার মাদক ও অবৈধ নাগরিক যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য নিচ্ছিদ্র সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সবচেয়ে বিজিবিকেই দায়িত্বপালন করতে হবে। এব্যাপারে কোস্টগার্ডকেও শক্তিশালী করা হবে। তিনি এও বলেন সীমান্তে সব বিজিবি সদস্য সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে না বলে রিপোর্ট এসেছে। এব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
    মাদকের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরোটলারেন্স বাস্তবায়ন করতে যা যা প্রয়োজন সবই করা হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আইন-শৃংখলা বাহিনীর কোন সদস্য মাদক সংশ্লিষ্ট থাকলে তাদেরকেও কঠোর হাতে আইনের আওতায় আনা হবে।
    শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ইয়াবা ব্যবসায়ীদেও স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরে আসা উপলক্ষে আয়োজিত আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    আত্মসমর্পণকারিদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা আল্লাহ কাছে মাফ চান। আপনারা ভাল হয়ে যান। দেশ ও জাতির ভবিষ্যতে এগিয়ে আসুন। আর যারা এখনও আত্মসমর্পণ করেন নাই, তারা দ্রুত আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করুন। না হলে ইয়াবা কারবারি যত বড় শক্তিশালি হউক না কেন তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
    কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুলিশের মহা পরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, এমপি শাহীন আক্তার, এমপি জাফর আলম, এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ১০২ জন তালিকাভূক্ত ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পন করেন। এসব ইয়াবা কারবারিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি। এসময় ইয়াবা কারবারিরা ৩ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও ৩০টি দেশীয় তৈরী আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জমা দেন। আতœসমর্পণকারীদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করেন এনামুল হক ও মো. সিরাজ।
    আতœসমর্পণকারী ১০২ ইয়াবা কারবারিদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই টেকনাফের বাসিন্দা।
    এরা হচ্ছে সাবরাং ইউনিয়নের মোয়াজ্জেম হোসেন প্রকাশ দানু মেম্বার, শাহপরীর দ্বীপের রেজাউল করিম মেম্বার, সামশু মেম্বার, সাহেদ রহমান নিপু, সাহেদ কামাল, নুরুল আমিন, আলী আহমদ, মৌলভী বশির, হোসেন আহমদ, শওকত আলম, রাসেল, ডেইল পাড়ার নুরুল আমিন, মুন্ডার ডেইলয়ের মনজুর, আলীর ডেইলের জাফর আহমদ, আবদুল হামিদ, শামীম, দক্ষিণ নয়াপাড়ার নূর মোহাম্মদ, আলমগীর ফয়সাল, ডেইল পাড়ার মোঃ সাকের মিয়া, নয়াপাড়ার মোঃ তৈয়ব,
    টেকনাফ পৌর এলাকা ও সদর ইউনিয়নের আবদু শুক্কুর, আমিনুর রহমান প্রকাশ আবদুল আমিন, দিদার মিয়া, আব্দুল আমিন, নুরুল আমিন, শফিকুল ইসলাম সফিক, ফয়সাল রহমান, আবদুর রহমান, জিয়াউর রহমান, পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর প্রকাশ নুরশাদ, দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার ইমাম হোসেন, বড় হাবিব পাড়ার ছিদ্দিক, পুরনো পল্লান পাড়ার শাহ আলম, অলিয়াবাদের মারুফ বিন খলিল বাবু, মৌলভী পাড়ার একরাম হোসেন, মধ্যম ডেইল পাড়ার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, চৌধুরী পাড়ার মংমং ছেং প্রকাশ মমচি ও দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার জুবাইর হোসেন, মধ্যম জালিয়া পাড়ার মোজাম্মেল হক, ডেইল পাড়ার আবদুল আমিন, নাজির পাড়ার এনামুল হক মেম্বার, ভুট্টোর ভাগিনা আফসার, আবদুর রহমান, সৈয়দ হোসেন, মোঃ রফিক, মোঃ হেলাল, জামাল হোসেন, মৌলভী পাড়ার মোঃ আলী, নাইটং পাড়ার মোঃ ইউনুস, উত্তর লম্বরীর আবদুল করিম প্রকাশ করিম মাঝি, সদর কচুবনিয়ার বদিউর রহমান, রাজার ছড়ার আবদুল কুদ্দুস, জাহালিয়া পাড়ার মোঃ সিরাজ, নতুন পল্লান পাড়ার মোঃ সেলিম, নাইট্যং পাড়ার মোঃ রহিম উল্লাহ, চৌধুরী পাড়ার মোহাম্মদ আলম, তুলাতলীর নুরুল বশর, হাতিয়ার ঘোনার দিল মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হাছন, রাজার ছড়ার হোসেন আলী, উত্তর জালিয়া পাড়ার নুরুল বশর মিজি, আবদুল গনি, জালিয়া পাড়ার মোঃ হাশেম, পুরান পল্লান পাড়ার ইসমাইল, নাইট্যং পাড়ার আইয়ুব, নুর হাবিব, মাঠ পাড়ার কামাল, শীলবনিয়া পাড়ার আইয়ুব, জালিয়া পাড়ার আলম, নুরুল আলম,
    বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজ পুরার নুরুল আলম, শামলাপুর জুমপাড়ার শফি উল্লাহ, ছৈয়দ আলম, উত্তর শীলখালীর মোঃ আবু ছৈয়দ,
    হ্নীলা ইউনিয়নের হ্নীলা পশ্চিম লেদার নুরুল হুদা মেম্বার, আলী খালীর জামাল মেম্বার, শাহ আজম, পশ্চিম সিকদার পাড়ার ছৈয়দ আহমদ, রশিদ আহমদ, পশ্চিম লেদার নুরুল কবীর, পূর্ব লেদার জাহাঙ্গীর আলম, জাদিমোরার মোহাম্মদ হাসান আবদুল্লাহ, লেদার ফরিদ আলম, মোঃ হোছন, জহুর আলম, আবু তাহের, বোরহান, হামিদ, রবিউল আলম, আলীখালীর হারুন, হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার মাহাবুব, বাজার পাড়ার মোঃ শাহ, পূর্ব পানখালীর নজরুল ইসলাম, পশ্চিম পানখালীর নুরুল আবছার, ফুলের ডেইলের রুস্তম আলী, আলী নেওয়াজ, আবু তৈয়ব ও রমজান ও কক্সবাজারের শাহজাহান আনসারী।
    টেকনাফ থানার পরিদর্শক তদন্ত এবিএমএস দোহা জানান, সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা ও ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্রের মামলায় বেলা ২টার দিকে অনুষ্ঠান শেষে তাদেরকে ইয়াবা ও আগ্নেয়ান্ত্রের ২টি মামলায় আটক দেখিয়ে কক্সবাজার কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
    অনুষ্ঠানে ছিলেন না বদি : আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে আলোচিত সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদি উপস্থিত ছিলেন না।
    বদির চার ভাইসহ ৮ স্বজনের আত্মসমর্পণ
    কক্সবাজারের টেকনাফে ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির চার ভাইসহ ৮ স্বজন।
    আত্মসমর্পন করেছেন বদির ভাই আবদুস শুক্কুর, আমিনুর রহমান, মো. ফয়সাল রহমান ও শফিকুল ইসলাম, ভাগিনা সাহেদ রহমান নিপু, ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেল, খালাতো ভাই মংমং সেন ও বেয়াই শাহেদ কামাল।
    শনিবার বেলা ১১টার দিকে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করেন। তবে বদির ভাইদের মধ্যে মাদক তালিকাভুক্ত পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান আত্মসমর্পন করেননি।
    সাত জনপ্রতিনিধির আত্মসমর্পন :
    আত্মসমর্পনকৃতদের মধ্যে সাত জনপ্রতিনিধি ইউপি মেম্বার ও কাউন্সিলর রয়েছেন। এরা হচ্ছেন টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়নের জামাল হোসেন, নুরুল হুদা মেম্বার, সাবরাং ইউপির শামসুল আলম, মোয়াজ্জেম হোসেন দানু, রেজাউল করিম রেজু, সদর ইউপি মেম্বার এনামুল হক, পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর প্রকাশ নুরশাদ।
    এছাড়া আত্মসমর্পন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের ছেলে দিদার মিয়া।
    সাত শর্তে আত্মসমর্পন করেছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা
    যেসব শর্তে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পন করেছে সেসব শর্তগুলি হচ্ছে
    ১. আত্মসমর্পনকৃত চোরাকারবারীরা এই ঘৃন্য পেশা ত্যাগ করে সমাজে সুন্দর ও পরিচ্ছন্নভাবে বসবাসের লক্ষ্যে মাদক ব্যবসায়ীগন ভবিষ্যতে মাদক সংক্রান্ত কোন অপরাধে জড়িত হবে না ২. সমাজে ফিরে গিয়ে তাদের স্ব স্ব এলাকা মাদকমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বিশেষ ভুমিকা পালন করবে ৩.যে সকল লোক মাদক ব্যবসায়ে এখনো সক্রিয় রয়েছে তাদের তথ্য কক্সবাজার জেলা পুলিশকে সরবরাহ করবে ৪. আত্মসমর্পনের পূর্বে তাদের বিরুদ্ধে যে সকল মামলা রুজু হয়েছে বা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে এসকল মামলাগুলি তারা নিজ দায়িত্বে আইনগতভাবে মোকাবেলা করবে ৫. আত্মসমর্পনকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের হেফাজতে যে সকল মাদকদ্রব্য/ অবৈধ অস্ত্র রয়েছে তারা তা আত্মসমর্পনের সময় জেলা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করবে ৬. আত্মসমর্পন প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে যে সকল মামলা রুজু হবে সরকারি অনুমতি সাপেক্ষে তাদেরকে আইনগত সুবিধা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে ৭. মাদক ব্যবসার মাধ্যমে নিজে, পরিবারের, আত্মীয়-স্বজনের নামে ও বেনামে অর্জিত সকল স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি যাচাই এর জন্য দুদক/সিআইডি/(মানি লন্ডারিং শাখা)/এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারী সকল সংস্থার নিকট তাদের তথ্যাদি প্রেরন করা হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ