• শিরোনাম

    ইয়াবা পাচারে সক্রিয় রোহিঙ্গারা

    শফিক আজাদ,উখিয়া | ২৫ মে ২০১৯ | ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ

    ইয়াবা পাচারে সক্রিয় রোহিঙ্গারা

    আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কড়াকড়ির আরোপের মধ্যেও রাখাইন থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ইয়াবা পাচারে সক্রিয় রয়েছে। দু’দেশের সীমান্ত সংলগ্ন ক্যাম্প গড়ে উঠায় রোহিঙ্গা শিবিরে মাদকের আগ্রাসন আগের তূলনায় বেড়েছে। স্থানীয় সিন্ডিকেটের সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক কতিপয় ইয়াবা ও মাদক পাচারকারী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ক্যাম্পের সহজ-সরল রোহিঙ্গা যুবতি মহিলা ও পুরুষদের এ কাজে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
    সুত্র মতে, কৌশলে ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে ৫০ জনের বেশি রোহিঙ্গা ধরা পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। সর্বশেষ গত ২০ মে টেকনাফ-২ বিজিবির সদস্যরা তিন রোহিঙ্গা নারীর পেটের ভেতর থেকে তিন হাজার ১৫০ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছেন। তারা হলেন–, টেকনাফের হ্নীলা আলীখালী রোহিঙ্গা শিবিরের নূর হাওয়া (৩৫), জরিনা খাতুন (৩৫) ও সেতারা (৩০)। এভাবে গত দুই মাসে ৫০ জনের বেশি রোহিঙ্গা গ্রেফতার হয়েছে বলে আইনশৃংখলা বাহিনী সুত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে ইয়াবাসহ র‌্যাব সাতজনকে, পুলিশ ১৩ জনকে, বিজিবি ১৫ জনকে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগ আটজন আটক করে। এছাড়াও গত এক বছরে ইয়াবা বহন, সেবন ও কেনা-বেচার অভিযোগে ১০০টি মামলায় দেড় শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। এদের বেশির ভাগই অভিনব উপায়ে ইয়াবা বহন করছিল।
    কক্সবাজারের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সহকারী পরিচালক সোমেন মন্ডল বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দিন দিন কৌশল পাল্টিয়ে ইয়াবা পাচার অব্যাহত রেখেছে। আর এসব অভিনব পদ্ধতিতে ইয়াবা বহনে বেশির ভাগ রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। গত এক বছরে কক্সবাজার জেলায় ইয়াবাসহ ৪০ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করেছি। তাদের কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
    উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের সেক্রেটারী মোহাম্মদ নুর (৩৫) জানান, রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ইয়াবা গডফাদাররা এ কাজ করাচ্ছে। যার কারনে অনেক রোহিঙ্গা ইয়াবাসহ আটক হয়ে বর্তমানে জেলে আছে। এ জন্য তিনি ক্যাম্প ভিত্তিক গড়ে উঠা শীর্ষ ইয়াবা পাচারকারীদের দায়ী করেছেন।
    উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, ইয়াবা ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। যার ফলে গত ১০ মাসে মাদক বহনকালে ৩০ জনের বেশি রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, কতিপয় ইয়াবা পাচারকারী সিন্ডিকেট রোহিঙ্গাদের মাদক ব্যবসায় জড়িত করছে। দেশীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এসব ক্যাম্পে বসবাস করা পুরনো রোহিঙ্গারাও এর সঙ্গে জড়িত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
    র‌্যাব-১৫-এর টেকনাফ ক্যাম্পের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট মির্জা শাহেদ মাহতাব বলেন, গত ১০ মাসে মাদকসহ ৫১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছি। তাদের কাছ থেকে চার লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় মাদক আইনে থানায় ৩৫টি মামলা রুজু করা হয়েছে। র‌্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে অনেক ইয়াবা পাচারকারীও রোহিঙ্গা শিবিরগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। যে কারণে শিবিরগুলোয় আমাদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
    কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। তবে ইতোমধ্যে ক্যাম্পগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অভিযান পরিচালনার পর থেকে ইয়াবা ব্যবসা অনেকটা কমে গেছে। কিন্তু সম্প্রতি রোহিঙ্গারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ছে।
    তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মাদক থেকে দূরে রাখতে ক্যাম্পে ক্যাম্পে মাদকবিরোধী সভা পরিচালনা করছে পুলিশ। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মাদক ব্যবসা, সেবন ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ রোধে সচেতন করা হচ্ছে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রোহিঙ্গাদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতার অনুরোধও জানানো হচ্ছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ