• শিরোনাম

    ঈদগাঁওয়ে ইয়াবা কারবারিরাও পুলিশের সোর্স!

    সেলিম উদ্দীন,ঈদগাঁও | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

    ঈদগাঁওয়ে ইয়াবা কারবারিরাও পুলিশের সোর্স!

    কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁতে ইয়াবা ব্যবসা করে কয়েক বছরের মধ্যে কোটিপতি হয়ে যান নোহা গাড়ী চালক আবুল কালাম। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা যায়। আবুল কালাম ঈদগাঁও জাগির পাড়া পুরাতন পুলিশ বিটের পিছনের বাসিন্দা হলেও বর্তমান দরগাহ পাড়ায় সপরিবারে বসবাস করছেন।
    খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, আবুল কালাম ঈদগাঁওয়ের অন্যতম প্রধান ইয়াবা ব্যবসায়ী। টেকনাফ থেকে বিভিন্ন কৌশলে নোহা গাড়ী করে ইয়াবার চালান এনে বৃহত্তর ঈদগাঁও সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছে। পাচার করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল দুইবার। নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা এনে ঈদগাঁও থেকে ইয়াবার চালান পৌঁছে দেয়া হতো চট্টগ্রাম-ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। ইয়াবা সরবরাহের জন্য আবুল কালামের ছিল বিশাল সিন্ডিকেট। তবে বর্তমানে আটকের ভয়ে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের সোর্স হিসাবে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন কালাম ও তার সিন্ডিকটের কয়েকজন।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ট্রাকের হেলপার হিসাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াত। সে সুবাদে ট্রাক ছেড়ে রাতারাতি একটি নোহা গাড়ী কিনে নেয় সুচতুর কালাম। এই নোহাটিও ছিনতাইকৃত হওয়ায় ঈদগাঁও পুলিশের তৎকালীন আইসি দেবাশীষ সরকার জব্দ করেছিল। মাস দুয়েক পরে ভুঁয়া কাগজপত্র তৈরী করে ছাঁড়িয়ে নেয় গাড়ীটি। নোহা গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন বিয়ে বাড়ির ভাড়া প্রদান করলেও সংসার চালানো দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
    কিন্ত ২০১৩ সাল থেকে তার কর্মকা- বদলে যেতে থাকে। নোহা নিয়ে যাত্রী আসা নেওয়ার সুযোগে টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান এনে হঠাৎ করে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যায় কালাম। গ্রামের বাড়িতে গত কয়েক বছরে নামে বেনামে কেনা হয়েছে রিজার্ভ জমি, নোহা, কারসহ বিভিন্ন স্থানে বিপুল সম্পত্তির মালিক ও হয়েছেন তিনি। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে প্রচুর পরিমান টাকা রাখারও সন্ধান পাওয়া গেছে। সারাদেশে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হলে ক্ষনিকের জন্য গা ঢাকা দেয়। অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় স্থানীয় পুলিশের সাথে আতাঁত করে হয়ে যায় সোর্স। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুর্বের পরিচিত সুবাদে ইয়াবা গুলো পাচার হয় গরু বাজারস্থ আলমাছিয়া গেইটের স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ী ফেনী জেলার জনৈক উজ্জ্বলের ট্রাক যোগে। ২০১৫ সালে নিজেই ইয়াবা পাচারের সময় দাউদকান্দি থানা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। এসময় তার ডাম্পার গাড়ীটি জব্দ করা হয়। পরদিন ঈদগাঁও জাগির পাড়া এলাকার তিন ব্যক্তি দাউদকান্দি থানায় গিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিনিময়ে ছাঁড়িয়ে আনে। সেদিন দায় এড়ানোর জন্য অভিযান পরিচালনা কারী কর্মকর্তা কালামকে নিয়ে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে। সাজানো হয়েছিল মাদক সেবনের আসামি। ২ পিস ইয়াবা দেখিয়ে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল। পরের বছর রামু উপজেলার পানির ছড়া এলাকার হোসেন নামের তার সিন্ডিকেটের এক সদস্য থেকে ইয়াবা নিয়ে ঈদগাহ আসার সময় রামু থানার পুলিশ আটক করে। সেদিনও তাকে মোটা অংকের টাকায় ছাঁড়িয়ে আনে সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্য। তার সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য ইসলামপুর নতুন অফিসের দিদার নামের এক ব্যক্তি ঢাকায় ইয়াবা পাচারের সময় আটক হয়।
    সে বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছে। ২০১৭ সালে তার অপর সহযোগী ঈদগাহ দরগাহ পাড়া এলাকায় অবস্থান করা বর্মাইয়া ধলু মাঝি নামের এক ব্যক্তির স্ব পরিবার পাচার করতে গিয়ে ২০ লাখ পিস ইয়াবাসহ চট্রগ্রামের কর্ণফুলী থানার পুলিশের হাতে আটক হয়। তারাও চট্রগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। সূত্রে আরো জানা যায়,২০১৪ সালের দিকে ডুলহাজারা এলাকার এক ব্যবসায়ীর মোটর সাইকেল চুরি করে এনে ঈদগাহ কলেজের পুর্বে পাশে গাড়ীর হেলফার নরুল আজিমের বাড়িতে গোপন করে রাখে কালাম। দীর্ঘদিন পর সন্ধান পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় তৎকালীন ঈদগাঁও পুলিশের এএসআই রুপম চৌধুরী। সে সময় বাইকটি আবুল কালাম এনে রাখছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছিল বাড়ির লোকজন। ১৮ সালের দিকে আবুল কালামকে ইয়াবাসহ আটক করেছিল পুলিশ। চালান দিয়েছিল চেক প্রতারণা মামলায়। এভাবেই বিশাল ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে রাতারাতি হয়ে যায় কোটি টাকার মালিক। সম্প্রতি সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষনা করলে স্থানীয় এক ব্যক্তির সাথে সমঝোতা করে পুলিশের সোর্স হিসাবে বিভিন্ন স্থানে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে।
    এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবী করে আসছে। কেউ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিচ্ছে। আবার অনেক নিরহ ব্যক্তিদের কাছে গিয়েও একই পন্থায় চাঁদা দাবী করে আসছে বলে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানিয়েছে। তার এহেন কর্মকান্ড ও ইয়াবা ব্যবসার কারনে তাকে আটক পুর্বক আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিনহাজ মাহমুদ ভুঁইয়া বলেন, কালামের বিরুদ্ধে ইয়াবা অভিযোগটি দীর্ঘদিন ধরে শুনা যাচ্ছে তবে হাতে নাতে পেলে আইনের আওতায় আনা হবে। সোর্সের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবুল কালামের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। গনমাধ্যমের সামনে না আসা এবং মোবাইলে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
    দেশবিদেশ /০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ