শুক্রবার ২২শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

একাধিক হাতবদল হয়ে চলছে বেচাকেনা, চোরাচালান বেড়েছে দুই গুন

ঈদগাঁওয়ে চোরাই মোটর সাইকেলের রামরাজত্ব!

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও   |   মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮

ঈদগাঁওয়ে চোরাই মোটর সাইকেলের রামরাজত্ব!

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওয়ের সর্বত্রে থামছে না চোরাই মোটর সাইকেলের দৌরাতœ্য। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন সড়ক দিয়ে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অনন্য জেলা থেকে ঈদগাঁওতে আনছে চোরাকারবারিরা। রাস্তায় দাবড়ে বেড়াচ্ছে লাইসেন্স বিহীন টানা চোরাই মোটরসাইকেল। এতে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব। সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদগাঁওয়ের প্রত্যন্ত ইউনিয়নে ব্যাপক হারে চোরাই মোটর সাইকেলের ব্যবহার বেড়েছে। ঐসব মোটর সাইকেল ব্যবহারকারীরা সরকারের নিবন্ধন ফি-বাবদ রাজস্ব খাতে বিপুল অর্থ ফাঁকি দিচ্ছে। বিভিন্ন সড়কে অনটেষ্ট,বনবিভাগ, পল্লী বিদ্যুৎ, সাংবাদিক, পুলিশসহ হরেক রকমের লেখা বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেলের ব্যবহার মারাত্মক বেড়ে যাওয়ায় কোনটি বৈধ কিংবা কোনটি চোরাই বুঝা মুশকিল। অপরদিকে প্রায় সড়কের পাশে হোটেল-রেস্তোঁরা, মার্কেট, ব্যাংক-বীমা কিংবা সরকারী-বেসরকারী অফিসের সামনে এমনকি অলি-গলিতে মোটর সাইকেল পার্কিং করে রাখায় জনদুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মোটর সাইকেল মালিক জানান, বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের ৭ ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে শত শত চোরাই মোটর সাইকেল রয়েছে। এগুলোর কোনো সরকারি নিবন্ধন নেই। বর্তমানে মোটর সাইকেল ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠায় দেশি-বিদেশি কোম্পানির অনেক শো-রুম গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বাজারে। এসব শো-রুম থেকে নগদ কিংবা সহজ কিস্তিতে মোটর সাইকেল কিনছেন ক্রেতারা। অথচ শো-রুমের গাড়ীর চাইতে চোরাই বা ছিনতাইকৃত মোটর সাইকেল প্রায় অর্ধেক দামে পাওয়া যাচ্ছে। মোটর সাইকেলের একজন মালিক জানান, আমার মোটর সাইকেলটি এক বছর আগে কিনেছি। ড্রাইভিং লাইসেন্স ও সরকারি নিবন্ধন সনদ এখনো পায়নি। কি দরকার! গাড়ী নিরাপদেই চালাচ্ছি, কোন অসুবিধা হচ্ছে না। আমার মতো অনেকেই নম্বরবিহীন শত শত মোটর সাইকেল চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত কারো কোন ক্ষতি কিংবা অসুবিধা হয়েছে বলে জানা নেই। হরেক রকম ব্রান্ডের নামী-দামী মোটর সাইকেল এখন বিলাসিতার অন্যতম উপকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব এলাকায় সংঘটিত অপরাধের সাথে বেশিরভাগই অবৈধ মোটর সাইকেল অন্যতম উপাত্ত হিসাবে কাজ করছে। ছিনতাইকারী, চোর-ডাকাতরা মোটর সাইকেল ব্যবহার করছেন হরহামেশা। আবার এদের অধিকাংশেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্টসহ বিশেষ অভিযান চালালেও এদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। যত্রতত্র মোটর সাইকেল ব্যবহার এত বেড়েছে যা বলার উপায় নেই। আবার অনেক মোটর সাইকেলের মালিক ও চালক মাদকাসক্ত, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত এবং চোরাই মোটর সাইকেল কেনা-বেচার ব্যবসাকে জমজমাট করে তুলেছে। সূত্রটি আরও জানায়, এ ধরনের মোটর সাইকেলের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চোরাইকৃত কিংবা ভারত থেকে চোরাই পথে আনা। মোটর সাইকেলের পাশাপাশি আনা হচ্ছে মোটর সাইকেলের বিভিন্ন পার্টস ও আনুষঙ্গিক বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। দামে স্থানীয় বাজারের শো-রুমের দামের তুলনায় অর্ধেক বিধায় এসব অবৈধ মোটর সাইকেল কিনতে ক্রেতারা আগ্রহী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক মোটর সাইকেল ক্রেতা।

আবার কোন কোন ক্ষেত্রে অবৈধপথে আনা এসব মোটর সাইকেলের ভেহিক্যাল আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (ভিআইএন) মুছে পুনরায় পুরনো কোনো বৈধ মোটর সাইকেলের ভিআইএন নম্বর বসিয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকে নিবন্ধন করিয়ে নেয়া হচ্ছে। একাধিক হাতবদল হয়ে চলছে বেচাকেনা। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি সংঘবদ্ধ চোরাই দলের সক্রিয় সদস্যরা নিয়মিত অন্য জেলা থেকে চোরাই পথে মোটর সাইকেল এনে এ অঞ্চলের জালালাবাদ, ঈদগাঁও, ইসলামাবাদ, ইসলামপুর, চৌফলদন্ডী, পোকখালী ভারুয়াখালীতে বিক্রি করছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন অভিযান চালালেও বিভিন্ন সড়ক দিয়ে কয়েক বছরের তুলনায় মোটর সাইকেল চোরাচালান বেড়েছে দুই থেকে তিনগুন। চোরাইপথে অবৈধভাবে এসব মোটরসাইকেল এর বিবিধ যন্ত্রাংশ ভারত থেকে মাত্র অর্ধেক দামে আনা হচ্ছে। ডিসকভার, পালসার এফজেড, ও হিরো ব্রান্ডের বিভিন্ন মডেলের মোটর সাইকেল আসছে চোরাইপথে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ীও সরবরাহ করা হচ্ছে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট মডেলের গাড়ি।

চোরাকারবারে জড়িত এক বিক্রেতার কাছে ক্রেতা সেজে জানতে চাইলে তিনি জানান, ১৫০ সিসির পালসার ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার, টাকা, ১৩৫ সিসি ৯০ হাজার টাকা, ডিসকভার ১২৫ সিসি ৯০ হাজার টাকা, ১০০ সিসি ৭৫ হাজার টাকা, হিরো হোন্ডা ১০০ সিসি ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন প্রশাসনের কঠোর নজরদারী থাকার পরও কিভাবে চোরাই পথে মোটর সাইকেল আসে? যদি প্রশাসন আরো কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে মোটর সাইকেলসহ সব চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব। ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিনহাজ মাহমুদ ভুঁইয়া বলেন, সুনিদিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ পেলে এসব বাইকগুলো আটক করা হবে।

দেশবিদেশ /১৭ জুলাই ২০১৮/নেছার

Comments

comments

Posted ১০:৩৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com