• শিরোনাম

    ঈদগাঁহতে মাদক সেবী ও কারবারীদের বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর

    সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁহ | ২৭ মার্চ ২০২০ | ৮:৩৭ অপরাহ্ণ

    ঈদগাঁহতে মাদক সেবী ও কারবারীদের বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর

    কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁহ-ইসলামাবাদের হাঁসের দীঘির পাড় থেকে মাদক সেবী ও কারবারিদের উচ্ছেদ এবং দমন করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে শতাধিক সাধারণ জনগণ গণস্বাক্ষর করে পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার এলাকাবাসীর পক্ষে কয়েকজন সচেতন নাগরিক পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগটি দায়ের করেন। স্বাক্ষরকারীরা কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ওয়াহেদর পাড়া ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এই গ্রামে ঐতিহ্যবাহী একমাত্র দীঘির নাম হাঁসের দীঘি। আরকান সড়কের নিকটস্থ এই দীঘির উভয় পাড়ে অসংখ্য মানুষের কবর বিদ্যামান থাকায় দীঘির পাড় গুলোতে সাধারণ মানুষের চলাচল ও আনাগোনা কম এবং কবরস্থানের সার্বিক নিরাপত্তা ছিল অনেক বেশি। স্মৃতি বিজড়িত এই দীঘি এলাকাবাসী তথা তাদের পূর্ব পুরুষরা প্রতিষ্ঠা করেছিল একটি মসজিদ, একটি তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসা ও গ্রামের ভিতর আরেকটি গুরত্বপূর্ণ মসজিদ। এছাড়া দীঘির সন্নিকটে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন ওয়াহেদর পাড়া আছাদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গ্রামের শিক্ষার আলো প্রসারে এসব মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম।

    ইত্যবসরে কিছু বহিরাগত মাদকাসক্ত লোকের কারণে গ্রামের উঠতি বয়সী ছেলেরা লেখাপড়ার বদলে মাদক সেবনে পা বাড়াচ্ছে। এতে অভিভাবক ও এলাকাবাসী তাদের ছেলেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শংকিত ও উদ্বিগ্ন। মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে ছেলেদের রক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন অভিভাবক মহল।
    জানা যায়, সম্প্রতি গ্রামের আশেপাশে মাদকসেবী ও মাদককারবারীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি দীঘির দক্ষিণ পাড়স্থ একটি টিনশেট ঘরকে এসব ঘৃণিত মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা গড়ে তুলেছে মাদক সেবনের আস্তানা ও পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট। আরকান সড়কের নিকটস্থ হওয়ায় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামসহ পুরো দেশে অতি সহজে ইয়াবা পাচার করে আসছে এই টিনশেট বাসা থেকে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন রাতের আধারে দীঘির পাড়স্থ আস্তানায় অপরিচিত মানুষের আসা যাওয়া বিভিন্ন যানবাহন থেকে নামতে দেখা গেছে। যার ফলে গ্রামে চুরি ডাকাতি ও নানান রকম অসামাজিক কার্যকলাপ ঘটে যাচ্ছে। এমনকি গতরাতে ও কয়েকদিন আগে বেশ কয়েকটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। মাদককারবারীরা সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক হওয়ায় সহজেই এলাকার লোকজন মুখ খুলে না। এলাকার লোকজন ঐ চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

    জালালাবাদ ইউনিয়নের ফরাজী পাড়ার হাজী মোহাম্মদ ইসমাঈল জানান, দীঘিটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি, সেখানে ঈদগাঁহ বাজার এলাকার মৃত শফিউল্লাহর ছেলে নিয়ামত উল্লাহকে দেখভাল করার দায়িত্ব দিলে সে মাদকের আস্তানা গড়ে তুলে। বার বার বারণ করলে তাকে মারধরের হুমকি, লাশ গুম করাসহ নানান রকম ধমক দিয়ে থাকে। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, এই মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ এবং এবং নিয়ামত উল্লাহ ও তার সহযোগিতাদেরকে দ্রুত আটক পূর্বক আইনের আওতায় আনতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ঈদগাঁহ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, দীঘিটি প্রশাসনের নজরে আছে। কয়েকবার অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নিয়ামত উল্লাহসহ তার কয়েকজন সহযোগীকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছিল। জামিনের এসে পুনরায় এ কাজে জড়ালে আবারও আইনের আওতায় আনা হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ