• শিরোনাম

    সুদুর প্রসারি উদ্যোগ নেয়া হলে বৈদেশি মুদ্রা অর্জন সম্ভব

    উখিয়ার উপকূলীয় এলাকায় বানিজ্যিকভাবে শুটকী উৎপাদন

    রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া | ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১:১০ পূর্বাহ্ণ

    উখিয়ার উপকূলীয় এলাকায় বানিজ্যিকভাবে শুটকী উৎপাদন

    বঙ্গোপসাগরের পাশেই এ সরকারের নির্মিত নান্দনিক মেরিন ড্রাইভের পশ্চিমে কৃষি জমিতে ছোট ছোট কাঁচা ঘর করে বসবাস করছে বেশ কিছু পরিবার। তারা বাশেঁর চাঙ্গা ও লম্বালম্বি বাঁেশর ফ্রেম করে শুটকি শুকাতে দেখা গেছে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মুলত এরা সাগর উকূলে শুটকী উৎপাদন ও বাজারজাত করন করে জীবন যাপন করে থাকে। যে কারনে অনেকেই এটাকে শুটকী পল্লী হিসাবে চিহ্নিত করেছে।

    পানি ভর্তি ড্রামের মধ্যে লবন মিশিয়ে তারা এগুলো গুলিয়ে নেয়। তারপর উপকূলীয় এলাকায় বিভিন্ন ফিশিংবোট থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ঐ লবন পানিতে বেশ কয়েকবার চুবিয়ে চাটাইতে শুকানোর জন্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখে। এদের মধ্যে কথা হয় আছিয়া খাতুন (৫৫) নামের এক মহিলার সাথে। সে জানায় তার স্বামী মহিবুল্লার ফিশিং বোটের মাঝি হিসাবে দীর্ঘ দিন যাবৎ সমুদ্রে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। সে সমুদ্র থেকে তীরে নোঙর করার পর উন্নত জাতের মাছগুলো ফিশিং বোটের মালিক পক্ষ বিক্রি করে তাদের প্রাপ্য মজুরী দিয়ে দেন। ঐ মজুরীর টাকা দিয়ে সে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে আসলে রোদে শুকিয়ে শুটকী তৈরি করেন। সে জানায়, এখন চলছে শুটকী শুকানোর মৌসুম। আর কয়দিন পর ব্যবসায়ীরা এখানে এসে পাইকারী দরে এসব শুটকী কিনে নিয়ে যাবে।

    পাশেই আরেকটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাশঁ দিয়ে লম্বা করে মাচাং বানানো হয়েছে। সে মাচাংয়ে খুব সুন্দর পরিপাটি করে। শুকানো হচ্ছে ছুরি মাছ। জানতে চাইলে ৪০/৪৫ বছর বয়সী ইমাম হোছন জানায় সে আগে সাগরে মাছ ধরত। একদিন নৌকা ডুবিতে তার নৌকার ৫জন মাঝি মল্লা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায় না। সে থেকে মাছ শুকিয়ে তা বিক্রি করে জীবন ধারন করে থাকেন। কাচাঁ চুরি শুটকি কত করে কেনা হয়েছে জানতে চাইলে ইমাম হোসেন জানান, এক কেজি ছুড়ি শুটকী ছোট ১২০, বড় ১৫০ টাকা করে কেনা হয়েছে। সে বলে এক কেজি কাচাঁ শুটকি শুকালে পাচঁশ গ্রাম হবে। পাইকারীভাবে পাচঁশ গ্রাম শুটকীর দাম পড়বে ৩শ টাকা।

    আর একটু হেটেঁ সামনে গিয়ে দেখা যায় মাটিতেও শুটকী শুকানো হচ্ছে। জুলেখা বেগম নামের এক মহিলা জানায়, এগুলো তারা যেখানে সামুদ্রিক মাছ লেনদেন হয়, সেখান থেকে কুড়িয়ে এনে শুকাতে দিয়েছে। রোদে শুকিয়ে শুটকীতে পরিনত করবেন। এগুলো কেজিতে ১৫০টাকা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকাররা নিয়ে যায়। এলাকার একজন মৎস ব্যাপারী হিসেবে পরিচিত সাগর মাঝি (৫৫) জানায়, প্রতি মৌসুমে উপকূলে এ শুটকী পল্লী থেকে প্রায় কোটি টাকার শুটকী লেনদেন হয়। বিশেষ করে কক্সবাজার অঞ্চল ভিত্তিক খুচরা বিক্রেতারা এসব শুটকী সংগ্রহের জন্য এখানে ভিড় করে থাকেন। সে জানায়, শুটকী উৎপাদনের মধ্যে উপকূলের হাজারের অধিক পরিবার তাদের জীবন জীবিকা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারীভাবে শুটকী প্রক্রিয়াজাতকরনে উদ্যোগ নেয়া হলে এখানকার শুটকী বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব ছিল। যেহেতু টেকনাফ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রায় ১শ কিলোমিটার সামুদ্রিক এলাকায় বেশিরভাগ অংশে শুটকী উৎপাদন হচ্ছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ