রবিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

উখিয়ার বালুখালীতে আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে অস্থির পরিবেশ

  |   সোমবার, ২৩ আগস্ট ২০২১

উখিয়ার বালুখালীতে আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে অস্থির পরিবেশ

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া
উখিয়ার ক্রাইম স্পট পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী ও থাইংখালী এলাকায় আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে একে অপরকে ঘায়েল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। হামলা-মামলা, ইয়াবা দিয়ে মামলার নামে নাটক, দখল-বেদখল, ধারাবাহিক ইয়াবা সেবন ও স্বর্ণ পাচারকে কেন্দ্র করে অস্থির পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দিবগত রাত ২টার সময় টেকনাফ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বালুখালী বানুভিটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার পিচ ইয়াবা সহ নুর আহাম্মদের ছেলে সৈয়দ নূরকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল রবিবার উখিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেছে। টেকনাফ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক দায়েরকৃত ঐ মামলায় আসামী করা হয়েছে পালংখালী ১নং ওয়ার্ডের ১নং প্যানেল চেয়ারম্যন নুরুল আবছার, ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার বখতিয়ার আহমেদ, তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম ও সোর্স পালংখালী ইউনিয়নের জসিম সহ ৫জন।

পালংখালী ইউনিয়নের মৌলভী মিজানুর রহমান সহ আরও বেশ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি জানায়, বালুখালী এলাকাটি ইয়াবার শহর হিসাবে পরিচিত। এখানে কে কাকে ঘায়েল করবে এ নিয়ে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা চব্বিশ ঘন্টা ব্যস্থ থাকে। তাদের বিরোধের সুযোগে এক শ্রেণীর মধ্যসত্ত্বাভোগী মোটা অংকের ফায়দা লুটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পালংখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আবছার বলেন, ছৈয়দ নূরের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ। গতবছর সে তার দলবল নিয়ে ভাই জাফর আলম প্রকাশ গোরামিয়ার দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাত ও মারধর করে। এ ঘটনায় উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ঐ মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। সে মূলত একজন পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী। শুধামাত্র প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে আমার নামটি সংযুক্ত করা হয়েছে। যেহেতু আমি আগামী ইউপি নির্বাচনে নিশ্চিত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হব জেনেই আমাকে আর্থিক, মানসিক ও পারিবারিকভাবে দূর্বল করার চেষ্টা করছে।

মামলার প্রধান আসামী ছৈয়দ নূরের পক্ষে গতকাল সকালে থানার বারান্দায় থানার আশেপাশে ও দোকানপাটে বেশকিছু কর্মী সমর্থক ও হিতাকাংকী দেখা গেছে। তারা বলছেন, ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ইয়াবার সাথে ছৈয়দ নূরের কোন সম্পৃক্ততা নেই। সে একজন এলাকায় হালাল ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত। তারা আরও বলছেন, গত ছয়মাস পূর্বেও প্রতিপক্ষরা এধরণের একটি ঘটনা করেছে। তারা ছৈয়দ নূরের ছাদের উপরে ইয়াবা রেখে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে খবর দিলে সেখান থেকে ৪৬ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় নাকি গুটি গুটি বৃষ্টি হচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতামত, যদি ঐ ইয়াবা ছৈয়দ নূরের হয়ে থাকে তাহলে বৃষ্টিতে ইয়াবা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংখায় সরিয়ে ফেলা হল না কেন?

২নং ওয়ার্ডের মেম্বার বখতিয়ার আহমদ জানায়, বর্তমানে সে ইয়াবার সাথে কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতা নেই। তার স্বাচ্ছন্দ জীবন নিয়ে চলার মতো যথেষ্ট সম্পত্তি রয়েছে। এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষি মহল তার জনসেবা মূলক কর্মকান্ড সহ্য করতে না পেরে তাকে পারিবারিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করার জন্য ইয়াবা উদ্ধার মামলায় জড়ানো হয়েছে। পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এই বখতিয়ার আহমদ শপথ অনুষ্ঠানের পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদে আসেনি। তাই সম্পর্কে আমার বলার কিছু নেই। তবে বড় ধরণের একটি ইয়াবার চালান উদ্ধারের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এধরণের কর্মকান্ডে সব ধরণের সহযোগীতা করার আশ্বাস দেন ঐ জননেতা।ি

এডিবি/ জেইউ।

Comments

comments

Posted ২:৩৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৩ আগস্ট ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(304 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com