রবিবার ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

উখিয়ায় কোরবানির পশুর হাট, ক্রেতাদের চাহিদা মাঝারি সাইজের গরু

শফিক আজাদ,উখিয়া   |   বুধবার, ০৭ আগস্ট ২০১৯

উখিয়ায় কোরবানির পশুর হাট, ক্রেতাদের চাহিদা মাঝারি সাইজের গরু

পবিত্র ঈদুল আযহার দিন গত ঘণিয়ে আসছে, জমিয়ে উঠছে কোরবানির পশুর হাট। উখিয়ার সর্ববৃহৎ গরু বাজারে এবার মিয়ানমার ও ভারতের গরুর চেয়ে দেশীয় গৃহপালিত গরুর সংখ্যা বেশি। ধর্মভিরু মুসলিম সম্প্রদায়ের কোরবানিতে পছন্দ এসব দেশীয় গরুর। দাম অনেক চড়া হলেও থেমে নেই বেচাকেনা। মঙ্গলবার থেকে মিয়ানমারের পশু আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে গরু বাজারে কঠোর নিরাপত্তা। ছিনতাই, ডাকাতিসহ যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
উখিয়ার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত কোরবানির পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, দুপুর পর্যন্ত ক্রেতার সংখ্যা কম থাকলেও বিকেলের দিকে বেড়েছে ক্রেতার সংখ্যা। যেসব ক্রেতারা এসেছে তারা গরুর দাম বেশি হলেও বেচাকেনা চলছে দেদারছে। কিন্তু বড় আকারের গরুর তুলনায় বাজারে অধিকাংশ ক্রেতাদের পছন্দ দেশীয় গৃহপালিত মাঝারি আকারের গরু।

নুরু মিয়া (৩৭) নামের এক ব্যক্তি ২টি মাঝারি সাইজের গরু এসেছেন বাজারে। ২টি গরুর দাম হাকা হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তার বাড়ী উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্বডিগলিয়াপালং গ্রামে। সে জানান, গরু ২টি রমযানের পরে সপ্তাহে ক্রয় করেছে ১লাখ ১০ হাজার টাকায়। সে ১০ হাজার টাকা গরুর খাদ্য,ওষুধ বাবৎ ব্যয় করেছে। একই কথা চাকৈবঠা এলাকার ছৈয়দ নুর(৪০)। এই সাইজের গরুর চাহিদা বেশি দাম ছেড়ে দিচ্ছেনা।

মিয়ানমার থেকে গত ১ সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজারে অধিক গরু নাফনদী পাড়ি দিয়ে নৌকায় করে এপারে এসেছে। এসব গরু গুলো স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলেছে। কোরবান পর্যন্ত স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত গরু ও মহিষের বাজারদর ধরে রাখতে (মঙ্গলবার ৬ আগস্ট) হতে মিয়ানমার থেকে সকল প্রকার গবাদি পশু আমদানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত গবাদিপশুর দরপতনের আশংকায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন।

তবে হঠাৎ করে মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমন্তের ওপারে আমদানির জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এপারে আনার জন্য মজুদ করে রাখা গবাদি পশু নিয়েও আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েছেন বলে টেকনাফের ক’জন আমদানিকারক জানিয়েছেন। এছাড়া মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি মঙ্গলবার থেকে বন্ধ থাকার ঘোষণায় স্থানীয় গবাদি পশুর বাজারেও তার বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহত্তর কক্সবাজার সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর বাজারমূল্য আবারও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

উখিয়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ সাহাব উদ্দিন বলেন, উখিয়া প্রতি বছর কোরবানির গরুর চাহিদা থাকে ১১ থেকে ১২হাজার। কিন্তু এবার স্থানীয় ভাবে ১৭হাজার গরু মোটাতাজা করণ করা হয়েছে। এতে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে গরু বিক্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্টির কারনে বিভিন্ন দাতা সংস্থার নিকট এসব গরু স্থানীয় ভাবে বিক্রির ও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণি সম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে পশুর হাট মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, প্রতি কোরবানির ঈদের ন্যায় গরু বাজারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে যাতে কোন প্রকার ছিনতাই,ডাকাতিসহ যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা নিরাপদ থাকে।

Comments

comments

Posted ২:০৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৭ আগস্ট ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com