রবিবার ১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

উখিয়ায় খতিয়ানভুক্ত জমিতে ঘর পুন: নির্মাণ করতে পারছেনা, শ্মশান দখলের নামে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি

দেশবিদেশ সংবাদদাতা   |   রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১

উখিয়ায় খতিয়ানভুক্ত জমিতে ঘর পুন: নির্মাণ করতে পারছেনা, শ্মশান দখলের নামে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি

নিজের বাপদাদার খতিয়ানভুক্ত ভিটে জমিতে পুনরায় বাড়ি নির্মান করতে পারছেনা উখিয়ায় এক পরিবার। উক্ত পরিবার তাদের পুরানো কাঁচা ঘর ভেঙ্গে পাকা ঘর তৈরি করা শুরু করেন। তখনি মিথ্যা অভিযোগ তুলে তারা শ্মশানের জমি দখল করে ঘর নির্মান করছেন বলে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। অথচ শ্মশান হচ্ছে উক্ত ঘর থেকে প্রায় ১০০ গজ দুরে। শ্মশান আর এই ঘরের মাঝখানে আরো ১০/১২টি ঘর রয়েছে। ১০০ গজ দুরে থাকা এবং আরো ১০/১২ ঘর বাদ দিয়ে শ্মশানের জায়গা রয়েছে বলে দাবি করে মিথ্যাচার করছে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি। তারা হিন্দু সমাজের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভুল বুঝিয়ে সত্যকে তালগোল পাকাচ্ছে এবং দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। সরেজমিনে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
উখিয়ার দারোগাবাজরের স্বনামধন্য মুন্সী বাড়ির মৃত জাকির হোসেন মুন্সীর পুত্র শাহাব উদ্দিন পিতার কাছ থেকে পাওয়া দুই শতক জমিতে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তখনি কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি উপজেলা ও জেলার হিন্দুদের ভুল তথ্য দেন। একইভাবে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভুল ব্যাখা দিয়ে কাজ থামিয়ে দেন। এরপর যারা পরিদর্শন করেছেন তারা অবাক হয়ে যাচ্ছেন, নির্মানাধীন ঘরটি মাঝখানে থাকা আরো ঘর ও খালি জায়গা বাদ দিয়ে প্রায় ১০০ গজ দূরে রয়েছে শ্মশান। বিষয়টি অতি বাড়াবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নয়। নাম প্রকাশে অনেক হিন্দু ব্যক্তি জানান, সম্প্রদায়ের মধ্যে এখানে যে সম্প্রীতি রয়েছে তা একটি দৃষ্টান্ত। অথচ কিছু ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে সম্প্রদায়ের মধ্যে মিথ্যাচার করছে। তাই উর্দ্ধতন হিন্দু নেতাদের সরেজমিনে এসে বিষয়টি সমাধান করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র এক পক্ষীয় বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নিলে তাতে ভুল থেকে যাবে এবং সম্প্রীতি বিনষ্ট হবে।

ইতোমধ্যে চক্রটি স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মাঝে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে নানা অপতৎপরতা চালানোরও অভিযোগ মিলেছে। এ নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সরেজমিনে উখিয়ার দারোগা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, উখিয়া ওয়ালা পালং মৌজার ৯১৬ নং খতিয়ানের ৬৮/৫২, ৬৮/৫১ ও ৭০/২৬ দাগের মোট ২৩ শতক জমি মৃত বাচা মিয়া সওদাগরের পুত্র মৃত জাকির হোসেন মুন্সীর নামে খতিয়ানভুক্ত। একই স্থানে বনবিভাগের প্রায় ২০ শতক জমি লাগোয়া রয়েছে। যা দীর্ঘ ১৫০ বছর ধরে বংশ অনুসারে মৃত জাকির হোসেন মুন্সীর ওয়ারিশরা ভোগদখলে রয়েছেন। তার উত্তর পাশে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশান ও পূর্ব পাশে রয়েছে কবরস্থান। আর চারপাশে রয়েছে মুসলমান ও হিন্দুদের বসতি।
মৃত জাকির হোসেন মুন্সীর ২৩ শতকসহ তাদের দখলে থাকা জমি ওয়ারিশ সুত্র পেয়ে সন্তানেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। সম্প্রতি মৃত জাকির হোসেন মুন্সীর পুত্র শাহাব উদ্দিন পিতার কাছ থেকে পাওয়া দুই শতক জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে বাঁধার সম্মুখিন হন।
মৃত জাকির হোসেন মুন্সীর পুত্র শাহাব উদ্দিন জানান, আমার পূর্ব পুরুষ এই জমিতে দীর্ঘ দেড়শ বছর ধরে ভোগদখলে রয়েছে। এ নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। কিন্তু সম্প্রতি আমার সন্তান জিয়াউর রহমানের জন্য আমার পিতার খতিয়ানভুক্ত জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে পাশের শ্মাশান পরিচালনা কমিটির কিছুলোক বাঁধা দেয়। তাদের দাবি আমরা শ্মশানের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করছি। যা রীতিমতো হাস্যকর বটে।
শাহাব উদ্দিন আরও জানান, এখানে দেড়শ বছর ধরে আমার প্রজন্মের বসবাস। এখানকার বাড়িগুলোও শতবছরের পুরোনো। তাই পুরোনো বাড়ি ভেঙ্গে নতুন করে তৈরির উদ্যোগ নিতে গিয়ে এমন উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। শ্মশান পরিচালনা কমিটি এই বিষয়ে উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী ও উখিয়া সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান বরাবর অভিযোগ দেয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা গিয়ে স্পষ্ট করে জমির খতিয়ান নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছি। উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নিজেই সরেজমিনে জমি পরিদর্শন করতে এসে অভিযোগের সত্যতা পায়নি। অভিযোগের আলোকে উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী ও উখিয়া সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান আমাদের দখলে থাকা জমি থেকে কিছু অংশ ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা জমির কিছু অংশ ছেড়ে দেয়ার আশ^াস প্রদান করি। কিন্তু তবুও শ্মশান পরিচালনা কমিটির কিছু ব্যক্তি উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী ও উখিয়া সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খানের কথাও অগ্রাহ্য করে। বার বার তারা বিভিন্ন ব্যক্তিদের পাঠিয়ে আমাদের বিষয়টি সমঝোতা করার প্রস্তাব দিচ্ছেন। কিন্তু সমঝোতার কথা বলেও তারা নানা তালবাহানা করছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে কানাঘুষা চলছে।
শাহাব উদ্দিনের পুত্র দুবাই প্রবাসী জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদের বাড়ির পূর্বে পাশের্^ অবস্থিত কবরস্থান পরিচালনা কমিটি জমি নিয়ে কিছু বলছে না। কিন্তু আমাদের বাড়ি ও জমি থেকে উত্তর পাশের্^ প্রায় ১০০ গজ দূরে অবস্থিত শ্মশান। সেখানে কিভাবে শ্মশানের জায়গা আসলো তা সবার অজানা। মূলতঃ একটি চিহ্নিত চক্র শ্মশান পরিচালনা কমিটিকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের জমি আত্মসাতের পাঁয়তারা করছে। যা সভ্য সমাজে কখনো কাম্য নয়।
দারোগা বাজারের স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, মৃত বাচা মিয়া সওদাগর ও মৃত জাকির হোসেন মুন্সীসহ তাদের পুরো পরিবারের সাথে আমাদের সম্প্রীতির সম্পর্ক বিদ্যামান। আমাদের বাপ-দাদারাও তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো। যোগ দিতো তাদের বিভিন্ন পারিবারি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে। এখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সুখ-দুঃখে তারা সবসময় পাশে থাকতো। অনেক অসহায় পরিবারের মেয়েদের তারা নিজ অর্থে বিয়েও দিয়েছেন। কিন্তু আজ তাদের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের কতিপয় স্বার্থন্বেষী ব্যক্তি ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। শ্মশানের অধিকাংশ জমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে দোকান, মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এই দখলদারদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলে না। এই ঘটনার নেপথ্যে কারা কলকাঠি নাড়ছে তা খতিয়ে দেখা দরকার।
দারোগা বাজারের এলাকাবাসী জানায়, সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এই মুন্সী বাড়ি। তাদের ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমিতে বসবাস ও ভোগদখলে আছে। কিন্তু অজানা কারণে এই পরিবারের বিরুদ্ধে চলছে গভীর ষড়যন্ত্র। আমরা এলাকার সাধারণ মানুষ তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে উখিয়া সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান বলেন, কিছুদিন আগে কিছু মানুষ রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে আমি গিয়ে তাদের সরিয়ে দিই। তারা তখন আমাকে এই বিষয়টি জানান। রেকর্ডপত্রে ওখানে পাশের জমি বনবিভাগের ২নং খতিয়ানের। কিন্তু জমি এখনো পরিমাপ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বিচারাধীন রয়েছে।
উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, শ্মশান আর ঘর অনেক দূরে রয়েছে। এসব জমি বনবিভাগের। কিছু জমি খতিয়ানভুক্ত। শ্মশান জমি দখল হলে আমরা নিজেরা আগে গিয়ে জায়গা উদ্ধার করে দেব। কিন্তু শ্মশান আর ঘরের দুরুত্ব দেখে অন্যকিছু মনে হচ্ছে। এখানে তৃতীয় কোন পক্ষ তাদের সুবিধা নিচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। এই বিষয়ে দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

Comments

comments

Posted ৬:৩০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(124 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com