রবিবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

উখিয়ায় ৬০ টাকার কমে মিলছে না সবজি

  |   মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর ২০২০

উখিয়ায় ৬০ টাকার কমে মিলছে না সবজি

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া
সবজির ভরা মৌসুমেও উখিয়ার হাটবাজার গুলোতে কমছে না সবজির দাম। পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের দামও বাড়িয়ে নিতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার উখিয়ার বৃহত্তম দারোগা বাজার ঘুরে দেখা গেছে সর্বনি¤œ কেজি প্রতি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন রকমের তরিতরকারি। সর্বোচ্চ সবজি টমেটোর দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫০ টাকা। বিক্রেতারা জানালেন, অসময়ের বৃষ্টি অধিকাংশ সবজি ক্ষেতে ভাল ফলন হয়নি। যে কারণে চাহিদার তুলনায় সবজি উৎপাদন হয়নি বিধায় অন্যান্য বছরের তুলনায় তরিতরকারির দাম বেড়েছে।
রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বাজারগুলো ছাড়া স্থানীয় বাজারগুলোতে তরিতরকারির দাম আকাশ পাতাল তপাৎ এর কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া বাজারের সবজি ব্যবসায়ী ছালামত উল্লাহ, নুর আলম জানালেন, আগে শহরের খাতুনগঞ্জ, সাতকানিয়া, কেরানীহাট, আমিরাবাদ এলাকার বড় বড় আড়ৎ থেকে উখিয়ার ব্যবসায়ীরা সরাসরি সবজি সরবরাহ করতো। বর্তমানে তা আর হচ্ছে না। এসব আড়ৎ গুলো এখন রোহিঙ্গা বাজারমুখী হওয়ার কারণে স্থানীয় বাজারের চাইতে রোহিঙ্গা বাজারে প্রতিটি তরকারির বিপরীতে ৫/১০ টাকা কমে সবজি মিলছে।
উখিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০টাকা দরে। এছাড়া পেপে ৬০ টাকা, লাউ ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, সিম ১২০টাকা, আলু ৬০ টাকা, চিচিংগা ৭৫ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৬৫ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তরকারি ব্যবসায়ীরা জানান, হাটবাজারে সবজির দাম বাড়তির নেপথ্যে মাত্রাতিরিক্ত চাহিদা বেড়েছে বলে দাবী করেন। তারা আরো জানান, রোহিঙ্গারা কুতুপালং বাজার ছাড়াও উখিয়ার বিভিন্ন হাটবাজারে এসে নিত্যপণ্য ক্রয় করতে দেখা গেছে।
এদিকে নিত্যপণ্যের দোকান গুলোতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা দরে। তবে খুচরা দোকানে তার চাইতে আরো বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। মোটা চাল কেজি প্রতি ২/৩ টাকা ও চিকন চাল কেজি প্রতি ৫/৬ টাকা দরে বেড়েছে। দোকান গুলোতে পণ্য মূল্যের তালিকা থাকলেও দাম লেখা নেই। জানতে চাওয়া হলে বাবুল নামের এক ব্যবসায়ী জানালেন, কখনো বাড়ে কখনো কমে তাই দাম লেখা হয়নি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ হাটবাজার গুলোতে প্রশাসনের কোন নজরদারি না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো গলাকাটা দাম আদায় করছে। মাছ, মাংসের বাজারেও একই অবস্থা। এসব বাজারে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের পাশে থাকা দালাল চক্র তাদের ইচ্ছামতো দাম হাকছে আর আদায় করছে। মাঝে মধ্যে কাঁচা মাছ ওজনে ভারী করার জন্য পানি ছিটাচ্ছে। প্রশাসন নিত্যপণ্য ওজনের জন্য আধুনিক পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিলেও হাটবাজার গুলোতে তা মানা হচ্ছে না। মানন্ধাতা আমলের দাড়ি পাল্লা ব্যবহার করে ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বেশ কিছু সংখ্যক খুচরা বিক্রেতা অভিযোগ করে জানালেন, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ইজারা আদায় করা হচ্ছে। সরকারি ভাবে ইজারার পণ্য ও দাম সম্বলিত তালিকা টাঙ্গানোর কথা থাকলেও কেন টাঙ্গানো হয়নি জানতে চাওয়া হলে উখিয়া বাজার ইজারাদার তহিদুল আলম তহিদ সন্তোষজনক উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) আমিমুল এহসান খান জানান, কাজের চাপ বেশি হওয়ার কারণে তাকে আপাতত হাটবাজার পরিদর্শন বা মনিটরিং করা থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে। তবে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তিনি অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ^স্ত করেন

Comments

comments

Posted ৮:২৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর ২০২০

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com