• শিরোনাম

    ইউএনএইচসিআর সহায়তা

    উখিয়া-টেকনাফের পিছিয়ে পড়া গ্রাম-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের ছোঁয়া

    বার্তা পরিবেশক | ০৮ জানুয়ারি ২০২০ | ১:২৪ অপরাহ্ণ

    উখিয়া-টেকনাফের পিছিয়ে পড়া গ্রাম-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের ছোঁয়া

    রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়দের জন্য শিক্ষা ,যোগাযোগ, বাসস্থানসহ বিভিন্ন্ ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করে আসছে আর্ন্তজাতিক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সহ বিভিন্ন আইএনজিও গুলো।
    দুবছর আগে মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা লাখ লাখ ভয়ার্ত রোহিঙ্গার ঢল নেমেছিল বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলের সৈকতে।
    তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল শিশু। তারা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছিলেন রাখাইনে বীভৎস আক্রমনের কথা; আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি ও প্রতিবেশীদের হারানোর কথা।
    মিয়ানমারের সীমানার অদূরে, বাংলাদেশের কক্সবাজারের পাহাড়গুলোতে গাদাগাদি করে বাস করে প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা। পাহাড়ি বনভূমি উন্মুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই আশ্রয় শিবির। পার্শ্ববর্তী টেকনাফ ও উখিয়াতেও গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ক্যাম্প।
    বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশীরভাগ, প্রায় ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা এসেছে ২০১৭ সালের আগস্টের শেষের দিকে রাখাইনে বড় মাপের সহিংসতা শুরু হবার পর। বাকিরা পাড়ি দিয়েছিলেন আগেই, বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন এড়াতে।
    বাংলাদেশের সরকারের নেতৃত্বে, এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন দেশের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে এড়ানো গেছে অনেক বড় বিপর্যয়। জরুরি অবস্থা প্রথম থেকেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রান ও মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য কাজ করেছে ইউএনএইচসিআর ও বিভিন্ন বেসরকারি ও দাতা সংস্থা। সঙ্কটের প্রথম দিনগুলোর চরম বিশৃঙ্খলা পার করে অনেক দূর এগিয়ে এসেছে বলে মনে করেন সাধারণ জনগন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবির ও তাদের প্রতিবেশী বাংলাদেশীদের জীবনে নেমে এসেছে এক ধরনের স্বাভাবিকতা। কিন্তু এই স্বাভাবিক অবস্থা সবসময় টিকবার নয় বলেও জানান তারা।
    প্রথম কয়েকদিন বাংলাদেশ সীমান্ত বাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করলেও পরে তাদের প্রবেশ করতে দেয়। এর পর থেকেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।
    শুরু হয় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ¯্রােতের মত রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশে প্রবেশ। নাফ নদী পার হয়ে ছোট ছোট নৌকায় তারা আসতে থাকেন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা। হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান জনগোষ্ঠী আশ্রয় নেয় বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বের জেলা কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায়। তার মধ্যে টেকনাফ এবং উখিয় অন্যতম।
    রোহিঙ্গারা আসতে থাকলে স্থানীয় সাংবাদিকরা œ বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরলে তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে আর এতেই সাহায্যের হাত বাড়ায় দেশে বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা। তার মধ্যে আর্ন্তজাতিক সাহায্য সংস্থা ইউএনএইচসিআর অন্যতম ভুমিকা রেখেছে বলে জানান তারা এবং আজ অবধি কাজ করে যাচ্ছে নিরলস ভাবে।
    তারা খাদ্য, বাসস্থান,যোগাযোগ ব্যবস্থা,সুপীয় পানি ব্যবস্থাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছে।রোহিঙ্গা আসার দুবছরে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় হোষ্ট কমিউনিটিদেরও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে ইউএনএইচসিআর । স্কুল নির্মান, স্কুল সংস্কার,রাস্তা নির্মান হোস্ট কমিউনিটিদের গৃহপালিত পশু পালনে উৎসাহিত করাসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমুলক কাজে অংশগ্রহন করেছে এবং স্থানীয়দেরও সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে বিভিন্ন কর্মকান্ডে।
    স্থানীয়দের সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হিসাবে, ইউএনএইচসিআর উখিয়া এবং টেকনাফের স্থানীয়দের জন্য বাস্তবায়ন করছে বিভিন্ন প্রকল্প বিগত দু’বছরের ৮৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করা হয়েছে বলে জানা যায়। তার মধ্যে উখিয়াতে ৩১ টি এবং টেকনাফে ৪৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্টানকে সহযোগিতা করে ইউএনএইচসিআর। আর এই সমস্ত প্রকল্প ব্র্যাক এবং এনজিও ফোরাম বাস্তবায়ন করেছে বলে জানান।
    ইউএনএইচসিআর এই পর্যন্ত স্থানীয়দের জন্য ৪টি কুইক ইমপ্যাক্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন । যার মধ্যে ২০১৭ সালে ৪১ এবং ২০১৮ সালে ৩৩ টি বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০১৯ সালে, ইউএনএইচসিআর উখিয়ার এবং টেকনাফের ২২০ দুর্বল পরিবার এবং প্রতিষ্ঠানগুলিকে আবাসন ইউনিট সরবরাহ করে। ২০১৯ সালে, ইউএনএইচসিআর ৩ হাজার ৫ শত হোস্ট কমিউনিটি পরিবারগুলিতে এলপিজি বিতরণ করা হয় এবং ৩০হাজার পরিবারকে এই সুবিধা দেওয়ার লক্ষ নিয়ে কাজ করছে।২০১৯ সালে, ইউএনএইচসিআর উখিয়া এবং টেকনাফের ৮হাজার হোস্ট কমিউনিটি পরিবারকে ১০০ কেজি করে চাউল বিতরণ করে ।
    ইউএনএইচসিআর উখিয়া এবং টেকনাফে জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং ব্র্যাক, মুক্তি কক্সবাজার এবং সিএনআরএসের মাধ্যমে ৬হাজার হোস্ট কমিউনিটি দরিদ্র ও অতি-দরিদ্র ৩ হাজার পরিবারকে প্রতিটি উপজেলায় সহায়তা করে আসছে। সমস্ত পরিবার উৎপাদনশীল সম্পদ সহ বছরব্যাপী তাদের সহায়তা করে আসছে ।
    এদিকে সরেজমিনে দেখা যায় টেকনাফের কানজর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয়েছে একটি একতলা বিশিষ্ট ভবন আর তাতে প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র ফ্যান ,বেন্জ, গাইড ওয়াল, গেইটসহ আদর্শ শ্রেণী কক্ষ নির্মান করা হয়।
    এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান স্কুলে প্রায় ৭শত ছাত্র ছাত্রী আমরা শ্রেণী কক্ষ সংকটে ছিলাম ঠিক তখনই ইউএনএইচসিআর ২০১৯ সালে ভবনটি নির্মান করে দেন।এখন সুন্দর ক্লাশরুম পেয়ে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাশ করছে আর শিক্ষকরা ক্লাশ নিচ্ছে আগের চাইতে ভালো ভাবে।
    আলহাজ¦ আলী আছিয়া স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মনিশংকর নাথ বলেন ২০১৮ সালে আমাদের স্কুলে ব্রাক ইউএনএইচসিআর এর অর্থায়নে ব্রাক এর সহযোগিতায় ক্লাসরুম সংস্কার, আসবাবপত্র, গেইট নির্মান, সিলিং ফ্যান, সুপেয় পানি ব্যবস্থা, ওয়াশরুম নির্মান, অস্থায়ী ক্লাশরুম সহ প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয় এখন আমরা আগের চাইতে ছাত্রছাত্রীদের অনেক সুবিধাভাবে পড়াতে পারছি। সহকারী প্রধান শিক্ষক আরো বলেন বর্তমানে এই স্কুলে কিছু সংখ্যক শিক্ষক কম থাকায় পাঠদানে কষ্ট হচ্ছে আশা করছি এইদিকেও নজর দিবেন তারা ।
    নাইক্ষ্যংখালী নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন রোহিঙ্গা আসাতে আমাদের যেমন ক্ষতি হয়েছে ঠিক তেমনি ক্ষতি লাঘবের চেষ্টা অব্যহত রেখেছে ইউএনএইচসিআর এই স্কুলটি প্রতিষ্টা হয় ১৯৯৮ সালে এর পর থেকে আমরা কোন ভবন করতে পারি নাই কিন্তু ইউএনএইচসিআর প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকা ব্যয় করে ব্রাকের সহযোগিতায় ৭৫ জোড়া বেন্জ ১৭টি ফ্যান , ও ওয়াশরুমসহ একটি টিনসেট ভবন নির্মান করে দিয়েছে, এতে স্কুলে প্রায় ৩৫০ জন ছাত্রছাত্রী সুন্দর পরিবেশে ক্লাশ করতে পারছে।
    টেকনাফের জেলে পাড়ার রাস্তা সংস্কারে এগিয়ে আসে ইউএনএইচসিআর এতে সুবিধা ভোগ করছে প্রায়২৫০ পরিবার।
    ব্রাকের ইউনিট ম্যানেজার নজরুল ইসলাম বলেন প্রায় ৩৩লক্ষ টাকা ব্যয় করে ইউএনএইচসিআর আমাদেও সহযোগিতায় ১৮ফুট ব্রিক সলিন রাস্তা নির্মান করে দেয়।
    গান্ধী দাশ বলেন আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় আমাদের সন্তাদের স্কুলে পাঠাতে পারতাম না এখন রাস্তা সংস্কার হওয়াতে আমাদেও সন্তানরা স্কুলে যেতে সুবিধা হয়েছে ও আমাদেও সকলের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা সুন্দর হয়েছে।
    পুষ্প রানী দাশ বলেন রাস্তা সংস্কারে আরো অনেক এনজিও আসছে ও আমাদের জেলে সম্প্রদায়কে সাহাজ্য সহযোগিতা করছে বিভিন্নভাবে।
    মনিবাসি দাশ বলেন আগে আমরা বর্ষাকালে শহরে যাতায়াতের জন্য কষ্টের শেষ ছিল না আজকে রাস্তাটি সংস্কার করায় আমাদের যাতায়াতের অনেক সুবিধা হয়েছে।
    টেকনাফের লেদা এলাকায় প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আরো একটি ২হাজার ফুট ব্রিক সলিন রাস্তা নির্মান করা হয়।
    হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়াম্যান রাশেদ মোঃ আলী বলেন ইউএনএইচসিআর কিছুটা কাজ করছে স্থানীয়দের জন্য আমার বাড়ির পাশে ফুলের ড়েইল এলাকায় তারা একটি ৩ শতফুট একটি ড্রেন নির্মান করেছে যা আমার ইউনিয়নের জন্য অত্যান্ত জরুরি ছিল।
    এসব বিষয়ে ইউএনএইচসিআর এর অফিসার সুব্রত কুমার চক্রবর্তী বলেন আমরা বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসিকে সহযোগিতা করে আসছি এতে রয়েছে স্কুল সংস্কার স্কুল নির্মান, রাস্তা সংস্কার, সেলাই মেশিন প্রদান,গৃহপালিত পশু প্রদান সহ বিভিন্ন উপায়ে তাদের সহযোগিতা করা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ