• শিরোনাম

    উচ্ছেদ আতংকে শহরের মোহাজের পাড়া-ঘোনারপাড়ার শতাধিক পরিবার

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ আগস্ট ২০২০ | ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

    উচ্ছেদ আতংকে শহরের মোহাজের পাড়া-ঘোনারপাড়ার শতাধিক পরিবার

    কক্সবাজার পৌরশহরের মোহাজের পাড়া- ঘোনারপাড়ার শতাধিক পরিবার উচ্ছেদ আতংকে রয়েছে। উচ্ছেদ আতংকে রয়েছে এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারও। দীর্ঘ ৩০/৪০ বছর ধরে বসবাস করা এসব ঘর উচ্ছেদ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও কক্সবাজার পৌরসভা পানির টাংকি করার জন্য সার্ভে করছে এমন খবর পেয়ে স্থানীয়রা উচ্ছেদ আতংকে দিনাতিপাত করছেন।
    সরেজমিনে জানা যায়, কক্সবাজার পৌর এলাকার ঘোনারপাড়া-মোহাজের পাড়ায় সরকারি ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গায় বসবাসরত শতাধিক পরিবার উচ্ছেদ আতংকে রয়েছেন। কক্সবাজার মৌজার বি,এস, ১ নং খাস খতিয়ানের বি,এস ৩৬১৯ দাগে ২. ৫৭ জমিতে ৩০/ ৪০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন স্থানীয় লোকজন। কিন্তু সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও কক্সাবাজার পৌরসভার সমন্বয়ে পৌর এলাকায় পানি সরবরাহের জন্য রিজার্ভ টাংকি করার জন্য বিনা নোটিশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারিদের উচ্ছেদ করার কাযক্রম শুরু করেছে। সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর উক্ত জায়গায় সার্ভে করে। এতে স্থানীয়দের মাঝে উচ্ছেদ আতংক বিরাজ করছে। ইতিপূর্বে ১৯৯৫ সালে উক্ত জায়গা হতে বসবাসকারিদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করলে তারা উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন করেন। যার নং রীট পিটিশন ২০৩০/১৯৯৯। এ মামলায় বসবাসকারিদের উচ্ছেদ না করার নির্দেশনা দিয়েছিল।
    এর দীর্ঘদিন পর আবারো এসব বসবাসকারিদের উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে জানিয়ে স্থানীয় এখানে বসবাসকারি মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে এই জায়গায় বসবাস করে আসছি। এখন পানির টাংকি বসানোর অজুহাতে উচ্ছেদ করা হলে এই বৃদ্ধ বয়সে পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে। তিনি জনবসতি এলাকায় পানি টাংকি না করে সরকারি কোন পরিত্যক্ত জমিতে টাংকি বসানোর জন্য কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। স্থানীয় রাজু বাবুর্চি , নির্মান শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, এমন করোনা সংকটের সময়ে কোন কার্জ কর্ম নেই। দীর্ঘ ৫ মাস কর্মহীন হয়ে খেয়ে না খেয়ে ঘরে বসে আছি। এখন যদি ঘর উচ্ছেদ করা হলে পরিবার পরিজন নিয়ে রাস্তায় মরতে হবে। স্থানীয় মো: মান্নান ও ইস্কান্দর জানান, বিনা নোটিশে এবং বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না করে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার জনগণকে উচ্ছেদ না করার জন্য বার বার বলেছেন। কিন্তু এখানে কোন প্রকার নোটিশ না দিয়ে এবং বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করার যে চেষ্টা তা গভীর ষড়যন্ত্র। তারা এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
    স্থানীয়রা এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাদের জানান, পৌরবাসীর পানি সংকটের প্রয়োজনে উক্ত জায়গায় পানির টাংকি স্থাপন করা হবে। আগে এই জায়গায় একটি পানির টাংকি রয়েছে। পানি সংকট নিরসনের প্রয়োজনে আশে পাশে স্থানীয়দের উচ্ছেদ করা হবে।
    কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এর নির্বাহী প্রকৌশলী ঋত্বিক চোধুরী জানান, কক্সবাজার শহরে বর্তমান তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। তাই পৌরবাসীর পানি সংকট নিরসন জরুরী হয়ে পড়েছে। শহরের কয়েকটি জায়গায় পানির টাংকি স্থাপন করা হবে। এখন যেখানে লোকজন বসবাস করছে তার পাশে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অদিধপ্তরের পুরানো পানি টাংকি রয়েছে। একই জায়গায় আরো বড় সাইজের নতুন পানির টাংকি স্থাপন করা হবে। তাই উক্ত জায়গায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সার্ভে করা হয়। এই সময় স্থানীয় জনগণ কিছু না বুঝে বাধা দেন। এরা সরকারি জায়গা দখল করেছে। তাদের জায়গার দলিল থাকলে তা দেখানোর জন্য বলা হয়েছে। জনগনের স্বার্থে পানি টাংকি করা হচ্ছে। টাংকি স্থাপনের কাজের সময় অবৈধভাবে বসবাসকারি কিছু পরিবারের ঘর ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে তাই এসব ঘর তারা নিজেরা সরিয়ে না ফেললে সরকারেরর সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে উচ্ছেদ করার ব্যবস্থা করা হবে।
    স্থানীয় বসবসাসকারিরা দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে বসবাস করছে বলে জানিয়ে বলেন, তারা প্রয়োজনে এখানে রক্ত দেবেন তবুও তাদের জমি ছাড়বেন না বলে জানান।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ