• শিরোনাম

    কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া)

    উন্নয়নের স্বার্থে জাফর আলমকেই নৌকার প্রার্থী চান ভোটাররা

    নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া | ০১ নভেম্বর ২০১৮ | ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

    উন্নয়নের স্বার্থে জাফর আলমকেই নৌকার প্রার্থী চান ভোটাররা

    বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদের প্রায় দশ বছরে কক্সবাজার-১ আসনের দুই উপজেলা চকরিয়া ও পেকুয়ায় এমপির বরাদ্দের দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন না ভোটাররা। এই সময়ের মধ্যে জেলার বাকী ৬ উপজেলায় যেভাবে উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে চকরিয়া ও পেকুয়ার বেলায় তা একেবারেই নগন্য। যার হিসেব সাধারণ ভোটাররাও কড়া-গ-ায় রাখছেন।
    তাদের মতে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় এমপি হয়ে যান জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মৌলভী মোহাম্মদ ইলিয়াছ। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর গত পাঁচ বছরে এলাকায় দৃশ্যমান কোন উন্নয়নই করতে পারেননি ইলিয়াছ। সরকারিভাবে যেই পরিমাণ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন সেই টাকায় এলাকায় কি উন্নযন করেছেন তাও দৃশ্যমান দেখছেন না ভোটাররা। তবে এলাকায় ছোট-খাটো যেসব উন্নয়ন হয়েছে তা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলমেরই করা। অভিযোগ রয়েছে, গত ৪ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশের মতো চকরিয়া ও পেকুয়ায় চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা ব্যাপক কর্মসূচীর মাধ্যমে পালন করা হয়। এলাকায় উন্নয়নের চিত্র নিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর স্টল দিলেও এমপির পক্ষ থেকে দুই উপজেলার উন্নয়ন মেলায় কোন স্টলই দেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আসলে গত ৫ বছরে এখানে তিনি কোন উন্নয়নই করেননি। এ কারণে উন্নয়ন মেলায় এমপির পক্ষ থেকে স্টল দেওয়া তো দূরে থাক, এক মুহূর্তের জন্যও উন্নয়ন মেলায় উপস্থিতও হননি তিনি।
    এক্ষেত্রে সাধারণ ভোটারদের দাবি, কক্সবাজার-১ আসনে যদি নৌকা তথা আওয়ামীলীগের এমপি থাকতেন তাহলে উন্নয়নে পাল্টে যেত পাড়া-গাঁও। কিন্তু চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষের ওপর বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত এমপি জগদ্ধল পাথরের মতো চেপে বসায় উন্নয়ন তো দূরে থাক, সাধারণ মানুষও কাঁছে ভিড়তে পারেননি। এই অবস্থায় সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও যদি জাতীয় পার্টিকে এই আসন ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে বরাবরই উন্নয়ন বঞ্চিত হবেন চকরিয়া ও পেকুয়ার প্রায় সাত লাখ মানুষ।
    সরকারের উন্নয়নের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ভোটাররা বলছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসনে আওয়ামীলীগ তথা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চান তারা। এসব ভোটার এবার নৌকায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৫ বছরের পরাজয়ের গ্লানিও ভুলতে চান। এজন্য নৌকাকে বিজয়ী করতে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে আছে এখানকার উন্নয়ন সচেতন মানুষ।
    এসব মানুষের দাবি, আওয়ামীলীগ এমন প্রার্থীকে বেঁচে নেবে প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ নির্বাচনে যার হাত দিয়ে নৌকা প্রতীক বিজয়ী হয়ে আসতে পারবে। বিপরীতে এই আসনে মহাজোটভূক্ত অন্য দলের জনসমর্থনহীন প্রার্থীকে আর চাননা।
    সম্প্রতি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় ‘নির্বাচনী প্রচার’ দলের সড়কপথে কক্সবাজার যাত্রাকালে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আগত সাধারণ নারী-পুরুষ ভোটাররা এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। উন্নয়ন সচেতন অনেক ভোটার এমনও বলেছেন যে, তারা আর বিনা ভোটের এমপি চান না। ভোটের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের যে প্রার্থী জিততে পারবে এবং যার নেতৃত্বে গত একযুগ ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠ দখলে রয়েছে তার হাতেই যেন নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়। আর তা হলেই স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এই আসনটি আওয়ামীলীগের জেতার সম্ভাবনা রয়েছে।
    উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের টুটিয়াখালী পাড়ার পঞ্চাশোর্ধ রমজান আলী বলেন, ‘বর্তমান সরকার মহেশখালীর মাতারবাড়ি থেকে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাসেরদিঘী পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটারের ছয় লেনের একটি বিশেষায়িত সড়ক নির্মাণ করতে যাচ্ছেন বলে শুনেছি। এই সড়কটি যদি সত্যিই নির্মাণ হয় তাহলে আমরা আর গরীব থাকব না। অন্যান্য এলাকার মতো আমাদের বদরখালীর চেহারাও পাল্টে যাবে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটবে। শতবছরের দুঃখগাঁথা চিংড়িজোনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চিরতরে বন্ধ হবে। এছাড়া সড়কটিই হয়ে উঠবে উপকূলের রক্ষাকবজও। এজন্য আমি এবার নৌকায় ভোট দিতে চাই।’
    তিনি জানান, ইতোপূর্বেকার সংসদ নির্বাচনগুলোতে আমি ভোট দিয়েছিলাম অন্য দলকে। চকরিয়ার সিংহভাগ ভোটারও একই দলকে ভোট দিয়ে বার বার এমপি নির্বাচিত করেছিল। এর সুবাদে মন্ত্রী পর্যন্তও হয়েছিল। কিন্তু চকরিয়ায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে।’
    তিনি বলেন, ‘শুধু আমি নই, আমাদের এলাকার প্রায়ই ভোটারের ইচ্ছে এবার নৌকায় ভোট দেওয়ার। এজন্য এমন প্রার্থী চান যিনি প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবে।’
    চিরিঙ্গা ইউনিয়নের দুর্গম চিংড়িজোন এলাকা চরণদ্বীপের ভোটার দবিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যদি আওয়ামীলীগের এমপি পেতাম তাহলে উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে যেত এলাকার চেহারা। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের বিনাভোটে এমপি নির্বাচিত হয়ে গিয়ে ইলিয়াছ এলাকায় কোন উন্নয়নই করতে পারেননি। তবে ঠিকই নিজের উন্নয়ন করতে পেরেছেন তিনি। গত ৫ বছরে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। তাই এবার আওয়ামীলীগ থেকে প্রার্থী দেওয়া হলে উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট দেব।’
    পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ারদিয়ার ফজলতুন নাহার (৪০) বলেন, ‘কক্সবাজার-১ আসনে এবার নৌকার প্রার্থী দিতে হবে। আমরা আর উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত থাকতে চাইনা। গত ৫ বছরে এলাকায় কোন উন্নয়নই করতে পারেনি বর্তমান এমপি। আশা করি, আমরা এমন একজনকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে পাবো যার নেতৃত্বে নৌকার বিজয় ঘরে আসবে।’
    সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চকরিয়ার সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম শাহাবুদ্দীন বলেন, ‘উন্নয়নের পক্ষে এবার নৌকায় ভোট দিতে এখানকার মানুষ ঐক্যবদ্ধ। বিশেষ করে চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ এবার সত্যিই পরিবর্তন চায়। কেননা যার দ্বারা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে তাকেই যেন নৌকা প্রতীক দিয়ে নির্বাচনী মাঠে পাঠানো হয়। তবে অন্য কোন দলকে এই আসন ছেড়ে দেওয়া হলে তা আওয়ামীলীগের জন্যই বেশি ক্ষতির কারণ হবে।’
    চকরিয়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আনোয়ারুল হাকিম দুলাল (৭০) বলেন, ‘চকরিয়া ও পেকুয়ায় জাফর আলমের হাত ধরে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাই উন্নয়নের স্বার্থে এবং স্বাধীনতা পরবর্তী এই আসনে জয় পেতে হলে এই আসনে আওয়ামীলীগকে প্রার্থী দিতে হবে।’

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ