• শিরোনাম

    স্থানীয়দের আত্মীয় সাজিয়ে রোহিঙ্গারা পাসপোর্টের আবেদন করছে

    একান্ত সাক্ষাৎকারে পাসপোর্ট অফিসার আবু নাঈম মাসুম

    | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১:০১ পূর্বাহ্ণ

    একান্ত সাক্ষাৎকারে পাসপোর্ট অফিসার আবু নাঈম মাসুম

    আবু নাঈম মাসুম। কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সহকারি পরিচালক মর্যাদার এই কর্মকর্তা ২০১৬ সালের ৬ জুন কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যোগদান করেন। এরপর দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে নিজগুণে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা যেমন অর্জন করেছেন। তেমনি তাঁর সমালোচনাও কম হয়নি। সম্প্রতি কক্সবাজার থেকে বদলি হয়েছেন। বিদায়ের প্রাক্কালে ২ ফেব্রুয়ারি সকালে নিজ কার্যালয়ে বসে দৈনিক আজকের দেশবিদেশকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন অনেক না বলা কথা। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন দৈনিক আজকের দেশবিদেশ’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শহীদুল্লাহ্ কায়সার ।
    দৈনিক আজকের দেশবিদেশ ঃ কেমন আছেন ?
    আবু নাঈম মাসুম ঃ ইন্শাআল্লাহ্ ভালো আছি।
    দৈনিক আজকের দেশবিদেশ ঃ কক্সবাজারে চাকরি জীবন কেমন লেগেছে ?
    আবু নাঈম মাসুম ঃ এই সাড়ে তিন বছরের চাকরি জীবন আমার কাছে অনেক চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে। কেননা এই দেশের অন্যান্য জেলা থেকে কক্সবাজার সম্পূর্ণ আলাদা। এই জেলায় নতুন পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা আছে। তাদের মাঝেই স্থানীয়দের সেবা দেয়ার বিষয়টি জটিল ছিলো। তবে, সব মিলিয়ে আমরা সফল হয়েছি। বিশেষ করে আমাদের জাতীয় যে স্বার্থ অর্থাৎ কোন রোহিঙ্গা যাতে বাংলাদেশের পাসপোর্ট না পায় সেই বিষয়ে আমরা শতভাগ সফল।
    দৈনিক আজকের দেশবিদেশ ঃ কক্সবাজার এসে প্রথম কোন্ কোন্ সমস্যা আপনাকে মোকাবেলা করতে হয়েছে ?
    আবু নাঈম মাসুম ঃ কক্সবাজার এসেই প্রথমে আমাকে সংঘবদ্ধ একটি দালালচক্র মোকাবেলা করতে হয়। পাসপোর্ট পত্র লেখক সমিতির নামেই এই চক্র দালালি করতো। অবিশ^াস্য হলেও সত্য এই সংগঠন রেজিস্টার্ড। যার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ১৭৪৪/’১৯। এদের নিজস্ব স্টেক হোল্ডার রয়েছে। যারা জেলার বিভিন্ন স্থানে দালালি কার্যক্রম পরিচালনা করতো। তাদের দমন করতে আমাকে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়।
    দৈনিক আজকের দেশবিদেশ ঃ রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সহযোগিতা করছে বলে মনে করেন কি ?
    আবু নাঈম মাসুম ঃ এই ধরনের কোন প্রমাণ আমার কাছে নেই। তবে, যদি বলেন রোহিঙ্গারা ডকুমেন্টেড ওয়েতে এসেছিলো কিনা তাহলে বলবো, রোহিঙ্গা যারাই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছে। সবাই জাতীয়তা সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে। জ্ঞাতসারে নাকি অজ্ঞাতসারে এটি হয়েছে সেটি সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা বলতে পারবেন।
    দৈনিক আজকের দেশবিদেশ ঃ আপনি কি মনে করেন এই অফিস বর্তমানে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত ?
    আবু নাঈম মাসুম ঃ আমি মনে করি এই অফিস বর্তমানে সম্পূর্ণ দালাল এবং হয়রাণিমুক্ত। সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত মাইকিং করে জনগণকে দালালের ব্যাপারে সজাগ করা হয়। ফলে জনগণ বুঝতে পারছে এই অফিস দালাল মুক্ত। এই অফিসে আবেদনকারি ছাড়া অন্য কারো প্রবেশের সুযোগ নেই। কেউ অফিসে এলেই পাসপোর্ট করার যাবতীয় কার্যক্রম বুঝিয়ে দিচ্ছি। এমনকি সত্যায়িত করার বিষয়টিও শিখিয়ে দিচ্ছি। যে কেউ ইচ্ছা করলেই সরাসরি আমার কাছে চলে আসতে পারছেন। ফলে মধ্যস্থলে কারো এসে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। আবেদনপত্র জমা দিলেই তা আমরা সরাসরি পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি। সেখান থেকে ইতিবাচক রিপোর্ট এলেই ঢাকায় পাসপোর্টের জন্য পাঠিয়ে দেয়। অর্থাৎ এখানে সময় ক্ষেপণের কোন সুযোগ নেই।
    আপনি জানেন পাসপোর্ট প্রিন্ট হয় ঢাকায়। সেখান থেকে এলেই আমরা এস.এম.এস এর মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের সেই তথ্য জানিয়ে দেয়। এরপরই পাসপোর্ট তুলে দেয়া হয়। তবে, পাসপোর্ট সরবরাহের বিষয়টি ব্যক্তির উপর নির্ভর করে।
    দৈনিক আজকের দেশবিদেশ ঃ দ্রত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করে একটি পাসপোর্ট সম্পন্ন করতে কতো সময় লাগে ?
    এখানে তিনটি কাজ। আমাদের কার্যালয় থেকে প্রথমে ফাইল যায় পুলিশের কাছে। সেখান থেকে পজিটিভ রিপোর্ট (ইতিবাচক প্রতিবেদন) এলে আমরা ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। ঢাকায় প্রিন্টিং এর ক্ষেত্রে আমাদের কোন হাত নেই। পুলিশ অনেক সময় রিপোর্ট দিতে অপারগ। এই ক্ষেত্রে তিনটি কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেই পাসপোর্ট দেয়া সম্ভব। তবে, কার্যালয় থেকে আমাকে বলা হয়েছে, ১১ কার্যদিবসের মধ্যে জরুরী এবং ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে সাধারণ পাসপোর্ট সরবরাহ করতে হবে।
    দৈনিক আজকের দেশবিদেশ ঃ আপনাকে বাদ দিলে এই অফিসে কর্মরতরা বর্তমানে কতটুকু দালালের প্রভাবমুক্ত বলে মনে করেন ?
    আবু নাঈম মাসুম ঃ আমি মাঝে মাঝে তাঁদের মোবাইল ফোন চেক করি। দালালদের সাথে সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি। শুধু একজন কর্মকর্তার পক্ষে একটি অফিস সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব নয়। তাঁরা সহযোগিতা করেছেন বলেই পাসপোর্ট অফিস দালাল এবং হয়রাণিমুক্ত। তাছাড়া দালালি করতে সময়ের প্রয়োজন যা পাসপোর্ট অফিসে কর্মরতদের নেই। সকাল ৯টায় অফিসে প্রবেশ করে বিকেল ৫ টায় অনেক সময় সন্ধ্যা ৭ টা অফিস থেকে বের হন তাঁরা।
    দৈনিক আজকের দেশবিদেশ ঃ নির্বাচন অফিসের সার্ভারের সাথে পাসপোর্ট অফিসের সার্ভারের সমন্বয় আছে কি ?
    আবু নাঈম মাসুুম ঃ না এখনো সমন্বয় নেই। সমন্বয় থাকলে রোহিঙ্গা শনাক্ত করতে আমাদের কোন সমস্যা হতো না। সবাই মনে করে নির্বাচন কমিশন এবং পাসপোর্ট অফিস এই দুই কার্যালয়ের সার্ভারের সমন্বয় প্রয়োজন। যেহেতু এটি কল্যাণকর। তাই আমি চাই এটি হোক। এটি করা হলে রোহিঙ্গা শনাক্ত করতে আমদের ঘুম হারাম করতে হতো না।
    দৈনিক আজকের দেশবিদেশ ঃ সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আপনাকে কেন্দ্র করে বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। গুটি কতেক মানুষ বিপরীত প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করছেন। এই বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি ?
    আবু নাঈম মাসুম ঃ পাসপোর্ট একটি জনমুখী সেবা। প্রতিদিন আমাকে ৪ থেকে ৫’শ লোকের সঙ্গে কথা বলতে হয়। কক্সবাজার একটি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা। এখানে একজন রোহিঙ্গাকে জেরা করতে অনেক সময় আমাকে ২ ঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। কারণ তারা সহজে নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করতে চায়না। ফলে তখন মন মেজাজ ভালো থাকে না। ওই সময় কেউ এলে আমি তাঁকেও সেবা দিয়েছি। তবে, হাসিমুখে সেই সেবা দিতে পারিনি। সেই কারণে মনক্ষুণœ হয়েছে।
    অন্য কারণ হচ্ছে, বিভিন্ন সময় পরিবেশ পরিস্থিতি ভিন্ন থাকতে পারে। কেউ যদি মনে করেন অফিসার কথা বলতে পারেন না। সেটি তাঁদের ব্যাপার। তাঁরা যদি আমার চেয়ারে বসতেন তাহলেই প্রকৃত বিষয় বুঝতে পারতেন। আমি স্বীকার করছি, চা না খাওয়ানোর ব্যর্থতা হলে সেটিই আমার ব্যর্থতা। কখনো কোন মানুষ একশ ভাগ খাঁটি হতে পারে না। ভালো-মন্দ মিলিয়ে মানুষ।
    দৈনিক আজকের দেশবিদেশ ঃ কর্মস্থল পরিবর্তনকালে উত্তরসূরীর জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ কি রেখে যাচ্ছেন ?
    আবু নাঈম মাসুম ঃ আমার উত্তরসূরি একজন যোগ্য মানুষ। আমি তাঁর জন্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সক্ষম সেই রকম একটি অফিস রেখে যাচ্ছি। তিনি যদি বর্তমান নিয়ম অনুসরণ করেন তবে, অফিস ঠিকভাবে চলবে। পাশাপাশি তাঁর নিজ মেধা দিয়ে উদ্ভাবিত পদ্ধতি প্রয়োগ করলে কোন রোহিঙ্গা কক্সবাজার থেকে পাসপোর্ট পাবে না। স্থানীয় জনগণ অনায়াসেই পাসপোর্ট পাবেন।
    দৈনিক আজকের দেশবিদেশ ঃ আপনাকে ধন্যবাদ
    আবু নাঈম মাসম ঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ