মঙ্গলবার ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

* মহেশখালীর তরুনী গণধর্ষণের ঘটনায় ৪ ধর্ষকের আদালতে স্বীকারোক্তি * ঘটনা ধামাচাপা দিতে খতিজা মেম্বার ৭৫ হাজার ও লিয়াকত মেম্বারের ৩৬ হাজার টাকা সংগ্রহ * ঘটনার সময় ধর্ষিতা তরুনী বার বার পানি চাইলেও আমরা দিইনি

একে একে ১৫ বখাটে সারারাত ধরে গণধর্ষণে লিপ্ত হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৯ জুলাই ২০১৯

একে একে ১৫ বখাটে সারারাত ধরে গণধর্ষণে লিপ্ত হয়

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণের ঘটনাটির কথা অকপটে স্বেচ্ছায় স্বীকার করে ৪ জন ধর্ষক গতকাল রবিবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ধর্ষকরা মহেশখালীর জ্যেষ্ট বিচারিক হাকিম রাজিব কুমার বিশ্বাসের কাছে প্রদত্ত জবানীতে ঘটনার বিভৎসতা এবং ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছেন। ধর্ষকরা বলেছেন, তারা ঘটনার রাতে একে একে ১৫ জন বখাটে তরুণীকে ধর্ষণ করেছেন। ধর্ষণের সময় হতভাগি তরুণী তৃঞ্চা মেটানোর জন্য ধর্ষকদের হাতে পায়ে ধরে পানি চাইলেও এক ফোটা পানিও তারা দেননি-এমন কথাও স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতার হওয়া ৪ ধর্ষককে পুলিশ মুখোমুখি করলে ঘটনার বিবরণ দিয়ে তারাই একে অপরকে ঘায়েল করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তারাই একে একে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানাতে থাকে কে কতবার করে তরুণীকে ধর্ষণ করেছে। এমনকি লাইনম্যান ওসমান এতদিন ঘটনাটি নিয়ে সাধু সাজলেও গতকাল আদালতেই ৪ ধর্ষক বলেছে-ওই সাধু ওসমানও সেই রাতে ৩/৪ বার করে তরুণীকে ধর্ষণ করেছিল।
আদালতে দেয়া জবানীতে তারা বলেছেন, পরবর্তীতে ধর্ষণের ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে স্থানীয় নারী ইউপি মেম্বার খতিজা বেগম এবং মেম্বার লিয়াকত আলীও মূখ্য ভুমিকা পালন করেছেন। এমনকি নারী ইউপি মেম্বার খতিজা বেগম ঘটনা ধামা চাপা দিতে ধর্ষকদের নিকট থেকে নগদ ৭৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। সেই সাথে লিয়াকত আলী মেম্বারও ধর্ষকদের কাছ থেকে ৩৬ হাজার টাকা নেন। দুই ইউপি মেম্বার বর্তমানে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার গ্রেফতার করেন ৩ জন ধর্ষককে। গ্রেফতার হওয়া ধর্ষকরা হচ্ছেন, ওসমান, লাইনম্যান রশিদ ও করিম। তারা সবাই স্থানীয় বখাটে। গ্রেফতারের পর পরই তারা পুলিশের কাছে ঘটনার কথা স্বীকার করেন। এর আগে গ্রেফতার হওয়া বখাটে মনু মিয়াকেও নেয়া হয় রিম্যান্ডে। তারা ৪ ধর্ষকই গতকাল আদালতে জবানবন্দীতে প্রত্যেকেই ওই তরুণীকে একাধিকবার করে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেন।
ঘটনার পর ধর্ষকের সংখ্যা ১৪ জন বলে বলা হলেও গতকাল প্রদত্ত জবানবন্দীতে ধর্ষকরা নিজেরাই স্বীকার করেছেন তারা একে একে ১৫ বখাটে তরুণীকে ধর্ষণ করে। থানার ওসি জানান, মামলার পর গ্রেফতার হওয়া দুই ইউপি মেম্বারকেও রিম্যান্ডে নেয়া হবে। ওসি আরো জানান, লিয়াকত মেম্বার হচ্ছেন ওই এলাকাটির অপরাধ জগতের একজন মাষ্টার মাইন্ড। খতিজা তার চাইতেও আরো এক ধাপ এগিয়ে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর জানিয়েছেন, দ্বীপের কালারমারছড়া ইউনিয়নের পরিষদের কতিপয় মেম্বার ও ধর্ষকরা মিলে টানা ৫ দিন ধরে তরুণী গণধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে রাখেন। ধর্ষিতা তরুণী চট্টগ্রাম শহরের এক ব্যক্তির ঘরে গৃহপরিচারিকার হিসাবে ছিলেন। তার মা থাকেন মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে। মাকে দেখার জন্য চট্টগ্রাম শহর থেকে মহেশখালী দ্বীপে এসেই গত ৭ জুলাই সন্ধ্যায় কালারমারছড়া ইউনিয়নের চালিয়াতলী নামক এলাকায় দুর্বৃত্তদলের কবলে পড়ে যায়। দুর্বৃত্তরা পাহাড়ের একটি ঘরের বাসিন্দাদের বের করে দিয়ে সারারাত ধরে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের পর তরুণীটি মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ী ইউনিয়নের নারী মেম্বার শামীমা বেগমের ঘরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। গ্রেফতার হওয়া নারী মেম্বার খতিজা বেগম ও লিয়াকত আলী ধর্ষিতাকে থানায় পুলিশের কাছে যেতে বারণ করেন। শামীমার বাড়ীতে তরুণীকে চিকিৎসা দেয়া হয়। ইত্যবসরে ধর্ষকের দলটি ইউপি মেম্বারদের ঘিরে ঘটনার বিষয়টি পুলিশকে না জানানোর জন্য চাপ দেয়। সেই সাথে ধর্ষকের দল আপষ মীমাংসার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলে ধর্ষিতাকে ইউপি মেম্বারের ঘর থেকে বাইরে যেতে বাঁধা দেয়।
পুলিশ গত ১২ জুলাই এমন জঘন্য ঘটনাটির কথা জানতে পেরে মাতারবাড়ীর নারী মেম্বারের ঘর থেকে ধর্ষিতা তরুনীকে উদ্ধার করেন। থানার ওসি বলেছেন, আসলে ধর্ষকের দলটি ধর্ষিতার আলামত নষ্ট করার চিন্তা হয়তোবা মাথায় রেখে হুমকি-ধমকির মাধ্যমে তরুণীটিকে থানায় না আসার ব্যবস্থা করেছিলেন। ওই দিনই দুই ইউপি মেম্বার সহ ৬ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় থানায়।

Comments

comments

Posted ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৯ জুলাই ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com