• শিরোনাম

    পুলিশ-বিজিবির সাথে পৃথক বন্দুক যুদ্ধ

    এক রাতেই দু’সহোদর সহ ৪ সন্ত্রাসী ইয়াবা কারবারী নিহত

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ জুন ২০১৯ | ১:৩২ পূর্বাহ্ণ

    এক রাতেই দু’সহোদর সহ ৪ সন্ত্রাসী ইয়াবা কারবারী নিহত

    কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া ও শহরে পুলিশ ও বিজিবির সাথে পৃথক বন্দুক যুদ্ধে দু’সহোদর সহ ৪ সন্ত্রাসী ও ইয়াবা কারবারী নিহত হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা, দেশীয় তৈরী আগ্নেয়াস্ত্র গোলাবারুদ দা, কিরিচ উদ্ধার করেছে পুলিশি ও বিজিবি। গতকাল শুক্রবার ভোররাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে, উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল এলাকায় পুলিশ ও বিজিবির সাথে সন্ত্রাসী ও ইয়াবা কারবারীদের মধ্যে এ বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। আর শহরের ডায়াবেটিক পয়েন্টে অপর এক গুলিবিদ্ধ ইয়াবা কারবারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায় ইয়াবা কারবারীদের অভ্যন্তরিন বিরোধের জের ধরে খুন হতে পারে সে।
    জসিম উদ্দিন টিপু,টেকনাফ থেকে জানান
    ২৮জুন শুক্রবার ভোররাতে টেকনাফ থানার একদল পুলিশ আটক হত্যা মামলার আসামী ও মাদক কারবারী হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার (মন্ডল পাড়া) মৃত মাহমুদুর রহমান প্রকাশ বাইট্টা মাদুর পুত্র হাত কাটা আব্দুর রহমান (২৮) এবং আব্দুস সালাম (২৬) সহোদরকে নিয়ে হ্নীলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পার্শের আস্তানায় অভিযানে যায়। এসময় তাদের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এতে পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান, কনস্টেবল হেলাল, মোঃ রাসেল আহত হয়।
    এরপর পুলিশও সরকারী অস্ত্র এবং আতœরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। কিছুক্ষণ গোলাগুলির পর হামলাকারীরা পাহাড়ের দিকে পালিয়ে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ২টি দেশীয় তৈরী এলজি, ৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১২ রাউন্ড খালি খোসা, ২টি কিরিচ ও ২টি ছাঁকুসহ গুলিবিদ্ধ দুই সহোদরকে উদ্ধার। তাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়ার পর আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার রেফার করা হয়। কক্সবাজার নেওয়ার পথে উক্ত সহোদর মারা যায়। তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ব্যাপারে তদন্ত স্বাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নিহতদের রাতে পোস্টমর্টেম শেষে বাড়িতে আনা হয়। বাদে এশা স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
    নিহতরা পক্ষান্তরে সন্ত্রাসী ও ইয়াবা কারবারী। গত ২১জুন সকালে তারা পশ্চিম পানখালীর ইদ্রিসের পুত্র দুই সন্তানের জনক মোঃ ইসমাঈল (২৫) কে প্রকাশ্যে গলায় ছুরি দিয়ে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর বীরদর্পে মোটর সাইকেল নিয়ে চলে আসে। গত দেড় মাস পূর্বে একই এলাকার মৃত আব্দুল জাব্বারের পুত্র জাহেদ হোছন (৬৫) কে কথা কাটাকাটির
    জেরধরে বেধড়ক পিটিয়ে পঙ্গু করে দেয়। চলতি বছরের গত ৪ ফেব্রুয়ারী স্থানীয় এক ইব্রাহীমকে ছুরিকাঘাত করে নাড়ি-ভূঁিড় বের করে ফেলে। প্রায় ২মাস চিকিৎসা দেওয়ার পর প্রাণে রক্ষা পায়। দীর্ঘদিন পূর্বে পারিবারিক ঝগড়ার জেরধরে ডাকাত আব্দুর রহমান তার এক ছোট বোনকে রক্তাক্ত করে। আব্দুর রহমান ছোটকাল থেকে ডাকাত প্রকৃতি ও নারীলিপ্সু ছিল। সে হাসাইন্যার টেক ও মিনা বাজার এলাকায় যানবাহন গতিরোধ করে সড়ক ডাকাতি করতো। প্রশাসনের অভিযানের মুখে পালিয়ে সোনা পাড়ার এক হ্যাচারীতে চাকরী নেয়। সেখানে গোপনে নারীদের উঁকি মারতে গিয়েই বৈদ্যুতিক শর্টে একটি হাত ঝলসে যায়। পরে সে হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। স্থানীয় লোকজন সেই ডাকাত আব্দুর রহমান ভাল হয়েছে মনে করে বিভিন্ন স্থানে পাহারাদার হিসেবে নিয়োগ করে। কিন্তু তার ছোট ভাই ইয়াবা জগতে পা দেওয়ায় নগদ টাকার গরমে এসব চাকরী বাদ দেন। বিভিন্ন স্থানে ভাইয়ের মাদকের চালান পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনের গতিবিধি লক্ষ্য করাই ছিল এই আব্দুর রহমানের কাজ। তাদের জনৈক মামা দিল মোহাম্মদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আব্দুর রহমান-আব্দুস সালাম সহোদর চরম বেপরোয়া হয়ে উঠে বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক সুত্রের দাবী।
    এসব কারণে সম্প্রতি এই দুই ভাই এলাকায় আতংক হিসেবে আর্বিভূত হয়ে নানা উশৃংখল কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ট করে তোলে। গত ২৬জুন ভোররাতে তাদের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। অবশেষে পুলিশী অভিযানে ২৮জুন রাতে তারা নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ায় লোকজনের মধ্যে স্বস্তি ও উল্লাস দেখা গেছে।
    রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া থেকে জানান
    উখিয়া সীমান্তের পালংখালী ইউনিয়নের রহমতেরবিল এলাকায় টহলরত বালুখালী বিজিবির সাথে বন্ধুক যুদ্ধে মংডু আকিয়াব এলাকার বাসিন্ধা নুরুল কবিরের ছেলে ইয়াবা কারবারী মোঃ নুর (২৭) নিহত হয়েছে। বালুখালী বিজিবির হাবিলদার দেলোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার ভোর রাত ৩ টার দিকে নাফনদী পার হয়ে ৩/৪জন ইয়াবা কারবারী রহমতেরবিল এলাকায় পৌছলে টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদের দাঁড়াতে বলে। এসময় রোহিঙ্গারা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি পাল্টা গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে মোঃ নুর নিহত হলেও অন্যান্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বালুখালী ক্যাম্পের হেড মাঝি ছফি উল্লাহ জানান, নিহত মোঃ নুর বালুখালী ক্যাম্প নং ১১ ব্লক নং সিতে বসবাস করেন। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক আলী হায়দার আজাদ আহম্মদ জানিয়েছেন গুলিবৃদ্ধ মোঃ নুরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। তিনি বলেন, ইয়াবা কারবারীদের গুলিতে দুইজন বিজিবি সদস্য আহত হয়েছে। তাদের কাছে থেকে স্বর্ণের আংটি, বাংলাদেশী টাকা, মোবাইল সেট পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
    নিজস্ব প্রতিবেদক কক্সবাজার জানান
    শুক্রবার সকালে কক্সবাজার সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে রমজান আলী (৪০) নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
    নিহত ব্যক্তি কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ইসলামাবাদ লারপাড়া এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দাকার জানান, নিহত রমজান চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদকের ৬টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইয়াবা বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকা- হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা পাওয়া গেছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ