• শিরোনাম

    এখনো অরক্ষিত মহেশখালীর উপকূল

    মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন, মহেশখালী | ২৯ এপ্রিল ২০১৯ | ১:০৯ পূর্বাহ্ণ

    এখনো অরক্ষিত মহেশখালীর উপকূল

    আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই দিনে মহেশখালীসহ দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাট ইউনিয়নের ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১৭ কিলোমিটারই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়ে গেছে। ফলে এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত আতঙ্কে কাটে এখানকার মানুষের দিন।
    সরেজমিন দেখা গেছে, মাতারবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর রাজঘাট ও সাইটপাড়ার পশ্চিম পাশের প্রায় আড়াই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ জোয়ারের পানির ধাক্কায় ধসে গেছে। আর যে অংশ রয়েছে তা যেকোনো মুহূর্তে ধসে গিয়ে মাতারবাড়ী পানিতে ডুবে যেতে পারে। ধলঘাট ইউনিয়নের অবস্থা আরও খারাপ। সরইতলা থেকে ভারত ঘোনা এলাকা পর্যন্ত বেড়িবাঁধ অরক্ষিত। তবে ধলঘাট ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবোর অর্থায়ানে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ব্যয়ে টেন্ডার হলেও এখনো বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হয়নি।
    সুতুরিয়া বাজার এলাকার রক্ষা বাঁধ ও বেড়িবাঁধের ভাঙা ভারত ঘোনার সামান্য যে অংশ রয়েছে সেটি যেকোনো মুহূর্তে জোয়ারের পানিতে ধসে যাওয়ার আতঙ্কে দিন কাটছে ধলঘাটার বাসিন্দাদের। তেমনটা হলে পুরো ইউনিয়ন সাগরের পানিতে তলিয়ে যাবে বলে মনে করেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
    স্থানীয় লোকজন জানান, বর্ষার আগে বাঁধ সংস্কার না হলে মাতারবাড়ী ও ধলঘাটার ১৬ গ্রাম লোকালয়ে জোয়ার-ভাটা চলবে। এখনো হাতে যে সময় আছে তা কাজে লাগিয়ে বাঁধ সংস্কার জরুরি।
    মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. উল্লাহ বলেন, স্থায়ি বেড়িবাঁধ না থাকায় ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। এরপর দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও চারপাশে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। মাতারবাড়ি রক্ষা করতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ইউনিয়নটি বঙ্গোপসাগরের মোহনায় হওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে উত্তর রাজঘাট ও ষাইটপাড়ার বেড়িবাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা সাগরে গর্ভে তলিয়ে যাবে। মাতারবাড়ীকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ফলে স্থানীয় লোকজন ধীরে-ধীরে ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে।
    তিনি আরো বলেন, কোল পাওয়ার জেনারেশন মাতারবাড়ি ইউনিয়নে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের ফলে পানি চলাচলের জন্য নির্মিত সমস্ত স্লুিইচ গেইট বন্ধ করে দিয়েছে। এটিই এখন মাতারবাড়ির মানুষের আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পরিস্তিতি আরো ভয়াভহ হবে। বিষয়টি জানিয়ে ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, কোলপাওয়ার জেনারেশন ও মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেছেন মাতারবাড়ীর চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ।
    ইতোমধ্যে উত্তর রাজঘাট ও পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধের ভয়াবহ অবস্থা। জোয়ারের পানি প্রবেশ করার সুযোগ থাকলেও তার বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। যার ফলে জমি হারানো লোকজন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
    ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, বাঁধ মেরামত না হওয়ায় আতঙ্কে কাটছে কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষের দিন। দুর্যোগ কবল থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে হলে আপাতত বাজার রক্ষা বাঁধ ও ভারত ঘোনা ভাঙা অংশ মেরামত ধলঘাটবাসীর প্রাণের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার বলার পরও ভাঙা অংশ মেরামতের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ১৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ে ধলঘাটার প্রায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
    ধলঘাটার চারদিকে আরো ৮ কিলোমিটার বেড়িবাধঁ ঝুকিঁপূর্ণ রয়েছে। বেড়িবাধ নির্মাণের টেন্ডার হলেও ঠিকাদার কাজ করতে অনিহা প্রকাশ করায় কাজ হচ্ছে না। ফলে এ বছরও ধলঘাটা প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও বর্ষায় পানিতে ডুবে যাবে উল্লেখ করে দ্রুত বেড়িবাধঁ নির্মাণের দাবী জানান।
    ধলঘাট আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালেহ আহমদ বলেন, ‘দুর্যোগ থেকে বাঁচতে সাত বছর আগে সপরিবারে কালারমারছড়া নয়াপাড়া এসে নতুন করে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছি।’বেড়ীবাধ না থাকায় ঝুকি নিয়ে বসবাস করা কষ্ট কর হয়ে পড়ে।
    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ের পর স্থানীয় লোকজনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়ানে এ উপজেলায় ৮৩টি আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এসব আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপনের পর থেকে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কার না হওয়ায় প্রায় ৪০টি আশ্রয় কেন্দ্র ব্যবহারের অনুপযোপগী হয়ে পড়েছে। উপজেলার বর্তমান সাড়ে চার লাখ মানুষের বসবাস হলেও জনসংখ্যা অনুপাতে আশ্রয় কেন্দ্রর সংখ্যা অতি নগণ্য।
    মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম বলেন মাতারবাড়ী ধসে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ হাতে পেলেই ভাঙা বেঁড়িবাধ মেরামত করা হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জাইকাকে অবহিত করা হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ