• শিরোনাম

    রোহিঙ্গা সমস্যায় ২ বছর পর স্থানীয়দের সাথে প্রশাসনের সভা

    এনজিও-রোহিঙ্গা’র ভাগ্য ফিরলেও প্রত্যাবাসন শূন্য

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

    এনজিও-রোহিঙ্গা’র ভাগ্য ফিরলেও প্রত্যাবাসন শূন্য

    মানবতায় আশ্রিত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের নানা সমস্যার সমাধানে টানা ২ বছর পর অবশেষে গতকাল বৃহষ্পতিবার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কক্সবাজারের প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে। তাও সাম্প্রতিক দ্বিতীয় দফার প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়া এবং লাখো রোহিঙ্গা সমাবেশ সহ নানা ঘটনার পর এ মতবিনিময় সভা ডাকা হয়। গত ২ বছর ধরে এলাকাবাসীর সাথে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি মতবিনিময় সভাও পর্যন্ত না করার ঘটনায়- রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন।

    এলাকার লোকজন বলছেন, কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উখিয়া-টেকনাফ উপজেলায় আশ্রয় নেয়া এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ে গত ২ বছর যাবত বিশ্বব্যাপি সরব আলোচনা চলছে। এমনকি রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসেছে। এতদিন ধরে দুনিয়াজুড়ে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সোচ্চার হলেও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিয়োজিত প্রশাসন ছিল নির্বিকার। অথচ এ দু’বছরে রোহিঙ্গা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে কেবল দেশী-বিদেশী এনজিও এবং সংস্থার সাথে বৈঠকেই সময় পার হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব বৈঠকে এনজিও এবং রোহিঙ্গাদের নানামুখি ভাগ্য ফিরলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোন কুল কিনারা হয়নি।

    এ প্রসঙ্গে টেকনাফের বাহারছড়া ও হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মৌলানা আজিজ আহমদ এবং রাশেদ মাহমুদ আলী জানান-‘ গত দু’বছর ধরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আমরা স্থানীয়রা ছিলাম অনেক দুরে। এ কাজে আমাদের ডাকা হয়নি। অথচ আমাদের সম্পৃত্ত করা হলে এতদিনে অনেক রোহিঙ্গা দেশে ফিরে যেত।’ তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের সাথে ভাষাগত এবং স্থানীয় সহ নানা ভাবে একে অপরের সাথে একাকার। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাজে সম্পৃত্ততা করা হলে সহজেই ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

    গেল সপ্তাহে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিয়োজিত শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি)সহ কয়েকজন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) প্রত্যাহার হওয়ার পর অবশেষে গতকাল এ মতবিনিময় সভাটি ডাকা হয়। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন আয়োজিত সভাটি অনুষ্টিত হয়েছে জেলা প্রশাসনের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে। সভায় কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সহ ১১ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নিকারুজ্জমান চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবুল মনসুর এবং টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় অন্যান্যের মধ্যে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত আরআরআরসি মোহাম্মদ শামসুদ দ্দৌজা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) মোঃ শাহাজান আলী, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম ও কক্সবাজার প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক অবু তাহের বক্তৃতা করেন।

    সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ৩২ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েক হাজার দোকান পাট এবং হাট-বাজারগুলো অবিলম্বে সরকারি নিয়ম-কানুনের আওতায় আনা হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। যে সব ব্যক্তি বা এনজিও রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যবহারের গোপন কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে কঠোর পদক্ষেপ। রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয়দের বিয়ে-শাদী ও ফেসবুকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে উস্কানিমূলক পোষ্ট সহ অন্যান্য বিষয়েও প্রশাসনিক কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সাথে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্যও নানা উন্নয়ন মূলক প্রকল্প হাতে নেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়।

    সভায় উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পগুলো থেকে রোহিঙ্গারা দলে দলে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। উখিয়ার রাজা পালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য স্থাপিত চেক পোষ্টে রোহিঙ্গার চেয়ে স্থানীয়দের হয়রানির মুখে পড়তে হয় বেশী। তাই তিনি স্থানীয় উখিয়া-টেকনাফের বাসিন্দাদের জন্য পৃথক আইডি কার্ড দাবি করেন। ###

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ