শুক্রবার ২৭শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

এবার তাদের ঈদ কাটবে সৈকতে

তারেকুর রহমান   |   রবিবার, ০১ মে ২০২২

এবার তাদের ঈদ কাটবে সৈকতে

জীবিকার তাগিদে ঝালমুড়ি বিক্রি পেশা হিসেবে নিয়ে গত ১৫ বছর ধরে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ চর নাজিম উদ্দিন এলাকার আক্তার হোসেন (৬৯)। সমুদ্রসৈকত এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি করে চলে তার সংসার। প্রতি বছর নিজ এলাকায় আত্মীয়দের সঙ্গে ঈদ করলেও গত ২ বছর ধরে বাপ-দাদার এলাকায় ঈদ করতে পারছেন না তিনি। করোনার প্রাদুর্ভাবে পর্যটন স্পট বন্ধ থাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি বন্ধ ছিল। তখন টাকার অভাবে বাড়ি যেতে পারেন নি তিনি। এই রমজানেও তার ব্যবসা ভালো হয়নি। তাই এবারও বাড়ি যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙেছে তার।

জানতে চাইলে আক্তার হোসেন বলেন, ‘দৈনিক ৩০০-৪০০ যা পাই তাতে পেটে-ভাতে চলছে আমার ৫ সদস্যের সংসার। হাতে টাকা নেই তাই আশা থাকলেও ভোলায় গিয়ে আত্মীয়দের সঙ্গে ঈদের আনন্দটা ভাগাভাগি করতে পারছি না। আশাটা ভেসে গেলো।’

তিনি বলেন, ‘রমজানে বেচা-বিক্রি কম। রোজাদেরর সংখ্যা বেশি থাকায় ঝালমুড়ি কম বিক্রি হয়। এছাড়া অন্যন্য ধর্মাবলম্বী হাতে গোনা যারা সৈকতে আসে তারা মোটামুটি ঝালমুড়ি খায়। রমজানের শুরু থেকে ৪০০ কিংবা সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বিক্রি করতে পারি। এর চেয়ে বেশি বেচা-বিক্রি হয় না। তবে আশা রাখছি ঈদের পর থেকে বেশি বিক্রি হবে। লাখ লাখ পর্যটক আসবে এবং অনেকেই ঝালমুড়ি খাবে সেই আশায় বাড়ি ঈদ করতে যাইনি।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জীবিকার জন্য কক্সবাজারে আসা অনেকেই আবার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কক্সবাজার থাকেন। তারাও বছরের দুই ঈদে নিজেদের জন্মভূমিতে ঈদ করতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়।

সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে কথা হয় ঝালমুড়ি বিক্রেতা মনির মিনা (৫৫) এর সাথে। তিনি বিগত ২১ বছর ধরে কক্সবাজার সমুদদ্রসৈকতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে আসছে। তিনি শহরের মোহাজেরপাড়ায় তার পরিবার নিয়ে থাকেন। প্রতি ঈদে পৈতৃকভূমি খুলনা বাগেরহাটে চলে যান। এবার যেতে পারছেন না। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এবার ঈদে আনন্দ করবেন পর্যটকদের সঙ্গে।

মনির মিনা বলেন, ‘আমরা যারা সৈকতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালায় তারা দিনে এনে দিনে খাওয়ার মতো। মাঝেমধ্যে সৈকতে পর্যটক না আসলে অনাহার থাকতে হয়। বিগত ২ বছর ধরে এ ব্যবসায় তেমন একটা লাভবান হচ্ছি না। তবুও পুরাতন পেশা হিসেবে ধরে রাখছি।

তিনি বলেন, ‘কয়েকমাস আগে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বউ-বাচ্চা নিয়ে নিজ এলাকা খুলনায় যাবো। কিন্তু দিনশেষে গাড়ি ভাড়াটাও জোগাড় করতে পারিনি। তাই আর ঈদ করতে বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না। ঈদের আনন্দটা সাগরের ঢেউয়ের সাথে মিশিয়ে দিলাম।’

শুধু ঝালমুড়ি বিক্রেতা নয় বাইরের বিভিন্ন জেলার লোকজন কক্সবাজার সৈকতে নানা ব্যবসায় জড়িত। ফুলের দোকান, কসমেটিক ও ঝিনুকের দোকান, কাপড়ের দোকান থেকে শুরু করে হরেক রকমের প্রসাধনী সামগ্রীর ব্যবসা করে অনেকে। তাদের অনেকেই এবার ঈদ করতে থেকে যায় কক্সবাজারে। করোনার প্রভাব ও কিছু নেতিবাচক ঘটনা নিয়ে কক্সবাজারে পর্যটক কমে যাওয়ায় তাদের ব্যবসায়ে ধস নেমেছিল। সেই লোকসান কাটিয়ে উঠেনি এখনো। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে কিছু সময় লাগবে বলে জানায় তারা। তাই এবারের ঈদে এসব ব্যবসায়ীরা বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে ঈদ পরবর্তী ব্যবসার দিকে মুখিয়ে আছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘এবারের ঈদে টানা ছুটি পড়ছে। এ ছুটির দিনগুলো আমাদের ব্যবসার অন্যতম সময়। এছাড়া এই ঈদে এবছরের পর্যটন মৌসুমের শেষ পর্যটক সমাগম। এবার বাড়ি না গিয়ে অন্তত ব্যবসাটা গুছিয়ে নিই।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, ‘কক্সবাজারের বাইরের অনেক মানুষ এখানে ব্যবসা করেন। অনেকে ঈদের আনন্দটা আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ভাগাভাগি করতে নিজ এলাকায় চলে যান। আবার কিছু কিছু মানুষ থেকে যান। তাদের অনেকে ইচ্ছে করে আবার অনেকেই নানা সমস্যায় পড়ে ঈদ করেন এখানে। তবে সবকিছুর উর্ধ্বে ঈদের আনন্দঘণ সময়টা আপন মানুষদের সাথে কাটাতে চায় সবাই।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল, গেস্ট হাউস ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, এবছরের শেষ পর্যটন মৌসুম হিসেবে এবার ঈদে লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটবে। শহরে ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও রিসোর্টে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারের মতো পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০-৬০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। ঈদের আগে বাকি রুমগুলোও বুকিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটবে।

Comments

comments

Posted ১:০২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০১ মে ২০২২

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com