• শিরোনাম

    বিএনপির নেতা কর্মীরা হতবাক, আ’লীগের প্রাথমিক সদস্যও নন

    ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রার্থী

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

    ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রার্থী

    তিনি এখনো ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি। ইতঃপূর্বে কক্সবাজার পৌর যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। সংগঠন থেকে তাঁকে বহিস্কার করা হয়নি। এমনকি বিএনপি’র পদও ত্যাগ করেননি। উল্টো এই পদবীতে বহাল থেকেই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন।
    রাজনীতির এমন বিদঘুটে ঘটনা চলছে কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডে। আগামি ১৬ নভেম্বরে এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেই সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন ১১ নং ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা মাহাবুবুর রহমান মাবু। নিজেকে সভাপতি প্রার্থী উল্লেখ করে ইতোমধ্যে শহরের বাহারছড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পোস্টারও সাঁটিয়েছেন তিনি।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাহাবুবুর রহমান মাবুর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পদার্পণের বিষয়টি প্রথম নজরে আসে চলতি বছরের ২৯ আগস্ট। ওই দিন ১১ নং ওয়ার্ড যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে যুবলীগের একটি মিছিলে দেখা যায় তাকে। ওই মিছিলের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা কলিম উল্লাহ্ । এরপর থেকেই ফেসবুকে বয়ে যায় সমালোচনার ঝড়। ব্যাপকভাবে প্রচারিত হতে থাকে তার ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির পদ থাকার বিষয়।
    বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেস্বুকে শুরু হয় তোলপাড়। বিএনপি ও এর অঙ্গ, সহযোগী সংগঠনের নেতারা রীতিমতো কলমধুনো করে ছেড়েছেন ওয়ার্ড যুবদলের এই সভাপতিকে। যদিও প্রতিউত্তরে মাহাবুবুর রহমান নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে লিখেছেন, তিনি কোনদিন বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

    ফেসবুকে মাহাবুবুর রহমান মাবুকে উদ্দেশ্য করে কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর ও বি.এন.পি নেত্রী নাছিমা আক্তার লিখেছেন, ২০১১ সালের ৯ জুলাই যাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ১১ নং ওয়ার্ড সভাপতি ও পৌর যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত করা হয়। তিনি আবার যুবলীগ কখন হলেন জানতেও পারিনি।
    নাছিমা আক্তার আবার লিখেন, মাহাবুবুর রহমান মাবু, আপনি জেগে স্বপ্ন দেখতেন জানতাম না। নির্বাচন কারো জন্য কেউ এমনি করেনা। কোন না কোন—–। আপনি নেতা হতে চাইলে হবেন। কারণ আপনি দু’মুখো সাপ। ভাই যাবেন তো যান আমাদের ফেলে। কিন্তু সত্যিটা স্বীকার করে যান।
    তিনি আরেকটি মন্তব্যে লিখেছেন, ভাই আপনি এতো তাড়াতাড়ি কেমনে সব ভুলে গেছেন যে, হোটেল পালংক্যিতে সম্মেলন করে আপনাকে সভাপতি ও রাহাতকে সাধারণ সম্পাদক করে বাহারছড়া ১১ নং ওয়ার্ড যুবদলের কমিটি গঠন করা হয়েছিলো।
    কক্সবাজার পৌর যুবদলের সভাপতি আজিজুল হক সোহেল ফেসবুকে লিখেছেন, রাজনীতি কারো প্রফেশান (পেশা) নয়। মাঝে মধ্যে ফটোসেশন দরকার। না হলে অনেকেই তাদের রাজনীতির সুরত (চেহারা) বদলাকে অস্বীকার করে। ১১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থী ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি। মাঝে মাঝে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের (সাবেক প্রতিমন্ত্রী) দেখা করতে মেরিন প্লাজায় যেতো। ফটোসেশন করেনি বলেই অস্বীকার করছে ! অর্থাৎ যারা ঘাপটি মেরে থাকে তারা বিষফোড়া ও সুবিধাবাদী।

    এ দিকে, মাহাবুবুর রহমান মাবু অস্বীকার করায় তার রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করতে গিয়ে জানা যায়, ১১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান মাবু এখনো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যও নন। গঠনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে হলে প্রথমে তাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদের ফরম পূরণ করতে হয়। এরপর তা অনুমোদিত হলেই তিনি প্রাথমিক সদস্য বিবেচিত হন। তবে, গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সভাপতি ( অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) চাইলে যে কোন সময় যে কোন ব্যক্তিকে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ দান করতে পারেন। সভাপতি ছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কারো সেই ক্ষমতা নেই।

    মাহাবুবুর রহমান মাবুর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এই প্রতিবেদকের শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। তারা এক বাক্যে বলেছেন মাহাবুবুর রহমান মাবু বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত, এটি সত্য। তবে, কয়েক মাস ধরে তাকে আওয়ামী লীগের মিছিলে দেখা যাচ্ছে।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাহারছড়ার বাসিন্দা ও জাতীয় পার্টির এক নেতা গতকাল ১২ নভেম্বর রাতে এই প্রতিবেদককে বলেন, মাবু বিএনপি করতো সেটা সবাই জানেন। এখন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। বলা যায় সে এখন নব্য আওয়ামী লীগ নেতা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ