• শিরোনাম

    মন্ত্রীসভা নিয়ে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া

    কক্সবাজারবাসী হতাশ, তবু অপেক্ষা

    তোফায়েল আহমদ | ০৭ জানুয়ারি ২০১৯ | ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

    কক্সবাজারবাসী হতাশ, তবু অপেক্ষা

    অনেক কথার পরেও কক্সবাজারবাসী আশা করেছিলেন বটে। কিন্তু আশা পূরণ হল না। বলতে হয়, গতকাল রবিবার প্রথম দফার আশাবাদ ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে। নতুন সরকারের ৪৬ জনের মন্ত্রী সভায় কক্সবাজারবাসীর একজন প্রতিনিধিরও স্থান হলনা। এটা কক্সবাজারবাসীর দুর্ভাগ্য বটে।
    কক্সবাজারের ৮ উপজেলার ৪ টি সংসদীয় এলাকার একজন ব্যক্তিও মন্ত্রী সভার সদস্য হতে না পারার বিষয়টি নিয়ে আসলে কিভাবে মূল্যায়ণ করা যায় ? এটার সঠিক কারণ কিভাবে জানা সম্ভব ? কাকেইবা এ সম্পর্কে জানতে প্রশ্ন করা যায় ? এটা মোটেই অসম্ভব। কেননা বাংলাদেশের সংবিধান মতে সংসদের নির্বাচিত সংসদ নেত্রী স্পীকারের আহ্বান পেয়ে তিনি পছন্দ মাফিক ব্যক্তিদের নিয়ে একটি মন্ত্রিসভা গঠণ করবেন। তাই কক্সবাজার থেকে কেন মন্ত্রী নেয়া হল না-এমন প্রশ্নের জবাবটি পাওয়া অত সহজ ব্যাপার নয়।
    যদিওবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক-অনলাইনের বদৌলতে তাৎক্ষণিক ভাবাবেগের প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব। এরকম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারনেই কক্সবাজার থেকে মন্ত্রী সভার সদস্য নেওয়ার একটি প্রচারণা ব্যাপকভাবে চাওর হয়ে পড়েছিল গত ক’দিন ধরেই। এরকম প্রচারণা সামাজিক ভাবে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। ঘরে ঘরেই আলাপচারিতা স্থান পেয়ে বসে-কক্সবাজার থেকে একজন মন্ত্রি সভায় স্থান পাচ্ছেন। আবার অনেকেই আরো এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে মন্ত্রিসভার সদস্য করছেন রিতীমত দু’জনকেই।
    শেষ পর্যন্ত ফলাফল শূন্য। এরকম শূন্য ফলাফল নিয়ে অবশ্য অনেকেই নানা রকমের জিজ্ঞাসাও ছুঁড়ছেন বাজারে। বলা হচ্ছে-‘নিশ্চয়ই মাননীয় সংসদ নেত্রী তথা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে পড়ার মত চৌকষ নেতৃত্ব সম্পন্ন ব্যক্তির অভাব রয়েছে।’ একারনেই কক্সবাজারবাসীর ভাগ্যে জুটেনি একজন মন্ত্রি-এমনও বলছেন অনেকেই। কিন্তু কক্সবাজারের মানুষের কাছে একজন মন্ত্রি বড্ড প্রয়োজন। প্রয়োজন এ কারনেই-তাৎক্ষনিক সরকারের নীতি নির্ধারকদের কাছে এলাকার একটি সমস্যা সহ সমাধান আদায় করার জন্য।
    তবে সচেতন মহলের মতে-বর্র্তমানে কক্সবাজার কেন্দ্রিক যে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে তাতে কক্সবাজারের একজন সন্তানকে মন্ত্রিসভার সদস্যের মধ্যে স্থান দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাটি রীতিমত (এরপর পৃষ্ঠা-২ ঃ কলাম- ৫ )
    তবু অপেক্ষা
    দাবি হিসাবেও বলা যায়। এ জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়ি-ধলঘাটসহ পুরো কক্সবাজার জুড়ে প্রায় ৭০ টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে ১২ টিই রয়েছে মেগা প্রকল্প। তদুপরি মিয়ানমারের রাখাইন থেকে অনুপ্রবেশ করা এগার লক্ষাধিক রোহিঙ্গাও রয়েছে কক্সবাজার জেলায়। এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ে সৃষ্ট সমস্যাটিও অনেক বড়-সড় সমস্যা। তারপরেও কক্সবাজার জেলার একজন বাসিন্দা মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ার কারনটিকে বেদনাদায়ক বলা ছাড়া আর কি থাকতে পারে ?
    তদুপরি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁরই জ্যেষ্ট কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনেক স্মৃতি বহন করছে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দল-বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই গর্বের সাথে বলে থাকেন, কক্সবাজারের প্রতি নানাভাবে দুর্বল দলীয় সভানেত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারনেই কক্সবাজারে তিনি গত দশ বছরে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সেই জোয়ারের মধ্যেও একজন কক্সবাজারবাসীকে পাওয়া গেলনা-যিনি মন্ত্রিসভার সদস্য।
    জাতির জনক এবং প্রধানমন্ত্রীর সেই স্মৃতি বিজড়িত কক্সবাজারের মাটি ও মানুষের এমন একজন সন্তান মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ার বিষয়টি সত্যিই জেলাবাসীকে আহত করেছে। এমন বিষয়টিকে কেবল আবেগের দৃষ্টিতে না দেখে বাস্তবতার নিরিখে দেখারও সময় এসেছে আজ। প্রধানমন্ত্রী সহ ৪৭ জনের মন্ত্রিসভায় কেন কক্সবাজারের একজন সন্তান স্থান পেলেন না ? যদিওবা দেশের ৬৪ জেলার সন্তানদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিতে বা পেতে হবে এমন কোন কথা নেই।
    তবুও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সন্ধান করতে হবে কক্সবাজার জেলাবাসীর মধ্যে এমন একজন সুযোগ্য সন্তানকে-যিনি হবেন পরিক্ষিত দেশ প্রেমিক, যিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত, যিনি দেশবিরোধীদের সাথে আপষ করেন না, যাঁর উপর একটি দলীয় সরকার নির্ভর করতে পারেন এবং যিনি হবেন দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির উর্ধে। নিশ্চয়ই সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভাকে সম্প্রসারণ করতে পারেন। হতাশাগ্রস্থ কক্সবাজারবাসী অপেক্ষায় রয়েছেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ