• শিরোনাম

    কক্সবাজারে অবৈধভাবে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনকারী মাতারবাড়ীর ফরিদুল আলম পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ জুন ২০১৯ | ৯:২৪ অপরাহ্ণ

    কক্সবাজারে অবৈধভাবে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনকারী মাতারবাড়ীর ফরিদুল আলম পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার

    কক্সবাজার জেলার এল,এ শাখা হইতে অবৈধভাবে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনকারী মাতারবাড়ীর ফরিদুল আলম পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। সে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডস্থ লাইল্যাঘোনা এলাকার মোঃ ইব্রাহীমের ছেলে। মহেশখালী থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর এর দিক নির্দেশনায় কক্সবাজার মডেল থানার সহযোগিতায় খাতক ফরিদুল আলমকে ১৩ই জুন – বৃপস্পতিবার দুপুর দেড় টার সময় কক্সবাজার শহরের লাল দীঘির দক্ষিণ পার্শ্বের সোনালী ব্যাংকের সামনে হতে কক্সবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এসআই রাজিব সঙ্গীয় ফোর্স সহ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে, আসামী ফরিদুল আলম থেকে সুবিধাগ্রহণকারী প্রভাবশালী লোকজন থানায় দেন/দরবার শুরু করেছে খাতক ফরিদুল আলমকে থানা থেকে নিয়ে যেতে। দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সুষ্টু অনুসন্ধানি টিম অনুসন্ধান করলে খাতক ফরিদুল আলম ও তার ভাইদের হাতে এলাকার অহরহ লোকজন নির্যাতন ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার তথ্য বেরিয়ে আসবে। সূত্রে জানা যায়,কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ অফিস থেকে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ৮,৯৩,০০৪/= এল,এ চেক নং পি ০২১৬৯৩৪ তারিখ ১২/০১/২০১৫ইং মূলে আতœসাৎ করেছেন। মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড লাইল্যা ঘোনা গ্রামেরমৃত মোহাম্মদ ইব্রাহীমের পুত্র ফরিদুল আলম এর বিরুদ্ধে গত ২৭/০৩/২০১৯ইং তারিখে এল,এ সার্টিফিকেট মামলায় জেনালে সার্টিফিকেট আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তারী পরওয়ানা জারী হয়েছে। ফলে গ্রেপ্তারী পরওয়ানার মাথায় নিয়ে উক্ত টাকা যায়েজ করার জন্য ঐ ব্যক্তি বিভিন্ন অফিসে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছিল। মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সরকার এল,এ মামলা ০২/২০১৩-২০১৪ইং মূলে ১৪১৪.৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করেন। উক্ত জমিতে মাতারবাড়ী মৌজার বি,এস খতিয়ান নং- ১২০৩ রোয়েদাদ নং- ১১৭ এর অধীনে ৩.১৮ একর জমি অধিগ্রহণ হয়। উক্ত জমির রেকর্ডীয় মালিক আজিজুর রহমানের অংশ হতে গত ১২/০৬/১৯৮৪ইং তারিখে ৮৭৭নং রেজিঃ কবলা মূলে নুর বকস গং ০.৬০ একর ও গত ১২/০৪/২০১৮ইং তারিখের ২৫২নং রেজিঃ কবলা মূলে হাফেজ রেজাউল করিম ০.৬০ একর এবং গত ১১/০৩/২০০৪ইং তারিখে ৪৯৪নং রেজীঃ কবলা মূলে ফরিদুল আলম ও অপর দুই ভাইয়ের নামে ১.১০ একর জমি খরিদ করেন। অধিগ্রহণ কৃত জমির ক্ষতি পূরণ পাওয়ার জন্য ৩জন কবলাদার কক্সবাজার এল,এ শাখা হতে গত ১২/০১/২০১৫ইং তারিখে পি ০২১৬৯৩৪ নং চেক মূলে ১.১৯৬৬ একর জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৬.৪৩.৮৪৫/= টাকা গ্রহণ করেন। উক্ত রোয়েদাদ হতে তথ্য গোপন করে অতিরিক্ত ০.৮১৬৬ একর জমির ক্ষতি পূরন বাবদ ৮, ৯৩,০০৪/= (আট লক্ষ তিরানব্বই হাজার চার) টাকা অতিরিক্ত উত্তোলন করেছেন। যেহেতু তার ক্রয়ের পূর্বে ২জন কবলাদার ছিলেন, তাদের কে ফাঁকি দিয়ে এল,এ অফিসকে ৩০০/= (তিনশত) টাকার নন জুড়িশিয়াল ষ্টাম্পে স্বাক্ষর করেন এবং অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ফেরত দিব মর্মে ক্ষতিপূরণের টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু টাকা ফেরত না দেওয়ায় হাফেজ রেজাউল করিমের গত ১৩/০৮/২০১৮ইং তারিখের আবেদনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহোদয় গত ১৮/০১/২০১৭ইং তারিখে ফরিদুল আলম অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করেছেন মর্মে আদেশ প্রদান করেন। উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে গত ৩০/০১/২০১৭ইং তারিখে ফরিদুল আলম জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর রিভিও পিটিশন দাখিল করেন। জেলা প্রশাসক মহোদয়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহোদয়কে লিভিও শুনানির জন্য আদেশ দেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহোদয় ১১৭নং রোয়েদাদের ৩ জন আবেদনকারীকে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে গত ২৭/০২/২০১৭ইং মামলা ধার্য্য তারিখে ০৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট ১টি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যগণ হলেন (০১) ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, (০২) দুই জন অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (০৩) ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মহোদয় গণের যৌথ তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিয়মান হয় যে, ফরিদুল আলম অতিরিক্ত ০.৮১৬৬ একর জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮,৯৩,০০৪/= টাকা গ্রহণ করেছেন। যাহা ফরিদুল আলম হতে আদায় করে নুর বকস গংকে ০.২১৬৬ একর ও হাফেজ রেজাউল করিমকে ০.৬০ একর জমির ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। উক্ত টাকা আদায়ের জন্য ভূমি অধীগ্রহণ কর্মকর্তা মহোদয় গত ১৪/০৫/২০১৭ইং তারিখে অতিরিক্ত টাকা ০৭ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার জন্য ফরিদুল আলমকে নোটিশ প্রদান করেন। উক্ত ফরিদুল আলম নোটিশ অমান্য করে সরকারী টাকা আতœসাৎ করার চিন্তায় মগ্ন থাকায় অফিসে যোগাযোগ না করার কারণে এল,এ,ও আবু আসলাম মহোদয় বাদী হয়ে খাতক ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে টাকা উদ্ধারের জন্য জেনারেল সার্টিফিকেট আদালত কক্সবাজারে সার্টিফিকেট মামলা নং- ০১/১৭ইং তরিখ ২২/০৫/২০১৭ইং রোজো করেন। উক্ত সার্টিফিকেট মামলায় ফরিদুল আলম তার বিজ্ঞ আইনজীবি সহ আদালতে হাজির হয়ে মামলার কনটেস্ট করেন। সার্টিফিকেট মামলায় ধার্য্য তারিখে বেশি সময় হাজির না হওয়ায় খাতক ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে প্রসেস নম্বর ৩১/২০১৮ইং তারিখ ১৭/০৭/২০১৮ মূলে ইস্যুকৃত ড/অ তামিলে জন্য অফিসার ইনচার্জ মহেশখালী থানাকে জেনারেল সার্টিফিকেট অফিসার কর্তৃক তাগিদ দেওয়া হয়। কক্সবাজার জেলার সার্টিফিকেট অফিসার জিন্নাত শহীদ পিংকি স্বাক্ষরিত ৬৬ নং স্মারকের সি.সি নং ০১/২০১৭ মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জকে হাওলা করলে, অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর বিষয়টি আমলে নিয়ে খাতক ফরিদুল আলমকে চৌকস অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ