• শিরোনাম

    মিয়ারমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ

    কক্সবাজারে কোরবানি পশুর সংকটের আশংকা

    দীপক শর্মা দীপু | ০৭ আগস্ট ২০১৯ | ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

    কক্সবাজারে কোরবানি পশুর সংকটের আশংকা

    মিয়ানমার থেকে হঠাৎ করে পশু আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজারে কোরবানির পশুর সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে গত তিন দিন বৈরি আবাহাওয়ার কারনে পশু আমদানি বন্ধ রয়েছে। তার উপর গতকাল ৬ আগষ্ট থেকে দেশি পশুর বাজার ধরে রাখতে মিয়ানমারের পশু আমদানি বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন। একথা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন। এদিকে মিয়ানমার থেকে পশু না আসলে উখিয়া টেকনাফ সহ সারা জেলায় কোরবানি পশুর সংকট হবে বলে জানান স্থানীয়রা। কারন স্থানীয়দের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের বিশাল জনগোষ্ঠি গতবারের মতো এবারো কোরবানি পশুর উপর ভাগ বসাবেন।

    জানা যায়, প্রতিবছর মিয়ানমার থেকে কোরবানি পশু আমদানি হয়। মিয়ানমারের পশু এবং স্থানীয় খামারিদের পশু নিয়ে কোরবান করতো কক্সবাজারের স্থানীয়রা। তখন রোহিঙ্গাদের চাপ ছিলনা। গত ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট রোহিঙ্গাদের ঢল আসা শুরু হলেও সেই বছর তেমন চাপ পড়েনি। গত বছর ২০১৮ সালে রোহিঙ্গাদের বিশাল জনগোষ্টি উখিয়া টেকনাফে কোরবান করে। তবে সেই বছর মিয়ানমার থেকে প্রায় ১৮ হাজারের বেশি গরু আমদানি করা হয়। এতে টেকনাফ উখিয়াসহ পুরো জেলায় কোন পশুর সংকট দেখা দেয়নি।
    এবার ৩ থেকে ৫ আগষ্ট মিয়ানমার থেকে টেকনাফ করিডোর দিয়ে বৈরি আবাহাওয়ার কারনে কোন পশু আসেনি। এদিকে ৬ জুলাই থেকে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন জেলা প্রশাসক। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন জানান, দেশীয় পশুর বাজার ধরে রাখতে মিয়ানমার থেকে সকল প্রকার গবাদি পশু আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে করে স্থানীয় খামারিরা তাদের ন্যায্য মুল্যে পশু বিক্রি করতে পারবে। উৎসাহিত হবে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা। জমে উঠবে স্থানীয় পশুর বাজার। মিয়ানমার থেকে পশু আসলে স্থানীয় খামারী ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই দেশিয় পশুর বাজার ধরে রাখতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এদিকে পশু আমদানি বন্ধের কারনে এবারে কোরবানে পশু সংকট হবে এবং অতিরিক্ত হারে পশুর দাম বেড়ে যাবে এমন আশংকা করছেন স্থানীয়রা। ৬ আগষ্ট পশু আমদানি বন্ধ হওয়ার বিষয়টি জানার পর পর বাজারে বেড়ে গেছে পশুর দাম। উখিয়ার বিক্রেতা সেলিম উদ্দিন জানান, মিয়ানমার থেকে পশু না আসায় খামারিরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই বাজারে এবার পশুর দাম একটু বাড়া। স্থানীয় ক্রেতা খলিল উল্লাহ উখিয়া বাজার থেকে গরু কিনেছেন একটি। তিনি জানান, গতবছরের তুলনায় এবার ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা দাম বেড়েছে। সামনে আরো দাম বাড়তে পারে এমন শংকায় একটু দাম বাড়া হলেও এখন থেকে পশু কিনে নিচ্ছে অনেকে।

    টেকনাফ ও উখিয়ার প্রায় ৫ লাখ স্থানীয়দের জন্য কোরবানি পশুর প্রয়োজন প্রায় ১৩ থেকে ১৫ হাজার। আর ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজন ১৭ থেকে ২২ হাজার পশু। স্থানীয় এবং রোহিঙ্গাদের জন্য ৩০ হাজার থেকে ৩৭ হাজার পশু লাগবে। কিন্তু উখিয়া টেকনাফে স্থানীয় খামারিদের কাছে পশু রয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার পশু। আরো প্রয়োজন হতে পারে ২০ থেকে ২৫ হাজার পশু। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭১৭ টি। ফলে উখিয়া টেকনাফের সংকট মেটাতে পশুর প্রয়োজন আরো কমপক্ষে ১৩ হাজার। এই অবস্থায় মিয়ানমার থেকে আমদানি বন্ধ করে দেয়ায় কোরাবানি পশুর সংকট দেখা দেবে। এই সুযোগকে পূঁজি করে স্থানীয় অসাধু খামারি ও ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দেবে পশুর দাম।

    শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো: আবুল কালাম জানান, গত বছরের ন্যায় এবারো রোহিঙ্গারা যাতে ভালোভাবে কোরবান করতে পারে তাই সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্যাম্পে থাকা প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার পরিাবারের মাঝে কোরবানি পশু দেয়া হবে। প্রতি পরিবারকে কমপক্ষে ২ কেজি গোস্ত দেয়া হবে। বিভিন্ন এনজিও এসব পশু সংগ্রহ করে রোহিঙ্গাদের মাঝে ঈদের দিন বিতরনের কার্যক্রম শুরু করেছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের অনেকে নিজেরা পশু কিনে কোরবানি দেবেন।
    জেলা প্রশাসকের আদেশে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ১২৭১৭ টি পশু আমদানি করা হয় বলে জানিয়েছেন টেকনাফ শুল্ক কর্মকর্তা মো: ময়েজ উদ্দিন জানান, এসব আমাদনিকৃত পশু থেকে ৬৩ লাখ ৬০ হাজার ৫শত টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। প্রতিটি গরু ও মহিষ থেকে ৫০০ টাকা আর প্রতিটি ছাগল থেকে ২০০ টাকা ভ্যাট আদায় করা হয়।

    টেকনাফ গরু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পৌর কাউন্সিলর আবদুল্লাহ মনির জানান, মিয়ানমার থেকে টেকনাফ শাহপরির দ্বীপ করিডোরে মিয়ানমারের গরু আসছে। এখানে ৩ মণ ওজন গরুর দাম ৬৫ থেকে ৭০ হাজার, ৪ মণ ওজনে গরুর দাম ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা আর ৫ মণ ওজনের গরুর দাম ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গরু আমদানি বন্ধ হওয়ায় প্রতিটি গরুর দামে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। করিডোরে এখনো দেড় হাজারের মতো পশু রয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ