রবিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সরকার ৬ বছরে ৪২ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত

কক্সবাজারে চিংড়ি চাষাবাদের জমি নবায়ন হয়না, খাজনা নেয়না

দীপক শর্মা দীপু   |   মঙ্গলবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কক্সবাজারে চিংড়ি চাষাবাদের জমি নবায়ন হয়না, খাজনা নেয়না

কক্সবাজার জেলা চিংড়ি খামার গ্রুপের মতবিনিময় সভা

কক্সবাজারের চিংড়ি চাষাবাদের জমি নবায়ন করা হচ্ছেনা, নেয়না কোন খাজনা। এভাবে বছরের পর বছর নেয়া হয়না কোন খাজনা, নবায়নও করা হচ্ছেনা কোন চিংড়ি জমি। চিংড়ি চাষিরা নবায়ন ও খাজনা দিতে চাইলেও তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নানা অপকৌশল দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে খাজনা ও নবায়নের টাকা নিচ্ছেনা। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারনে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব অভিযোগসহ চিংড়ি শিল্প ধ্বংস করতে নানা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে জানান, কক্সবাজার জেলা চিংড়ি খামার গ্রুপের সহ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী শাওন।

২ সেপ্টেম্বর চিংড়ি শিল্প ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, চিংড়ি চাষিদের কাছ থেকে জমি কেড়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে কৌশলে খাজনা নেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, নবায়নও করছেনা। কেউ খাজনা দিতে চাইলে খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হয়ে যায়। জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেও খাজনা দিতে পারছেনা, পারছেনা নবায়ন করতে। গত ২০১৪ সাল থেকে খাজনা নেয়া বন্ধ হয়ে গেছে। জেলায় ৩৪,৬৬৭.৭৮ একর চিংড়ি জমি রয়েছে। প্রতি একরে ২০ হাজার টাকা খাজনা নেয়া হলে প্রতিবছর ৭ কোটি টাকা খাজনা আদায় করা সম্ভব হতো। গত ৬ বছরে ৪২ কোটি টাকা খাজনা আদায় হয়নি। ফলে সরকার ৪২ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আর অন্যদিকে খাজনা না নেয়ার কারনে চাষিদের উপর বিশাল টাকা চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এরচেয়ে বড়বেশি উৎকন্ঠা হচ্ছে খাজনা ও নবায়নের টাকা না নিয়ে কৌশলে তাদের কাছ থেকে জমি কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যতই যড়যন্ত্র করা হোক না কেন প্রকৃত চাষিদের কাছ থেকে জমি নেয়া যাবেনা।

উক্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার বলেন, চিংড়ি চাষিদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় না করা মানে সরকারের সাথে প্রতারণা করা, আর প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকান্ডে বাঁধা দেয়া। দীর্ঘ সময় থেকে খাজনার টাকা না নিয়ে চাষিদের বিপদে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু সেই সুযোগ দেয়া হবেনা। দেশে আইন আদালত আছে। খাজনা আাদায় না করা, জমি নবায়ন না করার জন্য আদালতের আশ্রয় নেয়া হবে। আর দীর্ঘ সময় পর খাজনা নেয়া হলে সুদ মওকুফ করতে হবে। খুলনা, সাতকিরায় চিংড়ি চাষিদের কাছ থেকে প্রতি একরে ৫শ টাকা খাজনা নেয়া হয় কিন্তু কক্সবাজারের চাষিদের কাছ থেকে নেয়া হয় ২ হাজার টাকা। এই বৈষম্যও মেনে নেয়া হবেনা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: শাহজাহান বলেন, কক্সবাজারকে গিলে খাওয়ার জন্য হায়েনারা মাঠে নেমেছে। কক্সবাজারের স্থানীয়দের নিজদেশে পরবাসি করার জন্য নানাভাবে জমি নিয়ে নেয়া হচ্ছে। কক্সবাজারের লবণ, পান, চিংড়ি শিল্প ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রকৃত চিংড়ি চাষিদের কাছ থেকে জমি কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র সফল হবেনা। চিংড়ি শিল্পসহ কক্সবাজারকে বাঁচাতে আন্দোলনে নামবে সবাই।

এতে অন্যন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী, জেলা চিংড়ি খামার গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, চিংড়ি খামারি রাজনৈতিক নেতা ইউনুছ বাঙ্গালী, চিংড়ি খামারি আবদুল্লাহ খান,মাওলানা কামাল হোছাইন, ছৈয়দুল হক সিকদার, কাজী আবদুল মাসুদ।
সভায় ইজারা দেয়া এসব জমি নিয়ে বনবিভাগের হয়রানি বন্ধ, চিংড়ি জমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা গ্রহনের জন্য দাবি জানানো হয়।
ক´বাজার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় শতাধিক চিংড়ি চাষি উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments

Posted ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com