• শিরোনাম

    পরিবার কোয়ারেন্টাইনে

    কক্সবাজারে প্রথম করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ মার্চ ২০২০ | ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

    কক্সবাজারে প্রথম করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত

    কক্সবাজারে প্রথম সৌদি থেকে ওমরাহফেরত এক বৃদ্ধার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত মোসলিমা খাতুন (৭৫) জেলার চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ার মরহুম রশীদ আহমদের স্ত্রী। ঢাকায় পাঠানো নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে তার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডাঃ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। তাকে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট এলাকায় করোনাভাইরাসের চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হলেও পরে সে সিদ্ধান্ত বাতিল করে জেলা সদর হাসপাতালে বিশেষ ক্যাবিনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে গতকাল রাতে জানিয়েছেন তিনি। আক্রান্ত বৃদ্ধা মোসলিমা খাতুন গত ১৩ মার্চ ওমরাহ হজ শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন।

    সদর হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডাঃ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, সর্দি-জ্বর-কাশি ও গলাব্যথা নিয়ে বৃদ্ধাকে ১৮ মার্চ সদর হাসপাতালে আনা হয়। তার লক্ষণ দেখে করোনা সন্দেহ হওয়ায় বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। প্রথমে তিনি ওমরাহ থেকে ফেরতের বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে পরিবারের সদস্যরা জানান ওমরাহ শেষে বাড়ি এসে অসুস্থ হন তিনি।

    তিনি বলেন, এরপর তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ২২ মার্চ ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তার পরীক্ষার ফলাফল হাসপাতালে পৌঁছে। পরীক্ষায় করোনাভাইরাস পজেটিভ এসেছে তার। কক্সবাজারে করোনা শনাক্ত হওয়া প্রথম রোগী এই বৃদ্ধা।
    সদর হাসপাতালের ত্ত¡াবধায়ক ডা. মহিউদ্দিন জানান, গত ১৮ মার্চ মোসলিমা খাতুন (৭৫) সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যেসব ডাক্তার-নার্স তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন, তাদের সবাইকে কোয়েরেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। এমনকি তিনি নিজেও কোয়েরেন্টাইনে রয়েছেন বলে জানান।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করোনা আক্রান্ত মোসলিমা খাতুন গত ১৩ মার্চ দেশে ফিরে চট্টগ্রাম শহরের নিউ চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় ছোট সন্তান হারুনের বাসায় অবস্থান করেন। পরদিন ১৪ মার্চ তিনি খুটাখালীর নিজবাড়ীতে ফেরেন। কিন্তু ১৭ মার্চ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কক্সবাজার শহরে আনা হয়। ওইদিন তিনি শহরের টেকপাড়ায় বড় সন্তান, কক্সবাজার সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সোলাইমানের বাসায় ছিলেন। ১৮ মার্চ তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় মোসলিমা খাতুনের সংস্পর্শে আসা সবাইকে পক্ষকালের কোয়েরেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে সদর হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. মহিউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও নার্সসহ অন্যান্যরা কোয়েরেন্টাইনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অধ্যক্ষ সোলাইমানের পরিবারের সদস্যরাও হোম কোয়েরেন্টাইনে রয়েছেন। তবে খুটাখালীতে মোসলিমা খাতুনের সংস্পর্শে আসা আত্মীয়স্বজন এখনও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। খুটাখালীতে মোসলিমা খাতুনের সংস্পর্শে আসায় আরো কয়েকজনের শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা দেয়ার কথা জানিয়েছে এলাকাবাসী। তবে এখনও কারো বাড়ি লকডাউন করা হয়নি।

    কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ওই নারীর গ্রামের বাড়ি ও তার আশপাশের এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। ওই নারী সৌদি আরব থেকে এসে চট্টগ্রামের যে বাড়িটিতে ছিলেন সেটিও লকডাউন করা হয়েছে।
    উল্লেখ্য, জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত মোসলিমা খাতুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালউদ্দিন আহমদের মামী।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ