রবিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধুর এত স্মৃতি তবুও নেই একটি স্মৃতি ফলক

  |   সোমবার, ৩০ আগস্ট ২০২১

কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধুর এত স্মৃতি তবুও নেই একটি স্মৃতি ফলক

দেশবিদেশ রিপোর্ট:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার বিমান বন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্ভোধনী ভার্চুয়াল অনুষ্টানে নিজেই জাতির জনককে নিয়ে কক্সবাজারের অনেক স্মৃতি চারণ করেছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন-‘ কক্সবাজারের প্রতি বঙ্গবন্ধুর আলাদা আকর্ষণ ছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, কক্সবাজার সৈকতের ঝাউবিথীটিও হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর অবদান।’ ১৯৭৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জীবনের শেষ বার তিনি কক্সবাজার যেখন এসেছিলেন তখনই কক্সবাজারের পর্যটনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি সহ শহর রক্ষার জন্যই ঝাউগাছের বনায়নের নির্দ্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয়রা আরো জানেন, বঙ্গবন্ধু কক্সবাজার উপক’লের ভারুয়াখালীর লবণ মাঠ পরিদর্শন করেছিলেন। সেখানে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি ঘাট যেটা স্থানীয়দের কাছে মুজিব ঘাট নামে পরিচিত। বঙ্গবন্ধু রামু রাবার বাগানের রেষ্ট হাউজে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই রেষ্ট হাউজের বঙ্গবন্ধুর বসার চেয়ারটি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। বাস্তবে কক্সবাজারে রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনেক স্মৃতি বিজড়িত স্থানও। কিন্তু এ যাবত পর্যটন শহর কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধরু স্মৃতি ধরে রাখার জন্য একটি ম্যুরাল বা স্মৃতি ফলক স্থাপিত হয়নি।

ফিঃ বছর জাতীয় দিবসগুলো বিশেষ করে ১৫ আগষ্টের শোকাবহ দিন এবং ১৭ মার্চের জাতির জনকের জন্মদিন সামনে নিয়ে কক্সবাজারের সুশীল সমাজ মাতামাতি শুরু করেন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত পর্যটন শহরটিতে একটি স্মৃতিফলক স্থাপনের দাবি নিয়ে। কক্সবাজারের প্রতি জাতির জনকের এত বেশী দরদ ছিল কিন্তু কক্সবাজারবাসী এ যাবত একটি ভাষ্কর্য বা ম্যুরাল স্থাপনের মাধ্যমে তার প্রতিদান দিতে না পারার জন্য অনেকেই ক্ষুব্ধ।

স্থানীয় লোকজনের দাবি কক্সবাজার শহরের প্রবেশদ্বার কলাতলি গোলচত্বর মোড়কে বঙ্গবন্ধু চত্বর ঘোষণা দিয়ে সেখানে ১০০ ফুট উঁচু একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হোক।
কক্সবাজারের স্ংষ্কৃতকর্মী দীপক শর্মা দীপু এ বিষয়ে বলেন, পর্যটন মৌসুমে তথা পহেলা বৈশাখ ও থার্টিফার্ষ্ট নাইট সহ বিশেষ দিবসে দৈনিক কয়েক লাখ পর্যটকও আসেন কক্সবাজারে। তিনি জানান, সাগর পাড়ের কলাতলী মোড়ে যদি স্মৃতিফলকটি স্থাপন করা যায় তাহলে দেশ-বিদেশের ভ্রমণকারিদের মধ্যেও সাগরের মত উদার মনের মানুষ বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্যটি দেখে ক্ষণিকের জন্য হলেও জাগ্রত হবে হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা।

অভিযোগ উঠেছে, যতবারই সাধারণ মানুষ শহরের প্রবেশদ্বারে একটি স্মৃতিফলকের জন্য সোচ্চার হয়েছেন সেই তুলনায় জাতির জনকের দলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের তরফে তেমন সাড়া মিলেনি। তবে গত ১৫ আগষ্ট কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের শোক দিবসের অনুষ্টানে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান নানাজনের দাবির মুখে ঘোষনা দিয়েছেন, পৌরসভার উদ্যোগে কক্সবাজার শহরের গেইটওয়ে কলাতলিতে জাতির জনকের একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হবে। কিন্তু তাও বাস্তবায়ন আদৌ হবে কিনা সেটা বলা মুশকিল।

তদানীন্তন পাকিস্তান আমলে রাজনৈতিক কারণে অনেকবার কক্সবাজার এসেছেন বঙ্গবন্ধু। সেই সময় কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ তিনি করেছেন। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে সর্বশেষ ১৯৭৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি কক্সবাজার এসেছিলেন। এ সময়ের মধ্যে অন্ততঃ ১৪ বার তিনি কক্সবাজারে আসনে। তবে নানা ইতিহাস ও পত্রপত্রিকার তথ্য অনুযায়ি কক্সবাজারে ১২ বার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলেও আরো অন্ততঃ ২ বার সফরের ইতিহাস রয়ে গেছে অজানা।
এমনকি ১৯৫৮ সালের আইউব খানের সামরিক শাষণ কেন্দ্রিক অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলা মাথায় নিয়ে বঙ্গবন্ধু কয়েকবার কক্সবাজার আসার কথা রয়েছে প্রবীণদের মুখে। এসবের কোন দালিলিক প্রমাণ নেই। কেবল মাত্র ১৯৫৮ সালের ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের বন বিভাগের রেষ্ট হাউজের সংরক্ষিত অতিথি নিবন্ধন খাতায় বঙ্গবন্ধুর সেখানে ২ দিন অবস্থানের তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে।

পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপের বাসিন্দা আছত আলী, উখিয়ার ইনানীর ছৈয়দুর রহমান সিকদার ও অরণ্যঘেরা ইনানীর চেনছড়ি আদিবাসী পল্লীর প্রয়াত ফেলোরাম রোয়াজা চাকমাসহ কক্সবাজার বন বিভাগের প্রয়াত গাড়ি চালক আবুল বাশারের সানিধ্যে। কিন্তু জাতির জনকের ইতিহাসের এসব অংশটি রয়ে গেছে পুরোপুরি অনুদঘাটিত। তবে উখিয়ায় বঙ্গবন্ধু সহ প্রধানমন্ত্রী এসেছেন বলে রবিবার কক্সবাজার বিমান বন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের উদ্ভোধনী অনুষ্টানের বক্তব্যে খানিকটা স্মৃতিচারণে উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন-‘ কক্সবাজারের প্রতি বঙ্গবন্ধুর আলাদা আকর্ষণ ছিল। প্রতি শীত মৌসুমে আমাদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যেতেন। উখিয়াতে জঙ্গলের পথ বেয়ে বেড়াতে যেতাম। বাঘ-হাতির ডাক শুনতাম। যদিও এখন সেই চিহ্ন নেই।’ প্রসঙ্গত ২০১০ সালের ১৭ মার্চ জাতির জনকের জন্মদিন ও শিশু দিবসের দিন একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ইনানী অরণ্যে বঙ্গবন্ধুর অজ্ঞাতবাস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

স্থানীয় প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত ফেলোরাম রোয়াজা চাকমার পরিবারের সদস্য যারা সেই সময় বঙ্গবন্ধুকে সহযোগিতা দিয়েছিলেন সেইসব ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু উখিয়ার ইনানীর অরণ্যঘেরা চেনছড়ি আদিবাসী পল্লীর দাপুটে নেতা প্রয়াত ফেলোরাম রোয়াজা চাকমার ঘরে গিয়েছিলেন। সেই সময় ওই অরণ্যে রিতীমত বাঘ-ভাল্লুক আর হাতির অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র ছিল। সেই আদিবাসী নেতার ভিটায় অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক নেতা বঙ্গবন্ধু যে পুকুরটিতে গোসল আর ওযু করেছিলেন সেটিও অক্ষত রয়েছে। সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত আদিবাসী পল্লীতে একটি এফিটাপ স্মৃতিফলক নির্মাণ করছে।

এডিবি/জেইউ।

 

Comments

comments

Posted ১:৪২ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ৩০ আগস্ট ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com