মঙ্গলবার ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

মহৎ,সাহসী প্রাণের স্মরণ

কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর প্রথম মোনাজাত পরিচালনাকারি তাহের হুজুর

  |   শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর প্রথম মোনাজাত পরিচালনাকারি তাহের হুজুর

বায়তুশ শরফ মাঠে জানাযা নামাজের দৃশ্য।

দীপক শর্মা দীপু:
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের সুবহে সাদেকের সময় জাতির জনককে নির্মমভাবে হত্যার পর বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদাত বার্ষিকীও পালন করা সম্ভব হয়নি কক্সবাজারে। একই অবস্থা সারাদেশে বিরাজমান ছিল। এমন কি তখন বঙ্গবন্ধুর নাম নিতে হতো চুপিসারে। এরপরের বছর ১৯৭৭ সালে কক্সবাজার শহরে প্রথম বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা আওয়ামী লীগ। সেই শাহাদত বার্ষিকীর অনুষ্টানে স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রচন্ড বাঁধার মুখেও মোনাজাত পরিচালনা করেছিলেন গতকাল শুক্রুবার প্রয়াত বায়তুশ শরফের মাওলানা তাহেরুল ইসলাম প্রকাশ তাহের হুজুর।

তৎকালিন আওয়ামী লীগ নেতা ও এম,এন,এ এডভোকেট নুর আহমদ, এডভোকেট জহিরুল ইসলাম, একেএম মোজাম্মেল হকসহ সেই সময়ের আওয়ামী লীগ নেতারা বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী পালনের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন যথারীতি। শহরের পাবলিক হল মাঠে তখন সব আয়োজন শেষ করা সত্বেও মোনাজাত পরিচালনা করার জন্য কোন মৌলভী পাওয়া যাচ্ছিলনা। শহরের বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের অনুরোধ করা হলেও তারা কেউই রাজি হননি মোনাজাত পরিচালনা করতে। দুয়েকজন মাওলানা সন্মতি জানালেও তখনকার সময়ের প্রতাপশালী স্বাধীনতা বিরোধীরা একাট্টা হয়ে বাঁধা প্রদান করেন মোনাজাতে অংশ না নিতে।

এমন পরিস্থিতিতে কেউ যখন মোনাজাত করার জন্য রাজি হচ্ছিলেন না তখন বায়তুশ শরফ মসজিদের শরনাপন্ন হন নেতারা। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বঙ্গবন্ধুর অন্যতম ঘনিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা একেএম মোজাম্মেল হক বায়তুশ শরফের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাষ্টার সিরাজুল ইসলামকে বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা কামনা করেন। মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে চট্টগ্রামে অবস্থানরত বায়তুশ শরফের মরহুম পীর মাওলানা মোঃ আবদুল জব্বার সাহেবকে অবহিত করেন। পীর সাহেব এ খবর শুনেই দুঃখ প্রকাশ করে বলেন-‘ মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান একজন মুসলমান। তাঁকে যথারীতি জানাজার নামাজ পড়েই সমাহিত করা হয়েছে। একজন মুসলামানের প্রয়ান বার্ষিকীতে মোনাজাত পরিচালনা করা আরেকজন মুসলমানের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।’
পীর সাহেব মাষ্টার সিরাজুল ইসলামকে জানিয়ে দিলেন যাতে খতিব মাওলানা তাহেরুল ইসলাম যাতে মোনাজাত পরিচালনা করতে যান। মাষ্টার সিরাজুল ইসলামের মুখে পীর সাহেবের নির্দ্দেশনা শুনেই মাওলানা তাহেরুল ইসলাম সাথে সাথে অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে রাজি হয়ে যান বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বাষির্কীতে মোনাজাত পরিচালনা করার জন্য। সদ্য প্রয়াত মাওলানা তাহেরুল ইসলামের এসব স্মৃতির কথাগুলো গতকাল আরো একবার স্মরণ করছিলেন এভাবে- কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক বিশিস্ট শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম।

কেউ রাজি হলেন না অথচ মাওলানা তাহেরুল ইসলাম কেন মোনাজাত পরিচালনা করেন এ বিষয় নিয়ে গত ৩ বছর আগে তার মুখোমুখি হয়ে এ প্রতিবেদক কথা বলেন। তখন তিনি এ প্রতিবেদককে জানান- ‘ এই বিষয়ে বায়তুশ শরফের পীর মাওলানা আবদুল জব্বার হুজুরের সাথে মাষ্টার সিরাজুল ইসলামসহ আমি যোগাযোগ করি, কথা বলি । তখন হুজুর আমাদের অনুমতি দিয়ে বলেন, যে মানুষটি মুসলমান তার মৃত্যু হলে তার নামাজে জানাজা করতে হবে, দাফন করতে হবে। একইভাবে তার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিলে মোনাজাত করতে হবে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একজন বীর শহীদ। দেশের এমন বীর শহীদের জন্য মোনাজাত পরিচালনা করা একজন মুসলমান হিসেবে দায়িত্ব রয়েছে। ’
তাহের হুজুর বলেন, সেই সময় শুধু আমাকে মোনাজাত পরিচালনা করার জন্য পাঠানো হয়নি, ‘সেই সাথে মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম বায়তুশ শরফের কিছু এতিম ছেলেদের পাঠিয়েছিলেন এবং থালা বাসন পাঠিয়ে দেন।’ বঙ্গন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীতে তখন অন্যান্য মৌলভীরা কেন মোনাজাত করতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিলেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা ধর্মান্ধতা বা ইচ্ছে করে মোনাজাত পরিচালনা করেননি। ইসলাম ধর্মে মোনাজাত পরিচালনা করা যাবেনা এমন কোন ব্যাখা কোথাও নেই। ’
তখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বঙ্গবন্ধু প্রেমিদের তথা আওয়ামী লীগের অনুকুলে ছিলনা এমন পরিস্থিতিতে মোনাজাত পরিচালনা করার সময় কোন ভীতি কাজ করেছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ আল্লাহকে স্মরণ করে মোনাজাত হবে। মোনাজাতে আল্লাহকে ডাকা হবে। সমস্ত মনোযোগ, ধ্যান তখন আল্লাহকে ঘিরে। এমন মুহুর্তে কখনো ভয় কাজ করেনা। ভয় মাথায় থাকেনা।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাহাদাত বার্ষিকীর মিলাদ মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করায় তখন শতাধিক মৌলভীসহ অনেকে মৌলানা তাহেরুল ইসলাম ও মাষ্টার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বশরীরে চট্টগ্রামে উপস্থিত হয়ে বায়তুশ শরফের পীর আবদুল জব্বার হুজুরের কাছে অভিযোগ করেন। তখন হুজুর তাদের বুঝিয়ে দেন মৌলানা তাহেরুল ইসলাম একজন আল্লার বান্দার শাহাদাত বার্ষিকীর মিলাদ মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেছেন। কোন গুণাহ করেননি। আর তিনি এমন কাজটি করেছেন বলে সকল মাওলানাদের মুখ উজ্জ্বল হয়েছে। তা না হলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মাওলানাদের ভুল বুঝতো। মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম আমার অনুমতি নিয়ে এমন মহৎ কাজটি করেছেন। এই কথা গুলো সেইদিন এই প্রতিবেদককে বললেন বায়তুশ শরফ মসজিদের খতিব মাওলানা তাহেরুল ইসলাম।

এডিবি/জেইউ।

 

 

Comments

comments

Posted ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

দশ বছর পর
দশ বছর পর

(849 বার পঠিত)

(680 বার পঠিত)

সেই মা সেই ছবি
সেই মা সেই ছবি

(677 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com