সোমবার ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বহুতল অফিস ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

তারেকুর রহমান   |   বুধবার, ১৮ মে ২০২২

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বহুতল অফিস ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বহুতল অফিস ভবনের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ১০ টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে ভবনটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজার মুক্তিযোদ্ধা মাঠ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কউক ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সচিব মো. শহীদ উল্লাহ খন্দকার, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ প্রমুখ।

২০১৭ সালে ২৭ মার্চ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বহুতল অফিস ভবন নির্মাণের জন্য ১ একর ২১ শতক জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ২০১৭ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বহুতল অফিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় কউক এর বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। একই বছর ১৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস এবং
২০১৭ সালের অক্টোবর হতে ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় এবং ২০২১ সালের ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে।

উদ্বোধকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বিজড়িত কক্সবাজারে অনেক উন্নয়ন হয়েছে এবং বড় বড় মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে উন্নয়নের যে কর্মযজ্ঞ চলছে সেগুলো সম্পন্ন হলে এটি পৃথিবীর বুকে একটি ডিজিটাল আইল্যান্ড হিসেবে পরিচিত লাভ করবে। শুধু তাই নয়, দেশের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফকে ঘিরে রয়েছে মহা পরিকল্পনা। টেকনাফ সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকতে রূপান্তর করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আগে ক্ষমতায় ছিল তারা সমুদ্র নগরী কক্সবাজারের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেনি। তাদের ভাবনায় ছিল সবসময় খুনোখুনি, হত্যা। বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়ন নিয়ে ভাবে, দেশের মানুষের শান্তি নিয়ে ভাবে। সেই লক্ষ্যে উন্নয়ন করে যাচ্ছে সারা দেশে। কক্সবাজারেও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, রেললাইন, বিদ্যুৎ প্রকল্প, আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া কমপ্লেক্স ইত্যাদি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কক্সবাজারে আরো অনেক বেশি উন্নয়ন হবে। এখানে উন্নত মানের শুটকি মার্কেট করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশি পর্যটকরা সমুদ্রসৈকত দেখতে আসলে অনেক কিছু উপভোগ করতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘কক্সবাজারের উন্নয়নকে আরো গতিশীল করতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি করা হয়েছে। মেধাবী কর্মকর্তাদের সুদক্ষ পরিচালনায় কক্সবাজারকে তারা সর্বোচ্চ উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে এই বিশ্বাস রেখে আজ কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বহুতল অফিস ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, ‘১৯৭২ সালে কক্সবাজারকে সৌন্দর্য মণ্ডিত করার জন্য ঝাউ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন। আজ সমুদ্রতীরের ঝাউবন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি হয়ে আছে। কক্সবাজারের উন্নয়নের জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যথেষ্ট আন্তরিক। তিনি সবসময় কক্সবাজারের মানুষের কথা ভাবেন। সেই লক্ষ্যে কক্সবাজারের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) করার সিদ্ধান্ত নেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এগিয়ে বাংলাদেশ। তারই অংশ হিসেবে উন্নয়নের ছোয়া নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কক্সবাজার।

কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, কউক ভবনে অসংখ্য সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভবনে মুক্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিতকরণে ভেন্টিলেটরসহ ক্রস ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা। স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি)। নবায়নযোগ্য জ্বালানী হিসেবে সোলার প্যানেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক ফিটিংস যন্ত্রপাতি।

এছাড়াও রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং, আরবরিকালচার, সিসিটিভি, ফায়ার প্রোটেকশন সিস্টেম, সিকিউরিটি পাইটিং, ২০০ আসন বিশিষ্ট একটি মাল্টিপারপাস হল, ১৫০ আসন বিশিষ্ট তিনটি সেমিনার হল, ১৫০ আসন বিশিষ্ট দুইটি কনফারেন্স হল, বজ্রপাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ভবনের ১০ তলায় রেস্টহাউজের সুবিধা।

বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা। কিন্তু কাজ শেষে টাকা সাশ্রয় হয় ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তা সরকারি ফান্ডে ফেরত দেয়া হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নকশা প্রনয়ন করেন স্থাপত্য অধিদপ্তর।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেন।

প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধবের মাপকাঠিতে সবুজ প্রকল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে। এ ভবনের ৮ম তলায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিস হিসেবে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, বিজিবি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments

Posted ১:৫৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৮ মে ২০২২

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(485 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com