• শিরোনাম

    কক্সবাজার জেলা কারাগারে অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক ঃ শুরুতেই মিলেছে প্রমাণ

    দেশবিদেশ ডেস্ক | ১৭ জুন ২০১৯ | ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

    কক্সবাজার জেলা কারাগারে অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক ঃ শুরুতেই মিলেছে প্রমাণ

    কক্সবাজার জেলা কারাগারে লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করেছে দূর্ণীতি দমন কমিশন(দুদক)। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার দুদকের একটি দল কারাগারের ভেতরে গিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র দেখেন এবং বন্দিদের সাথে কথা বলেন।
    অনুসন্ধানের শুরুতেই নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান দুদক কর্মকর্তারা। অনুসন্ধানের নেতৃত্ব দেন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হুমায়ুন কবির ও উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন।
    উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ‘কাগজপত্র দেখে এবং বন্দিদের সাথে কথা বলে অনুসন্ধানের শুরুতেই নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- খাবার ক্যান্টিনে নানা অনিয়ম, মেডিকেলে অধিকাংশ ইয়াবা ব্যবসায়ির অবস্থান এবং একটি নির্দিষ্ট সেলে উখিয়া-টেকনাফের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির চার ভাই ও এক আত্মীয়ের থাকা।’
    জানাযায়, কক্সবাজার জেলা কারাগারে লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে সাম্প্রতিক সময়ে । অনিয়ম-দুর্নীতির মাত্রা এমনই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কারাগারে আটক বন্দিদের নিকট এক কেজি গরুর কাঁচা মাংস বিক্রি করা হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। সেই সঙ্গে কাঁচা মুরগির মাংস বিক্রি করা হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০০ টাকা করে। এত উচ্চ দামের মাংসের ক্রেতারা হচ্ছেন- আত্মসমর্পণ করা কোটিপতি কারাবন্দি ইয়াবা কারবারিরা।
    কারাগারের বন্দিদের সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলতে আদায় করা হয় জনপ্রতি ১২০০ টাকা করে। এর পরবর্তী মিনিট নেয়া হয় ১০০ টাকা করে। কারাগারের ভেতর থাকা ক্যান্টিন ব্যবসায় প্রতিমাসে ৭০/৮০ লাখ টাকা লাভ হয়। এ ক্যান্টিনেই ২ টাকার শপিং ব্যাগ বিক্রি করা হয় প্রতি পিস ২০ টাকা।
    সাধারণত দেশের প্রতিটি কারাগারে দুর্নীতি-অনিয়ম চলে আসলেও কক্সবাজার জেলা কারাগারের সাম্প্রতিক চিত্র ভিন্ন রকমের।
    কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছে ৪ হাজার ২৬০ জন। এসব বন্দির মধ্যে শতকরা ৭০ জন অর্থাৎ তিন হাজারেরও বেশি রয়েছেন ইয়াবা কারবারি।
    কারাকর্মীরা ইয়াবা কারবারিদের টার্গেট করে যেনতেনভাবে টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এমন কাজের খেসারত দিতে হচ্ছে অন্যান্য অপরাধে জড়িত সহস্রাধিক বন্দিদের। বিশেষ করে গত ১৬ ফেব্রয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করা ১০২ জন কোটিপতি ইয়াবা কারবারি কারাগারে অবস্থানের পর থেকেই কারা অভ্যন্তরের পরিস্থিতি বদলে গেছে। আগে কারা অভ্যন্তরে সিট বেচাকেনার বিষয়টি অনেকটাই সহনশীল ছিল। কিন্তু ইয়াবা কারবারিদের কারণে এখন অন্যান্য মামলার বন্দিরা আর কোনো সিট কিনে থাকতে পারছেন না। কেননা কারবারিরা যে টাকা দিয়ে সিট কিনে কারাগারের ভেতর থাকতে পারছেন তা অন্যান্য বন্দিদের কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
    কারাগারে পানির অভাব হওয়ায় আত্মসমর্পণ করা টেকনাফের হ্নীলা গ্রামের বাসিন্দা এক ইয়াবা কারবারি নিজেই ৭/৮ লাখ টাকা খরচ করে ২টি গভীর নলকূপও স্থাপন করে দিয়েছেন। বিনিমেয় ওই কারবারি কারাগারের ২০টি ওয়ার্ডের যেখানেই ইচ্ছা সেখানেই দিনরাত কাটাতে পারেন। নলকূপ স্থাপনকারী কারবারির কদরও কারাগারে এখন অন্যরকমের। তিনি কারারক্ষীদের নিকটও বিশেষ মর্যাদা পেয়ে আসছেন। কেননা নলকূপের পানি নিয়েও চলছে ভালো বাণিজ্য।
    জেলা কারাগারের ভেতরে বর্তমানে ২০টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ড মিলে রয়েছে ৫টি ক্যান্টিন। এছাড়া ওয়ার্ডের বাইরে কারা ফটকেও রয়েছে আরো একটি ক্যান্টিন। ক্যান্টিনগুলোই মূলত কারাবন্দি মানুষগুলোকে জিন্মি করে টাকা উপার্জনের বড় ফন্দি হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ