সোমবার ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

খানা খন্দক ও ছোট বড় গর্তে একাকার

কক্সবাজার-টেকনাফ মহা-সড়কে যাত্রীদের অসহনীয় দূভোর্গ

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া   |   বৃহস্পতিবার, ০৪ জুলাই ২০১৯

কক্সবাজার-টেকনাফ মহা-সড়কে যাত্রীদের অসহনীয় দূভোর্গ

কক্সবাজার টেকনাফ শহীদ এটিএম জাফর আলম আরাকান সড়ক এখন অস্থিত্ব সংকটে পড়েছে। শুস্ক মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও চলমান বর্ষায় মারাত্মক সড়ক দূর্ঘটনা মাথায় রেখে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। এমন অভিযোগ যানবাহন চালকদের। এ সড়কটি দেশের সর্বদক্ষিণে যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম হওয়াতে সড়কটি অনেকটা গুরুত্ব বহন করলেও তড়িঘড়ি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। সড়ক ও জনপদ বিভাগ মাঝে মধ্যে পরিত্যক্ত ভাঙ্গাচুরা ইট সড়কের গর্ত ভরাট করে দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করতে দেখা গেছে। সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানালেন, সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে।
মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচু্যৃত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া- টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। এসব রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবায় এগিয়ে আসা এনজিওদের ব্যবহৃত যানবাহন ও ক্যাম্পে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি এবং নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ কাজে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গত ২০ মাসে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কটির পুরো অংশে খানা খন্দক ও ছোট বড় গর্তে একাকার হয়ে পড়েছে। এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের তথ্যমতে ২০ মাসে মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেছে প্রায় ৬৫ জন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। আহত হয়েছে আরো শতাধিক। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), সড়ক ও জনপদ বিভাগের যৌথ অর্থায়নে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত শহীদ এটিএম জাফর আলম আরাকান সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কাজ শুরু হওয়ায় এতদ্াঞ্চলের মানুষ স্বস্তির নিশ^াস ফেলেছিল। উক্ত সড়ক নির্মাণ কাজ বর্ষার আগেই দৃশ্যমান উন্নয়ন না হওয়ায় সড়কটি অবস্থা বর্তমানে কাহিল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করে যাত্রী সাধারণ জানান, সড়কটির এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কোন খানে গেলে আবার যে ফিরে আসা হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ব্যস্ততম এ সড়কটির দ্রুত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্মাণাধীন ৫০ কিলোমিটার সড়ককে ২টি প্যাকেজে ভাগ করেছে। তৎমধ্যে প্রথম প্যাকেজ ১শত ২২ কোটি টাকা চুক্তি সাপেক্ষে কক্সবাজার লিংক রোড থেকে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে টিসিসিএল এন্ড মেসার্স জামিল ইকবাল লিঃ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। ২য় প্যাকেজ ১শত ৫৪ কোটি টাকা চুক্তি সাপেক্ষে উখিয়ার ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন থেকে টেকনাফের উনচিপ্রাং পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে তাহের ব্রাদার্স লিঃ, হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিঃ ও সালেহ আহমদ বাবুল নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। উখিয়া বাস-মিনিবাস মালিক শ্রমিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো জানান, ঠিকাদারী সংস্থার কাজের গতি দেখে মনে হয় এ সড়কটি আগামী ৫ বছরেও উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হবে না। সড়ক পথে মানুষের আহাজারি, যাত্রীদের দুভোর্গ যেন এক নিত্যদিনের চিরাচরিত প্রথায় পরিণত হয়েছে। তিনি অবিলম্বে কাজের গতি বাড়িয়ে এলাকার মানুষের যাত্রা দুভোর্গ কমিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, সড়কের উভয় দিকে ৩ ফুট করে ৬ ফুট এবং জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৪৫ ফুট সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, নির্মাণ কাজের গুনগতমান ও টেকসই উন্নয়ন কাজ করার জন্য ঠিকাদারদের নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সড়কের বিভিন্ন অংশে দখল বেদখল ও অবৈধ স্থাপনা সহ সড়কের অংশ বিশেষ পুণঃ মাটি দিয়ে ভরাট করতে গিয়ে উন্নয়ন কাজ এগোয়নি। তিনি বলেন, দুটি প্যাকেজে ৫০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের আওতায় আনা হয়েছে তা অতিসম্প্রতি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছিল বিধায় প্রথম ধাপে ৫০ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে সড়কের বাকী অংশগুলোর নির্মাণ ও সম্প্রসারণের আওতায় আনা হবে। উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী কক্সবাজার টেকনাফ সড়ক সংস্কার কাজে দায়িত্বরত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কের যে করুণ পরিনতি হয়েছে এমন অবস্থায় কোন লোকজন যদি মারা যায় তার দায়ী ভার সংশ্লিষ্টদের বহন করতে হবে। তাছাড়া সড়ক পথে যাত্রী সাধারণের অসহনীয় দুর্ভোগ ও নিত্য যানযট বর্ষার কারণে আরো দ্বিগুন বেড়েছে। এমতাবস্থায় নির্মাণ কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, এসড়কটি উন্নয়নের জন্য এডিবি ৫৮০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়ার পরও কেন উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না তা নিয়ে জেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করার সম্মতি প্রকাশ করেছেন।

Comments

comments

Posted ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুলাই ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com