মঙ্গলবার ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

কক্সবাজার থেকে ৬ষ্ঠ দফায় ভাসানচরের পথে ২৪৯৫ জন রোহিঙ্গা

  |   মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ ২০২১

কক্সবাজার থেকে ৬ষ্ঠ দফায় ভাসানচরের পথে ২৪৯৫ জন রোহিঙ্গা

শহীদুল ইসলাম, উখিয়া:
উখিয়া-টেকনাফ ক্যাম্প থেকে থেকে ৬ষ্ঠ দফায় ৫ হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে।৩০শে মার্চ ৬ষ্ঠ দফায় ২৪৯৫ জন রোহিঙ্গা নর-নারী শিশুসহ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওনা হন । দুপুর ১২টার দিকে তাদের মধ্যে ৮৮৪ জন রোহিঙ্গা ও দুপুর ২টার দিকে ৮৯০ জন ও বিকাল ৪টার দিকে ৭১৯কে ১৫টি বাসে করে মোট ৪৭টি বাস যোগে ২৪৯৫ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন বলে কক্সবাজার শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) দুপুর ১২টা ও দুপুর ২টা এবং বিকাল ৪ টার দিকে উখিয়া কলেজ মাঠ থেকে এসব বাস উখিয়া ত্যাগ করেন। প্রশাসন ভাসানচরের যাওয়ার উদ্দেশে উখিয়া কলেজ ট্রানজিট পয়েন্ট ক্যাম্পে তাদের খাবার,পানি,ঔষধ দেন। মঙ্গলবার ভোর থেকে ২০ টি মিনিবাসে করে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে উখিয়া কলেজ ট্রানজিট পয়েন্ট ক্যাম্পে নিয়ে আসেন সংশ্লিষ্টরা।তাদের মালামাল বহনকারী ১১ কার্গো সঙ্গে ছিলেন। এছাড়াও রোহিঙ্গা বহরের আগে পিছনে ছিলেন এম্বুলেন্স ও আইনশৃংখলা বাহিনীর গাড়ি রয়েছে। কক্সবাজার অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ্দৌজা নয়ন বলেন, স্বেচ্ছায় যেতে এমন আগ্রহী প্রায় দুই হাজার ৪৯৫ জন রোহিঙ্গাকে ৬ষ্ঠ দফায় ভাসানচরে যাওয়া উদ্দেশ্য রওনা দেন। এসব রোহিঙ্গাদের বুধবার (৩১ মার্চ) চট্টগ্রাম থেকে নৌবাহিনীর তত্ত¡াবধানে তাদের পতেঙ্গা থেকে ট্রলারে করে নোয়াখালীর ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে।

রোহিঙ্গা মাঝিরা জানান স্বেচ্ছায় রাজি হয়ে রোহিঙ্গারা ভাসানচরে গিয়ে সেখানকার পরিবেশ থাকা খাওয়ার সুবিধা উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জানালে যারা যেতে রাজি হয়েছে তাদের নিবন্ধনের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হচ্ছে। কুতুপালং রোহিঙ্গারা শরনার্থী শিবির ঘুরে দেখা যায় নিবন্ধনের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ভাসাচর স্থানান্তরে রাজি হওয়া রোহিঙ্গারা তাদের আতœীয় স্বজনদের কাজ থেকে বিদায় নিচ্ছেন। এসব রোহিঙ্গাদের মাঝে আবেগঘন মুহুর্ত লক্ষ করা যায়। তারা একে অপরের সাথে বিদায় কুশল বিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে পঞ্চম দফায় কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির থেকে ১৪ হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। ইতোমধ্যে ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ জন, ২৯ ডিসেম্বর ১ হাজার ৮০৪ জন এবং চলতি বছরের ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় দফার ৩ হাজার ২৪২ জন ও চতুর্থ দফায় ৩ হাজার ১৫ জন ও ৫ম দফায় ৪ হাজারের অধিক রোহিঙ্গাসহ ১৪ হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে গত মে মাসে ভাসানচরে নিয়ে যায় সরকার, তারাও সেখানে রয়েছেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট পর থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এছাড়া নতুন-পুরনো মিলে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। শরণার্থীদের চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ জানান উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্প-২,৩,৪,৫,৬,৭,১৭ থেকে তাদেরকে মঙ্গলবার ভোর থেকে মিনি বাসে করে উখিয়া কলেজ মাঠ ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। তিনি বলেন ঐসব রোহিঙ্গাদের আজ ৩১ মার্চ বুধাবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে করে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে।

এডিবি/জেইউ।

 

Comments

comments

Posted ৫:২৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(193 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com