• শিরোনাম

    গুজবে কান না দিয়ে সচেতন হোন - জেলা প্রশাসক

    কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে করোনার প্রভাব

    এম.আর মাহবুব | ১১ মার্চ ২০২০ | ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

    কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে করোনার প্রভাব

    কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত দু’দিনে হঠাৎ করে কক্সবাজারে পর্যটক আসা-যাওয়া নেই বললেই চলে। রাজধানী ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী দূরপাল্লার লাক্সারী বাস সমূহে পর্যটক যাত্রী আশংকাজনক হারে কমে গেছে। যার কারণে ভর পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার সাগর-সৈকত ও কলাতলি হোটেল মোটেল জোনে অন্য দিনের মতো পর্যটকের গিজ্ গিজ্ ভাব নেই। কক্সবাজারের পর্যটন স্পট গুলো সর্বত্রই ফাঁকা। অনেক হোটেলে অগ্রিম বুকিং দেয়ার পরও বিশ^ব্যাপী আতংকের মহা ভাইরাস করোনার কারণে বুকিং বাতিল করেছে। বিষয়টি জানিয়েছেন বেশ ক’জন হোটেল মালিক। মুজিব শতবর্ষ ও মহান ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে আবাসিক হোটেল-মোটেল এবং রেস্তোরা মালিক ব্যবসায়ীরা পুরো মার্চ মাসকেই পর্যটন মাস হিসেবে টার্গেট করে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের আতংকে মানুষ বেড়ানোতো দূরের কথা,ঘর থেকে বেরোতেই ভয় পাচ্ছে। গত তিন দিন ধরে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক তেমন যায়নি। কক্সবাজার- সেন্টমার্টিন নৌ-পথে যাতায়াতরত বিশাল পর্যটকবাহী জাহাজ গুলো রেকর্ড কম যাত্রী নিয়ে যাওয়া-আসা করেছে। গতকাল পর্যন্ত কক্সবাজারের কোথাও করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। আইসোলেশনে নেয়া হয়নি কোন সন্দিগ্ধ রোগী। সব মিলিয়ে ভাইরাস করোনা আতংক কক্সবাজার পর্যটন ব্যবসায় আকাল আনলেও করোনা থেকে এখন পর্যন্ত নিরাপদই আছে কক্সবাজারবাসী। তবে জেলার সবর্ত্র মাস্ক সংকট দেখা গেছে ফার্মেসী- দোকান গুলোতে। অতিরিক্ত দাম গুণেও মাস্ক সংগ্রহ নিতে পারেননি আতংকিতরা। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন- করোনা নিয়ে গুজ নয়। গুজব ছড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গুজবে কান না দিয়ে সচেতন হোন।
    এদিকে ঢাকায় তিন বাংলাদেশি করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে সীমান্ত এলাকা কক্সবাজারের টেকনাফে সর্তকতা বাড়ানো হয়েছে। কেননা সীমান্তের পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র মিয়ানমারের সাথে টেকনাফ স্থলবন্দর ও করিডোরে বিভিন্ন পণ্য ও পশু বোঝাই জাহাজ ও ট্রলারের যাতায়াত রয়েছে। ফলে বন্দরে আগত ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ স্কেনিং এর মাধ্যমে তাদের পরিক্ষা করা হচ্ছে নিয়মিত। তবে পরিক্ষাকারীরা নিজেরাই ভয়ের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

    এদিকে টেকনাফস্থল বন্দরে একটি মেডিকেল টিম মিয়ানমার থেকে আসা প্রতিটি ট্রলারে থাকা মাঝিমাল্লাদের করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই মেডিকেল টিমের টিম লিডার হচ্ছেন ডা: শুভ্র দেব।
    করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কক্সবাজার জেলা। এই ভাইরাসের চিকিৎসা না থাকায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই সতর্কতা। ইতোমধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দর এবং টেকনাফ নৌ-বন্দরে নেয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
    রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে রূপান্তর করা হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কাউকে শনাক্ত করা গেলেই তাকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে চিকিৎসা দেয়া হবে এই কোয়ারেন্টাইনে। পাশাপাশি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টার। যদিও গতকাল পর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়নি।
    সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর এবং টেকনাফ নৌ-বন্দরে মেডিকেল টিম প্রেরণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে যাতায়াতকারী বিদেশী নাগরিকদের তথ্য। বিমানবন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনকালে মাস্ক, গøাভসসহ নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন সরঞ্জামাদি পরিয়ে দেয়া হচ্ছে। যাতে তাঁদের কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হন। একই সঙ্গে স্ক্যানিং এর মাধ্যমে বিমানযাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে।

    কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্-আল-ফারুকের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে প্রবেশের পাশ (অনুমতিপত্র) দিতে বলায় আমি অনুমতিপত্র দিয়েছি। ঢাকা হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্যানিং করে বিদেশি এবং বিদেশ ফেরত স্বদেশীদের দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা হচ্ছে। কক্সবাজার থেকে ডমেস্টিক ফ্লাইট চলাচল করে। তারপরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সরকারি নিদের্শনা মোতাবেক কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
    কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সদর হাসপাতালে স্থাপিত ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টার পরিচালনার জন্য ১২ জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যাঁদের মধ্যে ডাক্তার, নার্স এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। কিভাবে এই ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়া যাবে সেই বিষয়ে উল্লিখিত ১২ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাঁদের জন্য রাখা হয়েছে, মাস্ক, গøাভ্সসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ।

    বর্তমানে কক্সবাজারে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার কোন ব্যবস্থা নেই। তবে, যদি কারো মধ্যে এই ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাহলে তাঁকে হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসাধীন রেখে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এরপর সেই নমুনা ঢাকাস্থ আইইডিসিআর এ পাঠানো হবে । সেখান থেকেই জানানো হবে নমুনা সংগ্রহকৃত ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নাকি নয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ