• শিরোনাম

    কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রের আরডি মাহফুজের কোটি টাকার দূর্নীতি ঃ নারী প্রীতি-স্বেচ্ছাচারিতা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ আগস্ট ২০১৯ | ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

    কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রের আরডি মাহফুজের কোটি টাকার দূর্নীতি ঃ নারী প্রীতি-স্বেচ্ছাচারিতা

    রাষ্ট্রয়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রে দূর্নীতি নামের ভূতের আছর কিছুতেই ছাড়ছেনা। বেতার কেন্দ্রের সর্বোচ্চ কর্তা-ব্যক্তির লাগামহীন দূর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও নারী কেলেংকারীর মত ঘটনা এই প্রতিষ্ঠানটির ট্রেডে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে আরেক দূর্নীতির বরপুত্র অন্যত্র বদলি আরডি হাবিবুর রহমানের পর এখন কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রের আরডি মাহফুজ যেন দূর্নীতির মহারাজা! এনিয়ে রাষ্ট্র চালিত অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যত নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন বেতার কেন্দ্রের শিল্পীর, কলাকৌশলবসহ কক্সবাজারের সচেতনমহল। প্রাপ্ততথ্য ও সূত্র জানায়-
    কক্সবাজার বেতার কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন রাত আটটায় প্রচারিত হয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘মিউজিক্যাল শো’। বাজেট স্বল্পতার অজুহাতে গত এপ্রিল মাসে এ অনুষ্ঠানটি রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র চারটি। চারটি অনুষ্ঠানে তিনহাজার ২০০টাকা সন্মানী দেওয়া হলেও অনুষ্ঠানটির ‘এ্সএমএস লিপিবদ্ধ-যাচাই করণ’ এবং দমিক্সিং’-এর নাম দিয়ে এ মাসে ভূয়া বিল করা হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। এভাবে এই একটি অনুষ্ঠানেই গত দুই বছরে দশলাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। শুধু তাই নয়, বহিরাঙ্গন,ঘোষক-ঘোষিকাদের সন্মানী, জীবনের জন্য,জীবনের জন্য ফোন-ইন,সোনালী জীবন,নিসর্গ,সাগরপাড়ের জীবনসহ নিয়মিত প্রায় ১৫টি অনুষ্ঠান থেকে লাখ লাখ টাকা অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে কক্সবাজার বেতারের বর্তমান আঞ্চলিক পরিচালক (আরডি) মো. মাহফুজুল হকের বিরুদ্ধে।

    এছাড়াও ইউনিসিফের অর্থায়নে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনিয়মের চিত্র আরও ভয়াবহ।গত দুই বছর ধরে ভূয়া-বিল ভাউচার তৈরী করে দিয়ে আরডিকে এসব দুর্নীতিতে সহযোগিতা করছেন অনুষ্ঠান বিভাগের ক্যাজুয়াল স্টাফ নিরুপা পাল ও উপস্থাপক (নিজস্ব শিল্পী) সানুচিং মার্মা।
    শিল্পীরা জানান,বর্তমান আরডি মাহফুজের নারী কেলেংকারীর বিষয়টিও বর্তমানে শিল্পী সমাজে বেশ আলোচিত বিষয়। বিভিন্নস্থানে নারী সহকর্মীদের নিয়ে একান্তে সময় কাটানোর কিছু অস্বাভাবিক ছবি ও ভিডিও বাইরে প্রচার হলে তা নিয়ে শিল্পী সমাজে তোলপাড় শুরু হয়। আর্থিক অনিয়মের ডকুমেন্ট কাগজপত্রসহ অস্বাভাবিক ঘটনার ভিডিও,অডিও,ছবি এ প্রতিবেদকের কাছেও সংরক্ষিত আছে।
    এদিকে আরডি মাহফুজের নানা অনিয়মের শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার বেতার শিল্পী সমন্বয় পরিষদের নির্বাহী সভাপতি ও বেতারের নাট্য প্রযোজক জসীম উদ্দিন বকুল।
    তিনি বলেন,আরডি মাহফুজের আর্থিক অনিয়ম বেতারের অতীতের সব ধরনের অনিয়মকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি যোগদানের পর থেকে অন্তত কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এর সিংহভাগই শিল্পীদের টাকা। এছাড়াও তার নারী কেলেংকারীর ঘটনাগুলো বেতারের ভাবমূর্তিকে দারুণভাবে ভুলুন্ঠিত করছে।
    এসব অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে এবং আরডিসহ সংশ্লিষ্ঠদের শাস্তির দাবিতে তথ্যমন্ত্রী ও বেতারের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ প্রদান এবং বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজনের প্রস্ততি চলছে বলে জানান তিনি।

    জানাগেছে,গত ৩০ এপ্রিল কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক’ বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠান। জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে পাঠানো শিল্পী সন্মানীর তালিকায় ১ থেকে ৬ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে সংগীত শিল্পী ইস্কান্দার মীর্জা,ফারিহা জাহান টুইংকেল,জিন্নুরাইন মোস্তারী হীরা,দেলোয়ার হোসেন,নাজনীন সুলতানা ও মরিয়ম বেগম মারিয়ার নাম। এদের প্রত্যেকের নামে ২০ হাজার টাকা করে শিল্পী সন্মানী দেখানো হলেও বাস্তবে তাদের দেওয়া হয়েছে ৩০০০-৪০০০ টাকা। ছয়জনের প্রথম পাঁচজন শিল্পী এ প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
    সাউন্ড সিস্টেম ও মনিটর কটলেস ভাড়া বাবদ দুইটি পৃথক ভাউচারে ২৫ ও ২৩ হাজার করে মোট ৪৮ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। কিন্তু সাউন্ড সিস্টেমের মালিক ফরমান রেজা জানান,তাকে সর্বসাকুল্যে দেওয়া হয়েছে ১০হাজার টাকা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ছয়জন যন্ত্রী ও ১ জন সংগীত প্রযোজকের নামে ৫০০০ টাকা করে ৩৫ হাজার টাকা বিল উত্তোলন করা হলেও যন্ত্রীরা জানিয়েছেন,তাদের দেওয়া হয় ১০০০-২০০০টাকা করে।

    ক্ষোভ প্রকাশ করে সংগীত শিল্পী ইস্কান্দার মীর্জা জানান, অতীতেও এ ধরনের নানা অনিয়ম নিয়ে শিল্পীরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে অনিয়ম এখন আগের চেয়ে আরও বেড়ে গেছে।
    বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠানের উপিস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন বেতারের অনুষ্ঠান ঘোষক অধ্যাপক নীলোৎপল বড়ুয়ার ও অধ্যাপক শরমিন সিদ্দিকা লিমা । তারা জানান, বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠানের খরচের বিল দেখে তারা রীতিমত অবাক হয়েছেন। এখানে ৩১টি খাতে সাড়ে তিনলাখ টাকা বিল উত্তালন করা হলেও জানামতে বাস্তবে লক্ষাধিক টাকার বেশি খরচ হয়নি।
    নীলোৎপল বড়ুয়া বলেন, উপস্থাপনার সন্মানী বাবদ তাদের প্রতিজনের নামে পাঁচহাজার টাকা করে বিল দেখানো হলেও দেওয়া হয়েছে দুইজনকেই পাঁচ হাজার টাকা।

    শুধু বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠান নয়, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো শিল্পী সন্মানীর টাকার বিলের তালিকায় দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে ‘মিউজিক্যাল শো’ অনুষ্ঠানের ‘এসএমএস যাচাই-বাছাই ও লিপিবদ্ধ করণের নামে কনট্রাক্ট দেখিয়ে বিলের ৫৬ থেকে ৭৪ নম্বর ক্রমিকের মধ্যে সাবরিনা সিদ্দিকা ইতি- ৯৬০০ টাকা,স্মৃতি মল্লিক-৯৬০০ টাকা,রাবেয়া আক্তার-৯৬০০টাকা,মোকারমা খানম টুম্পা-৯৬০০ টাকা মো. শাহরিয়ার (মিক্সিং)-৭২০০টাকা,মো. জাহাংগীর আলম-৩৬০০টাকা ও মংছেন-এর নামে ৭২০০টাকাসহ প্রায় ৫৫ হাজার টাকা বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তবে জানতে চাইলে এসব বিলের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ শিল্পীরা।
    এ তালিকায় থাকা বেতারের ক্যাজুয়াল স্টাফ মংছেন রাখাইন বলেন,আমি অনেকদিন ধরে বেতারে নেই। এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকুরী করছি। এই বিলের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। এমনকি মিউজিক্যাল শো মিক্সিং কাজ আমি কোনদিন করিনি এবং -এ খাতে একটি টাকাও কোনদিন পাইনি।
    অন্যদিকে শিল্পী সন্মানী রেজিষ্টারে দেখা গেছে, ‘মিউজিক্যাল শো’ অনুষ্ঠানের নাম দিয়ে বিভিন্নজনের নামে এসব বিল করা হলেও সবার পক্ষে স্বাক্ষর করে এসব টাকা গ্রহন করেছেন নিজস্ব শিল্পী সানুচিং মার্মা।
    তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সানুচিং মার্মা বলেন, আমি স্বাক্ষর করে টাকা তুলেছি ঠিক,কিন্তু প্রতিবারই এই টাকা তুলে আরডি স্যারকে দিয়ে দেওয়া হয়।
    শিল্পীর অভিযোগ করেন, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের শেষ দিকে বাজেট স্বল্পতার অজুহাতে গত মে ও জুন মাসে অনুষ্ঠান রেকডিং প্রায় বন্ধ রাখা হলেও‘মিউজিক্যাল শো’ নামের একটি অনুষ্ঠান থেকেই গত দুই বছরে অন্তত ১০লাখ টাকার অনিয়ম করেন আরডি মাহফুজ। এছাড়াও অন্তত ১৫টি অনুষ্ঠানের ভূঁয়া কন্ট্রাক্ট দেখিয়ে প্রকল্পের পাশাপাশি শিল্পী খাত থেকে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

    কক্সবাজার বেতারের রেডিও এনাউন্সার ক্লাবের সভাপতি সুনীল বড়ুয়া জানান, এই আরডি যোগদানের পরে ঘোষক-ঘোষিকাদের পক্ষ থেকে প্রতি শিপ্টে দুইজন করে উপস্থাপক দেওয়ার দাবি জানানো হলেও তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেননি। কিন্তু এখন দেখছি প্রতিমাসে অনুষ্ঠান ঘোষনা খাতেও হাজার হাজার টাকা ভুয়া বিল করা হচ্ছে। এমনকি গত জুন,১৯ মাসে একমাসে ৬০টি উপস্থাপনার বিল হওয়ার কথা থাকলে দেখানো হয় ৯২টি। বিষয়টি খুবই দঃুখ জনক।
    কক্সবাজার বেতার শিল্পী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বেতারের নাট্য প্রযোজক স্বপন ভট্টাচায্্যর্ জানান, বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠান এবং শিল্পী খাত থেকে মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ শিল্পীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক মো. হাবিবুর রহমানকে স্ট্যান্ডরিলিজ করে সিলেটে বদলী করা হয়। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্যি যে, অভিযোগ শতভাগ প্রমানিত হওয়ার পরও আজ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের বিভাগীয় বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। যে কারণে মাহফুজুল হকও বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি নারী কেলেংকারীর মত স্পর্শকাতর একটি অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন।

    এ সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি ও বেতারের নাট্য প্রযোজক জসীম উদ্দিন বকুল বলেন ‘পুকুর চুরি’ নয়,আরডি মাহফুজের আর্থিক অনিয়ম সাগর চুরি বললেও কম হবে। তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরডি মাহফুজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিল্পী সমাজকে নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামবো।
    শিল্পীদের অভিযোগ, আরডির অতি ঘনিষ্টজন হিসাবে নিরুপা পালকে রাজস্বখাত এবং ইউনিসেফের অর্থায়নে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কোটি কোটি টাকার প্রোগ্রামসহ প্রকল্পের সকল অনুষ্ঠানের বিল-ভাউচার তৈরীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত দুইবছর ধরে নিরুপা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালন করে আরডিকে কোটি কোটি টাকা অনিয়মের সুযোগ করে দিয়েছেন। এছাড়াও এই নারী প্রীতির ঘটনা সম্প্রতি শিল্পী ও স্টাফদের মাঝে দারুণ সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এমন কি সম্প্রতি তাদের কিছু অস্বাভাবিক ছবি ও ভিডিও বাইরে চলে আসায় বেতারের সুনাম দারুণভাবে ভুলুন্ঠিত হচ্ছে বলে জানান তারা।
    কক্সবাজার হিসাব রক্ষণ অফিস সুত্রে জানাগেছে, কক্সবাজার বেতারের অনুষ্ঠান খাতে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে তিন ধাপে শিল্পী সম্মানী খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯২ লাখ টাকা। এ ছাড়াও বাজেট,বিল ও অনুষ্ঠান পরিকল্পনা থেকে জানাগেছে- রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে ইউনিসেফের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সচেতনতামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দুইকোটি টাকারও বেশি।

    শিল্পীসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ- আরডি মাহফুজ যোগদানের পর থেকে গত দুই বছরে শিল্পী খাত এবং ইউনিসেফের প্রকল্প থেকে অন্তত দেড় কোটি টাকারও বেশি অনিয়ম করেছেন। যা সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।
    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ক্যাজুয়াল স্টাফ নিরুপা পাল বলেন, আমি কোন ধরনের অনিয়ম করিনি। অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও সত্যি নয়। একটি মহল আমার নামে এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
    ‘নানা অনিয়মের বিষয়য়ে কক্সবাজার বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক (আরডি) মো. মাহফুজুল হক বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত দূর্নীতির অভিযোগ সত্য নয়। বিষয়টি নিয়ে বেতারের শিল্পী সমিতি কিংবা তাদের কোন নেতা আমার কাছে অভিযোগ আনেননি। যদি কেউ সূ-নির্দিষ্ট অভিযোগ আনে আমি অবশ্যই খতিয়ে দেখবো। নারী প্রীতির কথাও অমূলক।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ