বুধবার ২৯শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

কচ্ছপিয়ায় রাবার ফেটে বিপাকে ২ হাজার কৃষক

মো. ইফসান খান ইমন, নাইক্ষ্যংছড়ি   |   মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২১

কচ্ছপিয়ায় রাবার ফেটে বিপাকে ২ হাজার কৃষক

কচ্ছপিয়ার মৌলভীকাটা রাবার ড্যামের রাবার ফেটে পানি নিচে সরে গেছে। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, রাবার ড্যামের উপর দিয়ে চোরাই কাঠ পাচার ও যথাযথ তদারকি না থাকায় বিপাকে পড়েছে ২ হাজার কৃষক।

পানিরস্তর আশংকাজনক পরিমান নিচে নেমে যাওয়ায় এই রাবার ড্যামের অধীনে আর কৃষির আবাদ করা যাবে না বলে আশংকা করছেন কৃষকরা । তারা মনে করেন, এই মূহুর্তে ড্যাম সেলাই বা নতুন ড্যাম বসিয়ে পূণরায় পানি উত্তোলন আদৌ সম্ভব হবে না।

স্থানীয় ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার যথাক্রমে জাকের আহমদ ও মোহাম্মদ ইউনুছ জানান, এই রাবার ড্যাম কচ্ছপিয়ার কৃষকের প্রাণ। এটির রাবার ফেটে গিয়ে ২ দিন ধরে পানি নিচে নেমে যাওয়ায় পানিস্তর আর নেই। এখন কৃষকদের প্রাণ যায় যায় অবস্থা। ২ হাজারের অধিক কৃষক বিপাকে পড়েছে এ কারণে ।

তারা আরো জানান, এ রাবার ড্যাম ফেটে যাওয়ার অনেক কারণ আছে।তন্মধ্যে রক্ষানাবেক্ষণ ও তদারকি না থাকা অন্যতম। দ্বিতীয়ত বালুদস্যুদের কাল ছিলো এটি। এভাবে নানা কারণে
এটি দ্বিতীয়বার ফেটে গিয়ে এ দূর্দশার কবলে পড়ে। এর আগে আরেকবার ফেটে গিয়েছিলো। সেটির সেলাইকৃত অংশ কিন্ত এবার ফাটে নি এখনও। রহস্য কী বের হবে ভালো করে তদন্ত করলে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ তৈয়ব বলেন, এখন সেলাই করলেও ততবেশী কাজ হবে না। হয়তো বা একতৃতীয়াংশ কৃষক তাদের ধান চাষ আবাদ করতে পারবে।

তিনি আরো জানান, এ ড্যাম ফেটে যাওয়ায় কারণ বের করা দরকার। কেননা
কারণ অনেক। তন্মধ্যে বালুদস্যুদের বদনজর একটি। হয়তো কৃষির চাইতে কোটি টাকার বালুই তাদের কাছে বেশী প্রয়োজন ছিলো।

এ ছাড়া এ রাবার বাগানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে কোন তারা দেখে নি। সুতারাং তদারকীর অভাব,ব্যক্তিকর্তৃক এককভাবে পরিচালনার কারণে এ রাবার ড্যামের এ অবস্থা হলো। এটির কারণে কারো শত্রু হলেও করার কিছুই তিনি দেখতে পারছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক জানান, বড়জাংছড়ি রাবার ড্যাম ব্যবস্ধাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি জহির উদ্দিন একজন বালুদস্যু। ড্যামটি তার হাতে যাওয়ায় পর থেকে নানা অনিয়ম-দূর্নীতি চলে আসছিলো এখানে। রক্ষণাবেক্ষণ বলতে কিছুই নেই এ রাবার ড্যামে। আর ড্যামের উজান থেকে বড়বড় কাঠ নিয়ে এসে ড্যামের উপর দিয়ে খালের নিচের অংশে পারাপার করা হয় রাতের আঁধারে।

এ ছাড়া অদক্ষ পরিচালনা আর উপজেলা কেন্দ্রিক দায়িত্বরত সরকারী টেকঅফিসাররা জহিরের সাথে আঁতাতের কারণে তদারকি কমিয়ে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্ট হয়।

তারা আরো জানান, এ ব্যবস্থাপনা কমিটি কৃষকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ উত্তোলন করলেও দীর্ঘ দিন ধরে কোন হিসেব নিকেশ দেয় না তাদেরকে।

তাদের মতে, যে কোনভাবে পানি কমে গেলে রাবার ড্যামের উপরের অংশ থেকে বালু উত্তোলন সহজ হবে। হয়তো বালু দস্যুদের কেউ এ রাবারটি ফুটো করে দিয়ে পানি কমিয়ে ফেলতে এ কাজ করেছে।

অপর একদল কৃষক জানান,সমিতি সরকারী। মিটিং নেই,হিসেব নেই,তদারকী নেই। কিছুই নেই। রাবার ড্যামে পানি ওভারফ্লু হলে পানি খরচ ১ থেকে দেড় হাজার টাকা আর পানি কমে গিয়ে ওয়াটার পাম্প বা পানির মেশিন দিয়ে পানি উত্তোলন করলে পানি খরচ নিতে পারবে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।
এ কারণে রাবার ড্যামের এ করুন দশা হলো।

এ বিষয়ে এ সমিতির সভাপতি জহির উদ্দিন বলেন,রাবার ড্যামের রাবারের জোড়ায় জোড়ায় ফেটে গেছে। করার কিছুই নেই। তবে তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন এসবই ষড়যন্ত্র। জিও ব্যাগ দিয়ে আজকালের মধ্যে পানি বন্ধ হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, এ রাবার ড্যামের অধিনে চাষ হয় ৬টি বিল এলাকাজুড়ে ধানচাষ । এখানে সমিতির সদস্য সংখ্যা রয়েছে ৯৯১ জন। কৃষক রয়েছে ২ হাজারের অধিক। অনেকে বলেছেন আড়াই হাজার।
এটি জেলার সর্ববৃহৎ রাবার ড্যাম, যা ককসবাজার জেলার রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বড়জামছড়ি খালের মৌলভীকা্টা এলাকায় । যা গত দেড় দশক আগে নির্মান করা হয়।

Comments

comments

Posted ১১:৪২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com