• শিরোনাম

    এক রফিকের দখলে শত কোটি টাকার খাস জমি

    কট্টর বিএনপি সমর্থক রফিকের ক্ষমতার উৎস কোথায় ?

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ জানুয়ারি ২০২০ | ২:০৪ পূর্বাহ্ণ

    কট্টর বিএনপি সমর্থক রফিকের ক্ষমতার উৎস কোথায় ?

    কক্সবাজার কোর্ট চত্বর এলাকায় দীর্ঘদিন মুন্সিগিরি করেছেন। এখন আইনজীবী হয়ে সরকারি খাস জমি দখলের অবৈধ ব্যবসায় নেমে বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন। মুন্সি রফিক নামে আলোচিত এই ব্যক্তির দখলে এখন শত কোটি টাকার খাস জমি। শুধুমাত্র কক্সবাজার শহরের মধ্যে ৪টি স্থানে অন্তত এক শত কোটি টাকা মূল্যের খাস জমি দখল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অবৈধভাবে জবর দখল করা জমিতে পাকা, সেমিপাকা বিশাল ঘর তুলে তা রোহিঙ্গাদের কাছে ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা কামাইও করছেন তিনি।

    কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার সাংবাদিকদের এ সব বিষয়ে বলেছেন, রফিক নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠায় তিনি স্থানীয় সহকারি কমিশনার ভুমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সরেজমিন গিয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দ্দেশনা দিয়েছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নিশ্চিত করেন যে, ভুমি অফিসের লোকজন সরেজমিন গিয়ে মাফঝোকের মাধ্যমে দেখতে পান যে, ওই ব্যক্তি সরকারি খাস জমিতেই জবর দখল করে রয়েছেন।
    সবচেয়ে বড় আশংকার স্থানটি হচ্ছে জেলা পুলিশ লাইন্স নিয়ে। রফিকুল ইসলাম নামের কট্টর বিএনপি ঘরানার ওই লোক জেলা পুলিশ লাইনস’র পার্শ্ববর্তী দু’টি স্থানে ভাড়া বাসা নির্মান করেছেন। যা কিনা পুলিশ লাইনস’র নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও বিঘœ সৃষ্টির আশংকা থেকেই যায়। কেননা জেলা পুলিশ লাইনস হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা। পুলিশ লাইনসে যেমনি থাকেন শত শত পুলিশ সদস্য তেমনি সেখানে রয়েছে পুলিশের অস্ত্রাগারও। পুলিশ লাইনসের দেয়াল সংলগ্ন এরকম অবৈধ বসতিতে যে কোন নাশকতাকারি অবস্থান নিয়ে নাশকতার মত জঘন্য ঘটনা ঘটালে তার দায় দায়িত্বইবা কে নেবে-এসব বিষয় উড়িয়ে দেয়ার মত কিছুতেই নয়।

    এসব বিষয় নিয়ে রফিকুল ইসলাম নামের সরকারি জমি দখলকারি ব্যক্তি বলেন, রোহিঙ্গারাও বিপুল সরকারি জমি দখল করে নিয়েছেন। তেমনি এদেশের আরো অনেক লোক যেমনি সরকারি জমি দখল করেছেন তিনিও তেমনি করেছেন আর কি। আবার এরকমও তিনি দাবি করেন যে, সরকারি খাস জমি সংলগ্ন তিনি জোত জমি কিনে নিয়েছেন। তবে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার সাংবাদিকদের এ সব বিষয়ে বলেছেন, রফিক নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি জবর দখলে অভিযোগ

    অভিযোগ উঠেছে, মুন্সি রফিকের এসব ভাড়া কলোনিতে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে একাধিক বার পুলিশ অভিযানও পরিচালনা করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত এই মুন্সি রফিক ইয়াবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমেও কোটি কোটি টাকা আয় করছেন। ইয়াবা গডফাদারদের জেল থেকে বের করতে নিয়মিত ইয়াবা মামলা নিয়েই তার চেষ্টা তদবির। বিষয়টি নিয়ে এখন কক্সবাজার জুড়ে চলছে তোলপাড়। এতদিন গোপন থাকলেও এখন বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। একই সাথে টাকার বিনিময়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে মুন্সি রফিক তার বিশাল দখলবাজীর নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার সদরের গোমাতলীর আমির সুলতানের পুত্র মুন্সি রফিক কক্সবাজার কোর্ট চত্বর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মোহরার হিসাবে কাজ করতেন। বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত রফিকুল ইসলাম নামের এ ব্যক্তি ২০১৪ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। এরপর থেকে ওই ব্যক্তি বিভিন্ন এলাকায় সরকারী খাস জমি দখলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কক্সবাজার শহরের বাইপাস সড়কে পুলিশ লাইনের পাশে ছরা ও পাহাড়ের সরকারি খাস জমি দখল করে পাকা দালান নির্মাণ করেছেন তিনি। সেখানে নিজের নামে তিনি রিতীমত সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
    শহরের কলাতলীর গোলচত্বর এলাকায় খাস জায়গা জবর দখলের পর সেখানেও পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন ওই ব্যক্তি। এমনকি সাগর পাড়ের সী বীচ রেষ্ট হাউজের পশ্চিমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবন সংলগ্ন স্থানেও সরকারী খাস জমি দখল করে ভাড়া বাসা নির্মাণ করেন তিনি। আর সেই ভাড়া বাসা থেকে প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ আয় করছেন বিপুল অংকের টাকা। একই ভাবে পুলিশ লাইনের দক্ষিণ পাশে সীমানা দেওয়াল সংলগ্ন স্থানে খাস জমি দখল করে সেখানে গড়ে তুলেছে বিশাল কলোনি। সেই কলোনি থেকেও প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ আয় করছেন লক্ষ টাকা। মুন্সি রফিক এভাবে একের পর এক খাস জমি দখল করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করলেও প্রশাসনের কোন অভিযান নেই।
    অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি’র একজন কট্টর সমর্থক রফিক মুন্সি সরকারের খাস জমি জবর দখল করে নিয়ে নানা ছলচাতুরির মাধ্যমে সেখানে ভাড়া বাসা নির্মাণ করেছেন। সরকারি জমির এসব ভাড়া বাসা থেকে উপার্জিত আয়ের বড় একটি অংশই তিনি দান করেন সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের জন্য। অথচ এতদিনেও সরকারের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারি বা সরকারী রাজনৈতিক দলের কোন নেতা-কর্মীও বিএনপি’র এতবড় আর্থিক সহযোগিতাকারির বিরুদ্ধে কোন আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা যায়নি। বরং রফিক মুন্সির এসব বিষয়ে কেউ মাতামাতি করলেই নাকি তিনি মামলা দিয়ে জেল খাটানোর হুমকি প্রদান করেন। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক পেশাজীবী লোকজন রফিক মুন্সির এসব দখলবাজি নিয়ে মাতামাতি করলে তিনি ‘দেখে নেয়ার’ হুমকি প্রদান করেছেন।
    সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, সম্প্রতি জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে পুলিশ লাইনের দেওয়ালের সাথে লাগানো দক্ষিণ পাশে রফিকের কলোনিতে অবৈধ ভাড়া বাড়ির গেইট সিলগালা করে দিয়েছে। কিন্তু এখনও উচ্ছেদ করা হয়নি এই অবৈধ স্থাপনা। ফলে ওই ব্যাক্তি তার কলোনিতে যাতায়াতের জন্য নতুন গেইট করে নিয়েছে। ভিতরে অবৈধ কর্মকান্ড এখনও বহাল রেখেছেন।
    সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার শহরের কলাতলীর বাইপাস সড়কের পাশে পুলিশ লাইনের পশ্চিমে রাস্তা এবং ছরা দখল করে তার উপর ১০০ ফুট দীর্ঘ আরও একটি টিনসেট পাকা স্থাপনা তৈরি করেছেন উকিল রফিক। সরকারি খাস জমি জবর দখল করে এখানে অবৈধ ঘর তুলে তা ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে বিপুল অর্থ আয় করলেও দেখার কেউ নেই।
    স্থানীয়রা জানান, রফিক উকিল নামে এই ব্যক্তি রাস্তা ও ছরা দখল করে এসব স্থাপনা তৈরি করেছে। অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা এসব স্থাপনায় দিনের বেলায় তেমন কোন মানুষ না থাকলেও রাতে সন্দেহজনক অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। এতে করে স্থানীয়রা আতংকে রয়েছেন। স্থানীয়রা সন্দেহ করছেন, কোন জঙ্গি তৎপরতা বা অবৈধ কোন কর্মকান্ড এসব স্থাপনায় চলছে। অনেকে বলছেন পতিতা ব্যবসা ও মাদক ব্যবসার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে রফিকের এসব আস্তানা। একই ভাবে শহরের বাহারছড়ার পশ্চিমে সহকারী পুলিশ সুপারের বাসভবন সংলগ্ন স্থানে সরকারী খাস জমি দখল করে পাকা বাড়ি ঘর তুলে সেই ঘর থেকে প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করলেও প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই।

    উকিল রফিক দাপটের সাথে বলেন- ‘সবাই খাস জমি দখল করে, আমিও করেছি।’ খাস জমি দখল করে নির্মিত কলোনির ভাড়ার টাকা বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারির পকেটে যায় বলেও উকিল রফিক দাবি করেন। সচেতন মহলের অভিমত, কক্সবাজার শহরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানের খাস জায়গা কোনো ব্যক্তির সম্পদ হতে পারে না। এটা রাষ্ট্রের সম্পত্তি। অথচ ভূমিদস্যু রফিক আইন পেশার আড়ালে একের পর এক সরকারী জায়গা দখল করে ভবন নির্মানের মাধ্যমে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবী রফিকের অর্জিত অবৈধ সম্পদ তদন্তে দুদকের অভিযান যেমনি দরকার তেমনি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পার্শ্ববর্তী এসব অবৈধ বাসা-বাড়ীও উচ্ছেদ করা এক্ষুনি প্রয়োজন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ