শনিবার ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

‘কমছে অক্সিজেন বাড়ছে বৃষ্টি, তলিয়ে যেতে পারে আটকা স্থান’

দেশবিদেশ অনলােইন ডেস্ক   |   শনিবার, ০৭ জুলাই ২০১৮

‘কমছে অক্সিজেন বাড়ছে বৃষ্টি, তলিয়ে যেতে পারে আটকা স্থান’

গুহার ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকহারে কমে আসায় এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের গুহায় আটকা কিশোর ফুটবলারদের উদ্ধারে হাতে সময় রয়েছে মাত্র তিন থেকে চারদিন। উদ্ধার অভিযানের ঝুঁকি বিবেচনা করে এ সময়ের মধ্যে কিশোরদের বাইরে নিয়ে আসার পথে যতদ্রুত সম্ভব এগোতে হবে বলে জানিয়েছেন উদ্ধার মিশনের প্রধান।

শনিবার থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই প্রদেশের গভর্নর ন্যারংস্যাক ওসোত্তানাকর্ন বলেছেন, ‘গুহার ভেতরে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে কিশোররা যে স্থানে আটকা রয়েছে, বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও সেই স্থানের ও উদ্ধারপথের আশপাশের পানি নিষ্কাশন অত্যন্ত সফল হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আজও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে গুহার ভেতরে পানির স্তর এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।’ কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েকদিন তীব্র বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে বর্ষণ তীব্র হওয়ার আগে ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারে হাতে অল্প কয়েকদিন রয়েছে।
গভর্নর ন্যারংস্যাক ওসোত্তানাকর্ন বলেছেন, ‘একটি কর্মপরিকল্পনা ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযানের জন্য আগামী তিন থেকে চারদিন হচ্ছে উপযুক্ত সময়। শনিবার গুহার পাশে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি বেশি দেরি করে ফেলি, তাহলেও আমরা জানি না কেমন বৃষ্টিপাত হবে।’

ন্যারংস্যাক বলেন, ‘গত সপ্তাহে ভারী বর্ষণের কারণে গুহার ভেতরে সকীর্ণ ও অসমতল স্থানগুলোতে সুনামি তৈরি হয়েছিল। গত ২৩ জুন থেকে থাইল্যান্ডের থ্যাম লুয়াং গুহায় আটকা রয়েছে স্থানীয় কিশোর ফুটবল দলের ১২ সদস্য ও তাদের কোচ।

যে কোনো ধরনের উদ্ধার অভিযানের আগে দুটি বিষয় বিবেচনায় নেয়া হবে। প্রথমত, কিশোররা যে জায়গায় রয়েছে সেখানকার বায়ু। শুক্রবার তিনি বলেন, গুহার ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে; যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গুহার ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা ২১ শতাংশ থাকলে সেটিকে স্বাস্থ্যের জন্য স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়।
গভর্নর ন্যারংস্যাক ওসোত্তানাকর্ন বলেন, গুহায় অক্সিজেনের মাত্রা যদি ১২ শতাংশের নিচে নেমে আসে তাহলে কিশোরদের মস্তিষ্কের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। এতে তারা আতঙ্কগ্রস্ত হতে পারে।

অতিরিক্ত বিপদ হচ্ছে, উদ্ধার কাজে নিয়োজিত শত শত উদ্ধারকারীর শ্বাসত্যাগের কারণে গুহার ভেতরে কার্বন মনো অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। ‘আমাদের কাছে যত পরিমাণেই অক্সিজেন থাকুক না কেন, আমরা বাঁচতে পারবো না (অতিরিক্ত কার্বন মনো অক্সাইডে)। কারণ আমাদের রক্ত বিষাক্ত হয়ে যাবে।

দ্বিতীয়ত, গুহার ভেতরের পানির স্তর। প্রথমবারের মতো উদ্ধার মিশন স্বীকার করে বলছে, বন্যার পানি বাড়তে থাকলে কিশোররা যে জায়গায় আটকা রয়েছে; সেই স্থানটিও তলিয়ে যেতে পারে।

ওসোত্তানাকর্ন বলেন, ‘আমি যতটুকু জেনেছি, পানির স্তর সেখানে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে তারা যে জায়গায় বসে রয়েছে সেটির আয়তন কমে মাত্র ১০ বর্গমিটার হতে পারে।’

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত পানির স্তর কমিয়ে আনার কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। কিশোরদের বের করে আনার জন্য উপযুক্ত সময় হচ্ছে পানির স্তর একেবারে শূন্যে নেমে আসা। কিন্তু এটি অসম্ভব, কারণ পানির স্তর শূন্যে নেমে আসবে ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে।

‘সুতরাং আমরা সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি না। দ্বিতীয় সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে তাদের বের করে আনার জন্য পানির স্তর যথাযথ পর্যায়ে নামিয়ে আনা। তিনি বলেন, পানি বৃদ্ধি এবং বাতাসের অক্সিজেনের ঝুঁকি বিবেচনা করে আমরা যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

‘আমরা এখন প্রতিকূল সময় এবং প্রত্যাশার সঙ্গে লড়াই করছি।’ এদিকে গুহার ভেতর থেকে কিশোরদের হাতে লেখা চিঠি শনিবার প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে কিশোররা তাদের পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছে, তারা ভালো আছে।

ওসোত্তানাকর্ন বলেন, আজও শিশুরা সুস্থ আছে। তারা কথা বলছে, মজা করছে। তবে তাদের সামান্য কিছু জখম রয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত সঠিক খাবার পায়নি; তবে তাদের অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত বিশেষ খাবার দেয়া হয়েছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।

Comments

comments

Posted ৪:৩৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৭ জুলাই ২০১৮

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com