• শিরোনাম

    করোনার থাবা-পর্যটক ছুটিতে কক্সবাজার

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ মার্চ ২০২০ | ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

    করোনার থাবা-পর্যটক ছুটিতে কক্সবাজার

    করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কক্সবাজারে সকল প্রকার জনসমাগম ও পর্যটক আগমনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। একই সাথে সমুদ্র সৈকত কোন পর্যটক না নামার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ ইতেমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা কক্সবাজারের হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে যেসব পর্যটক ইতিমধ্যে হোটেলে অবস্থান করছেন তাদেরও ফেরত যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
    কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানিয়েছেন, কক্সবাজারে দেশি বিদেশি অনেক পর্যটক আসে। এর ফলে কক্সবাজার করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছো। তাই করোনা ঝুঁকি এড়াতে কক্সবাজারে পর্যটকদের না আসার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। একই সাথে সমুদ্র সৈকতে জনসমাগম রোধে পর্যটকদের না নামতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সৈকতের বীচ কর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সমুদ্র সৈকত থেকে পর্যটকদের সরিয়ে নিচ্ছে।‍

    কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এ এসপি ফকরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সমুদ্র সৈকত থেকে পর্যটকদের বুঝিয়ে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহনের পর থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নামতে দেয়া হবেনা
    বুধবার (১৮ই মার্চ) বিকাল ৪ টার দিকে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পর থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। বিকেল চারটা থেকে সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে মাইকিং এর মাধ্যমে পর্যটকদের সরে যেতে বলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান।
    অপরদিকে, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, কক্সবাজার জেলায় কোথাও এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়া যায়নি। তবে ৩ জন বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তিনি করোনা ভাইরাস নিয়ে কক্সবাজার জেলাবাসিকে বিভ্রান্ত এবং আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বলেছেন, সর্তক থাকতে হবে।

    হোটলে-মোটেলসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে জনসমাবেশ, বিনোদন অনুষ্ঠান পরিবেশন সহ সবধরনের জনাসমাগমের আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।
    করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ শেষে তিনি এ কথা বলেন। বুধবার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা, কলাতলীর ডলফিন মোড় ছোট-বড় যানবাহনসহ বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণে নেতৃত্ব দেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মাসুদুর রহমান মোল্লা।
    এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ আমিন আল পারভেজ, জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটবৃন্দসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে করোনা ভাইরাস থেকে দেশীয় পর্যটনের রাজধানী কক্সবাজারকে বাঁচাতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন যে উদ্যোগ নিয়েছেন-এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল। প্রশাসনের এ উদ্যোগে ভূঁয়সী প্রশংসা করে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন- কক্সবাজারে পর্যটন আগমনে নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী হয়েছে। কক্সবাজারের মানুষ কিছুটা হলেও টেনশন মুক্ত হয়েছে। আবাসিক হোটেল মালিক ফরিদুল আলম জানান- পর্যটন ব্যবসার ক্ষতি হবে ঠিক আছে, কিন্তু সবার আগে মানুষের জীবন। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত সবাইকে মানতে হবে।
    এদিকে গতকাল রাতেই করোনা আতংকে স্কুল কলেজ বন্ধের পর কক্সবাজারে স্ব-পরিবারে বেড়াতে আসা শতশত পর্যটককে কক্সবাজার ছাড়তে দেখা যায়। দুই/তিন দিনের হোটেল বুকিং দিলেও তারা কক্সবাজার প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে বুকিং বাতিল করেই কক্সবাজার ছেড়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় কক্সবাজার লাবণী পয়েন্ট থেকে ব্যস্ততম কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত সাগর সৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।

    অন্যদিকে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ফিরিয়ে দিতে গতকাল সন্ধ্যায় চকরিয়ার সীমান্তবর্তি ইনানী রিসোর্ট এলাকায় কক্সবাজার পুলিশ চেক পোস্ট বসানো হয়েছে।

    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ