• শিরোনাম

    ২০১৯-২০২০ অর্থবছর

    করোনার প্রভাবেও টেকনাফ স্থলবন্দরে রাজস্ব আয় বেড়েছে

    জাকারিয়া আলফাজ,টেকনাফ : | ১১ জুলাই ২০২০ | ১১:১৫ অপরাহ্ণ

    করোনার প্রভাবেও টেকনাফ স্থলবন্দরে রাজস্ব আয় বেড়েছে

    কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেড়েছে। গেল অর্থবছরে স্থলবন্দর রাজস্ব বিভাগকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ১৫০ কোটি ৯ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৬১ কোটি ১০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থবছরের শেষ দিকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় কিছুটা কম হলেও পুরো অর্থবছরে মোট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ কোটি ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় সম্ভব হয়েছে।
    টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশন রাজস্ব কর্মকর্তা আবছার উদ্দীন আজকের দেশবিদেশকে বলেন, রাজস্ব আদায়ে স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশন প্রতি অর্থবছরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের শেষ দিকে বিশেষ করে ২০২০ সালের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আয় কম হয়েছে। তবে জুনমাসে তা আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপরও এ শুল্ক স্টেশন ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ে সক্ষম হয়েছে।
    টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রথম ছয়মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ৮২ কোটি ৬২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তন্মধ্যে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ১৪ কোটি ৭০ লাখ ১২ হাজার টাকা, আগস্টে ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার টাকা, সেপ্টেম্বরে ১০ কোটি ৯৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা, অক্টোবরে ১০ কোটি ৮২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, নভেম্বরে ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ৬ হাজার টাকা, ডিসেম্বরে ২০ কোটি ৯৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়।
    অর্থবছরেরর পরবর্তী ছয়মাসে টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক বিভাগে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭৮ কোটি ৪৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। তন্মধ্যে ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসে ২০ কোটি ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, ফেব্রæয়ারীতে ১৯ কোটি ৪২ লাখ ৮ হাজার টাকা, মার্চে ১৩ কোটি ৩৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা, এপ্রিলে ২ কোটি ৬৯ লাখ ৭ হাজার টাকা, মে মাসে ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং জুন মাসে ১৬ কোটি ৯৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়।
    স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী এমএইচ গ্রæপের পরিচালক মোহাম্মদ হাসেম (মেম্বার) আজকের দেশবিদেশকে বলেন, গত অর্থবছরে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পন্য আমদানি রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল। যার ফলে করোনার প্রভাব স্বত্বেও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে রাজস্ব আয় বেশি হয়েছে। তবে চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের শুরুতে মিয়ানমারের আকিয়াবে করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে। একারণে আপাতত মিয়ানমার থেকে পন্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। আশা করি, পরিস্থিতি আগের মতো স্বাভাবিক হবে।
    টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেড’র ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দীন চৌধুরী আজকের দেশবিদেশকে বলেন, আমদানি রপ্তানিকারকদের সুবিধার্তে স্থলবন্দরের সুযোগ সুবিধা আগের তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। বন্দরে ব্যবসায়ীদের বৈধ সব ধরনের সুবিধা দেয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, যার কারণে ব্যবসায়ীরা এ বন্দরে পন্য খালাসে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করেন।
    প্রসঙ্গত, টেকনাফ সীমান্তে চোরাচালান রোধে ১৯৯৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নাফনদের তীরে কেরুনতলী নামক এলাকায় স্থাপন করা হয়েছিল টেকনাফ স্থল বন্দর। এ বন্দরে বিপরীতে রয়েছে মিয়ানমারের মংডু স্থলবন্দর। বন্দর স্থাপনের পর থেকে টেকনাফ ও মিয়ানমারের মংডুর সঙ্গে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়। মিয়ানমারের মংডু ও আকিয়াব থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে বিভিন্ন পন্য আমদানি হয়ে থাকে। বিশেষ করে কাঠ, হিমায়িত মাছ, পেঁয়াজ, চাল, শুটকি ও আচার মিয়ানমার থেকে এ বন্দর দিয়ে আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, প্লাস্টিক সামগ্রী, ঔষুধ ও সিরামিক সহ প্রায় ৫০ টির অধিক পন্য মিয়ানমারে রপ্তানি হয় প্রতিবছর।

    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ