• শিরোনাম

    একদিনেই পতিতা কারবারে ভাটা

    কাজী রাসেলের আটকে উল্লসিত মানুষ : তবে কাটেনি আতঙ্ক

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

    কাজী রাসেলের আটকে উল্লসিত মানুষ : তবে কাটেনি আতঙ্ক

    শহরের হোটেল মোটেল জোনের মূর্তিমান আতঙ্ক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাজী রাসেল এখন কারাগারে। তার আটকের বিষয়টি গতকাল ২৫ ফেব্রæয়ারি সারাদিন শহরের গুরুত্বপূর্ণ হোটেল মোটেল জোনের আলোচনার প্রধান বিষয় ছিলো। কাজী রাসেলের আটকে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা উল্লসিত। তবে, তাঁদের মধ্যে রয়ে গেছে আতঙ্কের ছাপ।
    কাজী রাসেলের আটকের পরপরই সৈকত পাড়ার আলোচিত কটেজগুলোতে পতিতা কারবার প্রায় বন্ধ। ফলে এলাকাটিতে আগের মতো পতিতা এবং খদ্দেরদের আনাগোনাও নেই। কাজী রাসেলের অপরাধ কর্মকাÐের সঙ্গী শাহীন, এরশাদ, আতাউল্লাহ্, মাসুদ, দেলোয়ার, রুবেল এবং বর্মাইয়্যা জমিরও গা ঢাকা দিয়েছে। গতকাল কেউ তাদের সৈকত এলাকায় দেখেননি।
    গতকাল ২৫ ফেব্রæয়ারি সরেজমিন অনুসন্ধানকালে এই চিত্র দেখা যায়। যে বাগানবাড়ী থেকে কাজী রাসেলকে আটক করে পুলিশ। সেটিও এক বছর আগে জোর করে দখল করা। পাহাড়ের কোল ঘেষে দখল করা জায়গাটি সৈকত পাড়ার একদম দক্ষিণে। ফলে এলাকার বাসিন্দা ছাড়া সেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াত প্রায় নেই। সেখানেই জায়গা দখল করে একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে সৈকত পাড়ার অঘোষিত কিং কাজী রাসেল। এরপর থেকে সেই ঘরটি কাজী রাসেলের অপরাধমূলক কর্মকাÐের স্থান হিসেবে পরিচিতি পায়।
    পুলিশের হাতে আটকের এক মাস আগে থেকেই ঘরটিতে নিয়মিত বসতো জলসার আসর। মাদক আর পতিতা ছিলো জলসার প্রধান আকর্ষণ। আটককৃত নারী মীমও এক মাস যাবত রাসেলের সঙ্গীনি হিসেবে সেই ঘরে নিয়মিত রাত কাটাতো। আর ঘরটি পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় লায়লা প্রকাশ লালুনি নামে এক নারী।
    পতিতা ভাড়া দেয়া রাসেলের আয়ের অন্যতম উৎস। তবে, পতিতা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ইয়াবা বিক্রি করেও সে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করে। সৈকত এলাকায় তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় অর্ধশত কটেজ। যে কটেজগুলোতে সে পতিতাবৃত্তি এবং ইয়াবা কারবার চালায়। ভরা মৌসুমে শুধু একটি কটেজ থেকেই তার দৈনিক আয় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি সৈকতের প্লট এবং ফ্ল্যাট দখল থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ আসে তার ভাÐারে। উল্লিখিত আয় ছাড়াও দেশের গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে হোটেল-মোটেলে চাঁদাবাজিও তার আয়ের একটি উৎস। আটকের আগে গত ২২ জানুয়ারি সৈকত এলাকার কটেজগুলোতে একটি খবর পাঠায় কাজী রাসেল। ২৯ জানুয়ারি একটি অনুষ্ঠানের নামে প্রত্যেক কটেজকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতেই ছিলো সেই খবর।
    সাধারণ মানুষ, হোটেল, গেস্ট হাউজ এবং কটেজ ব্যবসায়ীদের কাছে কাজী রাসেল একটি আতঙ্কের নাম। এই অপরাধীরও রয়েছে একদল ভক্ত। সৈকত পাড়ার উঠতি বয়সের বিপথগামী যুবকরা তাকে খুব সমীহ করে চলে। কিছু চাওয়ার আগেই রাসেল তাদের মনোভাব বুঝতে পারে। দুই হাত মেলে টাকা দিতে কার্পণ্য করে না। ফলে কাজী রাসেল তাদের খুব পছন্দের। গতকাল সৈকত এলাকায় গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেলো।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ