রবিবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

উখিয়া ফোর মার্ডার

কাঠুরিয়া ও প্রতিবেশী রাসেলের দিকে সন্দেহ ঘনীভূত

শফিক আজাদ, উখিয়া   |   সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাঠুরিয়া ও প্রতিবেশী রাসেলের দিকে সন্দেহ ঘনীভূত

উখিয়া উপজেলার রতœাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রতœাপালং বড়ুয়াপাড়ার চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডারের প্রকৃত হত্যাকারী কে বা কারা তা দ্রুততম সময়ে নির্ধারন করা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটু কঠিন হয়ে পড়েছে। তদন্তে নিয়োজিত আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী আপতত সন্দেহজনকভাবে দু’টি সুনির্দিষ্ট ক্লু নিয়ে এগোচ্ছে। বিশ্বস্ত একটি এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নির্ভরযোগ্য এই সুত্র মতে, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ক্লু ২টির অন্যতম একটি হলো-কুয়েত থেকে আসা স্বজনহারা রোকন বড়ুয়ার মা সুখী বালা বড়ুয়া ৬ হাজার টাকা দিয়ে একটি গাছ এবং রোকন বড়ুয়ার বড় ভাই শিবু বড়ুয়া সাড়ে ৭ হাজার টাকা সহ মোট সাড়ে তের হাজার টাকা দিয়ে ২টি গাছ বিক্রি করেছিলেন। গাছ ২ টি ক্রয় করেছিলেন উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং এর ক্লাসো পাড়ার বাসিন্দা পাইকারি কাঠ ব্যবসায়ী আবদুশ শুক্কুর। ৯/১০ দিন আগে গাছ ২টি ক্রয়কারী আবদুশ শুক্কুর পেশাদার ৫ জন কাঠুরিয়াকে দিয়ে ৫/৬ দিন আগে গাছ ২ টি কেটে নিয়ে যায়। গাছ কাটার সময় ২৪ সেপ্টেম্বর কাটুরিয়াদের রোকন বড়ুয়ার বাড়ির বারান্দায় এনে চা নাস্তা দেন নিহত সুখী বালা বড়ুয়া। কাটুরিয়াদের চা নাস্তা দেওয়া নিয়ে শ্বাশুড়ি সুখী বালা বড়ুয়ার সাথে পুত্রবধু মিলা বড়ুয়ার বেশ তর্ক হয়। কারণ মিলা বড়ুয়া রক্ষণশীল হওয়ায় অপরিচিত কাঠুরিয়াদের বাড়িতে এনে আপ্যায়ন করার বিষয়টিকে মিলা বড়ুয়া সহজভাবে নিতে পারেননি। শ্বাশুড়ি আর পুত্রবধূর এই তর্কাতর্কি কাঠুরিয়ারা প্রত্যক্ষ করেছে। শুক্রবার এই ৫ জন কাঠুরিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উখিয়া থানায় আনা হয়। তাদের মধ্যে ৩ জন কাঠুরিয়াকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকী ২ জনকে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় উখিয়া থানায় রেখে দেওয়া হয়েছে। এদের একজন হত্যাকান্ডের আগেরদিন নিহত মিলা বড়ুয়ার সাথে অল্পক্ষণ মোবাইল ফোনে কথাও বলেছে। তাদের একজনের বাড়ি উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাই›ন্যাইসা গ্রামে, অপরজনের বাড়ি রাজাপালং ইউনিয়নের পিনজিরকুল গ্রামে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক থাকা কাঠুরিয়া ২ জনের দেয়া তথ্যকে একটি ক্লু হিসাবে ধরে নিয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী আপতত এগোচ্ছে।

হত্যাকান্ডের দ্বিতীয় ক্লু হলো-রোকন বড়ুয়া ভিটের সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল নিকটতম প্রতিবেশী রাসেল বড়ুয়ার পরিবারের সাথে। ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী এলাকাবাসীদের বর্ননামতে, বৃহস্পতিবার ২৬ সেপ্টেম্বর উক্ত সীমানা বিরোধ থাকা রাসেল বড়ুয়াকে ডেকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়িতে তোলা হয়। একইদিন রাত্রে কক্সবাজার জেলা পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকতা রাসেল বড়ুয়ার বাড়িতে গিয়ে তার মাতা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল বড়ুয়ার পরিবারের সদস্যরা উক্ত পুলিশ কর্মকর্তার জবাব সঠিকভাবে দিতে পারেননি। এলোমেলোভাবে তারা কথা বলেন। বিষয়টা উক্ত পুলিশ কর্মকর্তার সাথে নিয়ে যাওয়া রতœাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ডা. মোক্তার আহমদ ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের মেম্বার আ›জুমান ইয়াসমিন জানিয়েছেন। তবে রাসেল বড়ুয়া গত বৃহস্পতিবার ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে নিখোঁজ রয়েছে। রাসেল বড়ুয়া কোথায় অথবা কাদের হেফাজতে আছেন তা জানতে চাইলে, কক্সবাজার আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন বিভাগই রাসেল বড়ুয়ার সন্ধান জানেনা বলে জানান। তবে সুত্রমতে, এই ক্লু টিও হত্যাকান্ডের মোটিভ উদঘাটনে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এদিকে, ঘটনার দিন রাত্রে রোকন বড়ুয়ার বাসায় একজন মেহমান আসার কথা ছিলো। সেজন্য রোকন বড়ুয়ার স্ত্রী মিলা বড়ুয়া কোটবাজার থেকে নিজে মাছ তরকারি সহ প্রয়োজনীয় বাজার করে আনলেও মেহমান না আসায় সেই মাছ তরকারি আর রান্না করা হয়নি। তবে সে মেহমানটা কে তাও তদন্তে স্থান পাচ্ছে। তাছাড়া, ঘটনার দিন রাতে রোকন বড়ুয়ার নিহত শিশু সন্তান রবিন বড়ুয়াকে বাড়িতে নিয়মিত পড়াতে আসা গৃহশিক্ষকও সেদিন রাত্রে রবিন বড়ুয়াকে পড়িয়ে রাত ৯ টার আগেই চলে যান।

রোকন বড়ুয়া কুয়েত থেকে এসে ধারণামূলকভাবে বলেন, “আমার সাথে আমার স্ত্রী মিলা বড়ুয়ার বুধবার ২৫ সেপ্টেম্বর শেষ বিকেলে মোবাইলে কথা হয়েছে। সে কোর্টবাজারে শপিং এ ব্যস্ত আছে বলায়, আমি তার সাথে বেশীক্ষন কথা বলিনি। মোবাইলে কোন ধরনের শংকার কথা আমার স্ত্রী আমাকে তখনো বলেনি। আমার মনে হচ্ছে, ঘাতক একজন পরিচিত লোক। ঘটনার রাতে হয়ত পরিচিত কোন লোক আগে থেকে বিকেলে সুকৌশলে বাড়িতে ঢুকে কোথাও লুকিয়ে ছিলো। সেদিন রাত্রে প্রথমদিকে বিদ্যুৎ ছিলোনা। আমার মা ও স্ত্রী কোনদিন বাড়ির প্রতিটি কোনা, দরজা, জানালা চেক না করে ঘুমাতো না। হত্যাকান্ডের রাতেও আমার মা সুখী বালা বড়ুয়া টর্চ নিয়ে প্রতিদিনের মতো বিভিন্ন রুমে গেলে, হয়ত লুকিয়ে থাকা লোকটিকে আমার মা চিনে ফেলে। তখন আমার মা’কে হয়ত লুকিয়ে থাকা ঐ লোক হত্যা করার চেষ্টা করার সময় আমার মা’র শোর চিৎকারে আমার সহধর্মিণী মিলা বড়ুয়া চলে আসে। তখন তাকেও চিনে ফেললে পর পর সবাইকে ঐ ঘাতক হত্যা করতে পারে। আর আমার মা’র লাশ যে রুমে পাওয়া গেছে, সে রুমে আমার মা কখনো থাকেনি।” এমনটি ধারনা করেছেন-স্বজনহারা রোকন বড়ুয়া।

এদিকে সিআইডি ক্রাইম সিন টিম, পিবিআই এর চট্টগ্রাম থেকে আসা ফরেনসিক এক্সপার্ট টিম সহ অন্যান্য সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে ঘাতকের যে পায়ের চাপগুলো ও আলামত সমুহ পেয়েছে তা সবই একজনের বলে সুনিশ্চিত হয়েছে। পায়ের চাপ পরীক্ষায় বুঝা গেছে, ঘাতক একজন এবং বয়স্ক ও পরিশ্রমী লোক। কারণ পায়ের চাপ গুলো বেশ বড় ও পায়ের তলাতে চাট রয়েছে।

রোকন বড়ুয়া বাড়িতে আসার পর চাবি নিয়ে তার স্ত্রীর আলমিরার লকার খুলে দেখতে পান, ৮৬ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট চেক ও ১০ ভরি স্বর্ণ সেখানে রয়ে গেছে। ঘাতক সেগুলোতে কোন হাত দেয়নি বা আলমিরার তালা ভাঙ্গার চেষ্টাও করেনি। ৮৫ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ও ১০ ভরি স্বর্ণের কথা রোকন বড়ুয়া আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতিমধ্যে অবহিত করেছে বলে জানিয়েছেন।

হত্যাকান্ডের বিষয়ে তদারকি করতে কক্সবাজারে আসা চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ফয়েজ বলেন, হত্যাকান্ডের বিষয়ে আমাদের হাতে অনেক ক্লু রয়েছে। গোপনীয়তার স্বাথে বলা যাচ্ছে। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘাতককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের কাছে কোন তথ্য উপাত্ত থাকলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন।

Comments

comments

Posted ১:২৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com