শুক্রবার ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

কক্সবাজারে ২৯৬ টি মন্ডপ প্রস্তুত

কাল ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গা পূজা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯

কাল ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গা পূজা শুরু

শহরের ঘোনারপাড়া কৃষ্ণানন্দ মন্দিরের মন্ডপে ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিমা চলন্ত দুর্গার হাতে অসুধর বধ।

সনাতন সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা আগামি ৪ অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠীতে অধিবাস পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে। ৮ অক্টোবর বিজয়া দশমী প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। সারাদেশে দুর্গাপূজা আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। একইভাবে কক্সবাজারেও চলছে পুরোদমে প্রস্তুতি শেষ করেছে। এবার কক্সবাজার জেলায় ২৯৬ টি মন্ডপে পূজা হবে।
কাল ৪ অক্টোবর শ্রী শ্রী দুর্গা ষষ্ঠী। পূর্বাহ্ন ৯/৫৮ মধ্যে শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গাদেবির ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ এবং ষষ্ঠী বিহিত পূজা প্রশস্তা। সায়াংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস।
জেলায় দুর্গা পূজার প্রস্তুতিতে শেষ সময়ে প্রতিমা কারিগর ব্যস্ত হয়ে পড়েছে রং তুলির শেষ আঁচড় দিতে। মন্ডপ কমিটির কর্মকর্তারা মন্ডপ সাঁজাতে তারা প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ডপ সাঁজাতে স্বনামধন্য কারু ও চিত্র শিল্পীরা কাজ শেষ করবেন আজ ৩ অক্টোবর।
গত দুই মাস আগে থেকে তারা প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। অনেক কারিগর মন্ডপে মন্ডপে গিয়ে প্রতিমা তৈরি করেন। আবার অনেকে নিজেদের জায়গায় প্রতিমা তৈরি করে মন্ডপে পাঠিয়ে দেন। কক্সবাজারে প্রতিমা তৈরির বড় কারিগর হচ্ছে শহরের সরস্বতি বাড়ির নেপাল ভট্টাচার্য্য, রয়েছেন তার ছেলে বাবুল ভট্টাচার্য্য ও মিল্টন ভট্টাচার্য্য।
এর মধে জেলা প্রশাসন,জেলা পুলিশ বিভাগ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ পৃথক পৃথক প্রস্তুতি সভা করেছে। সভায় উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গতবারের ন্যায় এবারো রোহিঙ্গা হিন্দু শরনার্থী ক্যাম্পে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ক্যাম্পে দুর্গাপূজা আয়োজনে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জেলার মধ্যে কক্সবাজার শহরের যে ১১ টি পূজা মন্ডপ তা অতি আকর্ষনীয়ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। সবার নজর থাকে শহরের এই ১১ টি পূজা মন্ডপের প্রতি।
এবার কক্সবাজার পৌরসভার ঘোনাপাড়া ‘কৃঞ্চানন্দধাম মন্দির’র দিকেই সবার দৃষ্টি।কারণ-সেখানে স্থাপিত হয়েছে চলন্ত দুর্গাপ্রতিমা। বৈদ্যুতিক যন্ত্রে দুর্গাপ্রতিমাটি ঘুরে ঘুরে বধ করবে অসূরকে।
অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তি প্রতিষ্টায় মর্ত্যে আসবেন দেবী দুর্গা। আগামী ৪ অক্টোবর ষষ্ঠীতে অধিবাস পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজা। ওইদিন ভোর থেকে চলন্ত দুর্গা প্রতিমা উন্মুক্ত করা হবে সবার জন্য।
দেখা গেছে-পাতালপুরের সুরঙ্গ আকৃতিতে তৈরি হয়েছে প্রতিমা মঞ্চটি। সুরঙ্গে দুইপাশে সাদা রংয়ের কাল্পনিক ফুল। উপরে লতাপাতার আস্তর। সুরঙ্গে নামকরণ হয়েছে-নাগলোক-সর্পরাজ্য।
সুরঙ্গে উত্তর দিকে পানির ফোয়ারায় স্থাপন করা হয় দুটি দুর্গা প্রতিমা।বৈদ্যুতিক যন্ত্রে প্রতিমা দুটি ঘুরছে। দুর্গার বাম পাশে ( পশ্চিমে) অসূর, কার্তিক ও স্বরসতি। ডান পাশে গণেশ-লক্ষী। সামনে দাঁড়ানো পাঁচটি সর্পকন্যা। সর্পকন্যাগুলো সবুজ ও সোনালী রঙে সাজানো।দুর্গা প্রতিমাতেও সোনালী রংয়ের প্রলেপ।
প্রতিমার সামনে দাঁড়ানো মৃত শিল্পি কার্তিক পাল (৪০)। তিনি এসেছেন সুদুর ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকা থেকে। তিনি বলেন, ১৪টি প্রতিমা তৈরিতে তিনিসহ তিনজনের সময় লেগেছে ১৫দিন। গতকাল প্রতিমায় রঙের শেষ তুলির আঁচর দেন তাঁরা।
আর পাতালপুরী সুরঙ্গ তৈরি করেন চট্টগ্রামের শিল্পময় আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন-এর পরিচালক বিশ্বজিত আইস। তিনি বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের মধ্যে এই কৃঞ্চানন্দধাম মন্দিরেই দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা তৈরি হয়। গত বছর এ মন্দিরে রাজবাড়ির আদলে এবং তার আগের বছর পরিবেশ সচেতনতায় সমুদ্র তলের প্রাণীদের অ্যাকুরিয়াম তৈরি হয় প্রতিমা স্থাপনের জন্য।
নাগলোক সর্পরাজ্যের আদলে প্রতিমা মঞ্চ নির্মানের বিপরীতে খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। এর আগের বছরগুলোতে খরচ হয়েছিল পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা। বললেন-ঘোনারপাড়া দূর্গাপুজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি স্বপন পাল।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত পালের ভাষ্য-দুর্গা প্রতিমা ঘুরেঘুরে বধ করছেন অসূরকে-দৃশ্যটা ভক্তদের কাছে অন্যরকম অনুভুতির সৃষ্টি করছে। একারণে পুজার সময় ভক্তকুলের উপস্থিতি অনেকে বেড়ে যাবে। নিরাপত্তা ও শান্তিশৃংখলার জন্য ইতিমধ্যে আইনশৃংখলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এবার জেলার ২৯৬ টি মন্ডপে দুর্গাপুজা হচ্ছে। এরমধ্যে চলন্ত দুর্গা প্রতিমাটি ব্যতিক্রম দাবী করলেন জেলা পুজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি রনজিত দাশ।
ভক্তরা বলছেন, এবার মা দুর্গা আসছেন ঘোড়ার পিঠে চড়ে। যাবেনও ঘোড়ায়। একারণে ঝড় ঝাপটার আশঙ্কা আছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে যেন মানুষ রক্ষা পায়-সে প্রার্থনা থাকবে দুর্গামায়ের প্রতি।

Comments

comments

Posted ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com